বর্ষার স্মৃতিচারণ

আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০১৮, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

তিয়াসা ঠাকুর


আষাঢ় মাস শেষ হয়ে এসেছিল। শ্রাবণ এসেছিল। সাথে নেমেছিল ব্যাপক ধারা। এই বছরের ঋতু পরিবর্তনে বৈচিত্র্য ছিল বেশ। বৈশাখ থেকেই ছিল বিপুল বৃষ্টি। আগাম বর্ষায় শস্যের ও জনপদের ক্ষতি হয়েছিল বহুস্থানে। বজ্রপাতে মৃত্যুর মিছিল ভাবিত করেছিল আমাদের। প্রকৃতি যেন রুদ্রমূতি ধারণ করেছিল।
শহুরে জীবনে এবার এখনো কদম ফুল দেখিনি। পার্কে গেলেই নজরে পড়ত। কিন্তু সেখানে খুব একটা যাওয়া পড়ে না। আষাঢ় এলেই পত্রিকার পাতায়, জধফরড় তে বর্ণনা পাওয়া যেত কদম ফুলের। আষাঢ়স্য প্রথম দিবস লিখেই সুন্দর ফুটন্ত একটি কদমফুলের ছবি ছাপা হতো পত্রিকার পাতায়। পূর্বে বর্ষাকালে ছেলেদের ছোটবেলায় মাথার চুল খুব ছোট করে কেটে দেওয়া হতো। বলা হত : কদম ছাঁট। এখন সারাবিশ্বে “কদম ছাঁট” এর ঈৎধুব এসেছে। চাইনীজ মেয়েদের মধ্যেও কদম ছাঁটের প্রভাব লক্ষ্যনীয়।
আষাঢ় মাসে জধফরড় তে যেসব রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনা যায়। তার মধ্যে ছিল : ১. বজ্রমানিক দিয়ে গাঁথা, আষাঢ় তোমার মালা… ২. উতল ধারা বাদল ঝরে, সকাল বেলা একা ঘরে…৩. আজি বর্ষা রাতের শেষে…
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বর্ষার উপর লেখা গানের সংখ্যা বেশি। পদ্মাবোটে তিনি পানির উপরই থাকতেন। তাছাড়া পূর্ববঙ্গের শিলাইদহ, শাহাজাদপুর, পতিসরে তাকে তো বোটেই আসতে হতো। ট্রেনেও আসতে পারতেন। কিন্তু পদ্মাবোট ছিল তাঁর প্রিয় বাহন। বর্ষাকালে “শ্রাবণ” কে উদ্দেশ্য করে অনেক গান রচিত হয়েছে। সেগুলো শুনতে অবশ্য বেশ লাগে। তবে “শ্রাবণের” উপর লেখা এ গানটি আমার হৃদয় ছঁয়ে যায় : শ্রাবণের ধারার মতো পড়–ক ঝরে, পড়–ক ঝরে তোমাবি সুরটি আমার মুখের পরে, বুকের পরে…. যে শাখায় ফুল ফোটে না, ফল ধরে না একেবারে তোমার ওই বাদল বায়ে দিক জাগায়ে সেই শাখারে যা কিছু জীর্ণ আমার, দীর্ণ আমার, জীবনহারা তাহারি স্তরে স্তর পড়–ক ঝরে সুরের ধারা।
নিচের কবিতায় শ্রাবণকে অনেক প্রশ্ন করা হচ্ছে। মেঘ তার সঙ্গী। শ্রাবণ, তুমি বাতাসে কার আভাস পেলে- পথে তারি সকল বারি দিলে ঢেলে কেয়া কাঁদে, ‘যায় যায় যায়।’ কদম ঝরে,‘হায় হায় হায়’ পুব হাওয়া কয়,‘ওর তো সময় নেই আর।’ শরৎ বলে, ‘যাক না সময়, ভয় কিবা তার-, কাটবে বেলা আকাশ মাঝে বিনা কাজে অসময়ের খেলা খেলে; কালো মেঘের আরকি আছে দিন, ও যে হল সাথিহীন। পুব হাওয়া কয়, ‘কালোর এবার যাওয়াই ভালো।’ শরৎ বলে, মিলিয়ে দিব কালোয় আলো- সাজবে বাদল আকাশ-মাঝে সোনার সাজে, কালিমা ওর মুছে ফেলে।
বেশ ক’দিন ধরে ভারী বৃষ্টি হয়েছিল আমাদের এলাকায়। আমি প্রতিদিন খোঁজ নিতাম বাদল ধারা। আমার নজরে ভেসে উঠত পুকুরে বৃষ্টি পতনের দৃশ্য-বড় পুকুর, শেওলা নেই, কচুরিপানা নেই। সমান পানির স্তর। জলের ফোঁটা পড়লে অদ্ভুত দৃশ্য সৃষ্টি হয়। সেসময় গ্রামে ১৫ দিন একটানা থাকতে পারলে ভালো লাগত। কিন্তু ছাত্রজীবনে এতো স্বাধীনতা কোথায়?