বসবাসের অযোগ্য ঢাকা শহর কেন্দ্রিভুত ব্যবস্থার অবসান চাই

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৯, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বের ১৪০টি দেশের সংস্কৃতি, জলবায়ু, পরিবেশ, শিক্ষা, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও জীবনযাপনের মানের ওপর ভিত্তি করে ৪ সেপ্টেম্বর ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বৈশ্বিক বাসযোগ্য শহরের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এবার বিশ্বে বসবাসের সবচেয়ে অযোগ্য শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান নিচের দিক থেকে তিন নম্বর, অর্থাৎ ১৩৮ তম। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় সর্বনি¤েœ থাকা ১০ দেশের মধ্যে ঢাকার পরে রয়েছে মাত্র দুটি শহর; একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ার দামেস্ক, অপরটি নাইজেরিয়ার লাগোস। পাকিস্তানের করাচি শহরও ঢাকার চেয়ে এগিয়ে আছে। এই তালিকায় বাসযোগ্য শহরের তালিকায় প্রথমে আছে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা। এর পরেই রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন, সিডনি, জাপানের ওসাকা, কানাডার ক্যালগারি, ভাঙ্কুবার, টরেন্টো।
এ বছর শহরগুলোর বসবাসের যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে যেসব বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলো হলা- স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো।
এই পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রাজধানী ঢাকা দুটি বিষয়ে বেশ পিছিয়ে রয়েছে। তার মধ্যে একটি সংস্কৃতি ও পরিবেশ এবং অন্যটি অবকাঠামো। এই দুটি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে যা যা রয়েছে তা হলো- জলবায়ু ও তাপমাত্রা, দুর্নীতির মাত্রা, সামাজিক বা ধর্মীয় প্রতিবন্ধকতা, খেলাধুলার সুযোগ, খাদ্য ও পানীয় দ্রব্য, ভোগ্যপণ্য ও সেবা, সড়ক-পরিবহন ব্যবস্থা, গৃহায়ন, জ্বালানি, পানি এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা।
ঢাকা শহরে বসবাসের সবচেয়ে খারাপ দিকটি হচ্ছে যানজট। সময় ও অর্থ-অপচয় দুটিইÑ সেই সাথে হয়রানি আর চলাচলের ঝুঁকি। বাসের মধ্যে কোনো শৃঙ্খলা নেই, ভাড়া নিয়ে কোনো শৃঙ্খলা নাই, যাত্রী তোলা নিয়ে অসুস্থ্য প্রতিযোগিতা থাকে চালকদের মধ্যে। এছাড়া দক্ষ চালকও নেই। ঢাকাকে তার সম্ভাবনার দিক থেকে বিবেচনা করলে বাসযোগ্যতার দিক থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তথ্যমতে অনানুষ্ঠানিক চাঁদাবাজি এবং একটি অর্থনৈতিক কোটারিগোষ্ঠী পুরো পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ভেস্তে দিচ্ছে।
ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। তবে এটাও ঠিক যে, ঢাকা শহর ক্রমশই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে। ঢাকা খুবই ব্যস্ততম ও ঘিঞ্জি শহর। এটাকে ঘিঞ্জি করে তোলা হয়েছে। কেন্দ্রিভুত প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ঢাকাকে আরো ঘিঞ্জি করে তুলেছে। সেই সঙ্গে নাগরিকদের সরকারি সেবা প্রাপ্তিতে ভীষণ জটিলতার সৃষ্টি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতা বিকেন্দ্রিকরণের দাবি চলে আসছে কিন্তু সেটা কখনোই গ্রাহ্যতা পায় নি। বিকেন্দ্রিকরণের প্রয়োজনটা ঈদে ঘরমুখি মানুষের চাপ লক্ষ্য করলেই বুঝা যায়। মানুষের কি নিদারুণ ভোগান্তি- যা বর্ণনাতীত। অথচ এই পরিস্থিতি কোনো ইসলামী দেশেও আছে বলে মনে হয় না। ঢাকাকে সুস্থ হয়ে ওঠার জন্যই বিকেন্দ্রিকরণ দরকার। এর জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা চাইÑ এটা না হলে ঢাকা জীবনের জন্যই বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ