বাংলাদেশকে তার ‘কক্ষপথে ফেরাতে হবে’ আশা জাগানিয়া সূচনা

আপডেট: জুলাই ৯, ২০১৮, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ যে লক্ষ্য নিয়ে স্বাধীন হয়েছে, সেখান থেকে কক্ষচ্যুত হয়েছে। কক্ষচ্যুত বলছি এজন্য যে, সাম্য, মানবিক মর্যাদায় আর সামাজিক ন্যায়বিচার কি আছে? সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম আছে, বঙ্গবন্ধুতো রাষ্ট্রধর্মের কথা বলেননি…
‘আজকে রাষ্ট্রধর্ম আছে, আবার ধর্মনিরপেক্ষতাও আছে। তেলে আর জলে কখনো মেলে না।’
‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠন ঢাকায় আত্মপ্রকাশ করেছে। শনিবার জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন এ উক্তি করেছেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার মাধ্যমে বাংলাদেশকে তার আজন্ম লক্ষ্য ধর্মনিরপেক্ষতা টিকিয়ে রাখার আহ্বান এসেছে ওই আলোচনা সভা থেকে।
সমাজ ও রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহ এমন এক বাঁকে এসে দাঁড়িয়েছে- যখন নির্মোহভাবে ওই ঘটনা প্রবাহ পর্যালোচনা ও ব্যাখ্যার প্রয়োজনীতা অপরিহার্য। দিকভ্রান্ত রাজনীতিতে- নেতৃত্বকে তার সঠিক গন্তব্য-পথ নির্দেশ করা সমাজের বিবেকবান মানুষের আশু কর্তব্য হয়ে হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই কর্তব্যবোধের আহ্বানই ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ জন্ম-যন্ত্রণার মধ্যেই উচ্চারিত হলো। আশার আলোকবর্তিকার এই খবর সংবাদ মাধ্যমগুলো দেশব্যাপি বিবেকবান মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।
কক্ষচ্যূত বাংলাদেশকে আবারো কক্ষপথে প্রতিস্থাপন করার কাজটি মোটেও সহজ নয়Ñ এর জন্য বন্ধুর পথের মোকবিলা করতে হবে। জাতিকে সংগঠিত করার মত রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নেতার গুনাবলির ওপরই এর সফলতা নির্ভর করছে। এর জন্য নির্মোহ বুদ্ধিবৃত্তিক তৎপরতা খুবই প্রয়োজন। বিবেকবান নাগরিক সমাজের ঐক্যই সেই সম্ভবনাকে ত্বরান্বিত করতে পারে। যারা বিবেকের প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে জাতির প্রত্যাশা ছিল, তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই ধর্মীয় গোড়ামি, রাজনৈতিক দূরাভিলাষ এবং ব্যক্তি স্বার্থকেই মূলত জীবনের ব্রত মেনেছেন। ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে তাদের ন্যায্য অধিকার সুরক্ষার দাবিতে নির্মোহ সোচ্চার ও নিষ্ঠ ভূমিকা আর লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
দাবিটা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের, যা আমরা ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ বলি। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মধ্য দিয়ে যে চেতনার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। এই নীতিতেই জাতীয় ঐক্যের জন্য যে সাংস্কৃতিক বলয় সৃষ্টির প্রয়োজন ছিল রাষ্ট্র সেই সময়টুকু আজও করে উঠতে পারেনি। এতোই বেশি রাজনৈতিক পালাবদল- হিংসা ও রক্তাক্ত অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে সংঘটিত হয়েছে যে সাংস্কৃতিক বলয় গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া সম্ভবপর হয়ে উঠেনি। ফলে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে সম্প্রীতির, ভ্রাতৃত্ববোধের সৃষ্টি হয়েছিল তা রাজনৈতিক সংকীর্ণতা এবং একই সাথে সামরিক স্বৈরতন্ত্র মিলে বিনষ্ট করে দিয়েছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই যেখানে সম্প্রীতি নেই, সেখানে শান্তি থাকতে পারে না। সেই সম্প্রীতিকে ফিরিয়ে আনার মূলমন্ত্রই হচ্ছে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা। অবশ্যই এর বিপরীতে অসাম্প্রদায়িক শক্তির বিরোধিতা আগেও ছিল এখনো আছেÑ এই শক্তি সম্প্রীতি অর্জনের প্রধান প্রতিপক্ষ। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অবস্থানটাও একটা বড়যুদ্ধ। আর সেটা সম্প্রীতি বা শান্তির জন্য করতেই হবে। সমাজে দুর্বৃত্তায়ন ও অবক্ষয় যখন জাতিকে চূড়ান্তভাবে ডুবাতে বসেছে তখন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ, সম্প্রীতির বাংলাদেশের প্রত্যয় নিয়ে নির্মোহ কিছু মানুষের এই যাত্রা-সূচনা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে উৎসাহিত করবে, অনুপ্রাণিত করবে। বাংলাদেশ অবশ্যই তার কাক্সিক্ষত কক্ষপতে পুনঃস্থাপিত হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ