বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

বাংলাদেশের নারীদের আয় বেড়েছে রাজনৈতিক সদিচ্ছায় কী না সম্ভব!

আপডেট: January 21, 2020, 12:03 am

বাংলাদেশের নারীরা এগোচ্ছে। তাদের অর্থনৈতিক সামর্থ, সামাজিক প্রভাব ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। নারীর ক্ষমতায়ন প্রক্রিয়াটা যে অব্যাহত আছে তা এসব সামাজিক সূচক থেকে উপলব্ধি করা যায়। নারীর আয় উন্নতি বৃদ্ধি পাচ্ছে- সে তথ্যই জানাচ্ছে জাতিসংঘ। সম্প্রতি জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেখানের তথ্যে বাংলাদেশের নারীদের অর্থনৈতিক উন্নতির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বের নির্ধারিত ৬৪ দেশের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশেই প্রতি ঘণ্টায় পুরুষদের চেয়ে নারীরা বেশি আয় করেন। আর মাসিক আয়ের ক্ষেত্রেও এই ব্যবধান অত্যন্ত কম। দেশে পুরুষদের চেয়ে নারীদের মাসিক আয় মাত্র ২ দশমিক ২ শতাংশ কম।
বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের তুলনায় এটাকে অনেক ভালো পরিস্থিতি হিসেবেই দেখা যায়। পুরো বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশেই লিঙ্গভিত্তিক পারিশ্রমিকের ব্যবধান সবচেয়ে কম। ১৬ জানুয়ারি জাতিসংঘের ‘বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সম্ভাবনা ২০২০’ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। শ্রমিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স, পার্ট-টাইম/ফুল-টাইম চাকরি, সরকারি/বেসরকারি চাকরি প্রভৃতি বিষয় বিবেচনায় নিয়েই এই জরিপ চালানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘণ্টা হিসেবে একই কাজে পুরুষদের তুলনায় বাংলাদেশের নারীরা ৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি পারিশ্রমিক পান, যা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইডেন, নেদারল্যান্ডসের মতো উচ্চ-আয়ের দেশের চেয়েও বেশি।
জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনের তথ্য শুধু যে বাংলাদেশের নারীদের এগিয়ে যাওয়ার গল্প- বিষয়টি বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ারও। অর্থাৎ বাংলাদেশ সামগ্রিকভাবেই যে এগোচ্ছে ওই তথ্য সেটিরই সাক্ষ্য দেয়। বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের ধারা যে দেশকেই অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিচ্ছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। নারীর অগ্রগতি ছাড়া যে একটি দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ শক্ত ভীতের ওপর দাঁড়াতে পারে নাÑ নারীর ক্ষমতায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সেটাই প্রমাণ করেছে।
অকশ্যই নারীর এই অগ্রগতির ও সাফল্যের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছাই প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, প্রজ্ঞা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার কারণেই বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে নারীর জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। তিনিই অনিঃশেষ উৎসাহ ও প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছেন নারীদের জন্য। দেশে এমন কোনো কর্মক্ষেত্র নেই- তা যতই চ্যালেঞ্জের হোক না কেন যেখানে নারীর ভূমিকা নেই। এই ক্ষেত্র তৈরি এমনই এমনই হয়নি, তৈরি করে দেয়া হয়েছে। কেননা রাজনৈতিকভাবেই এটা স্বীকার করে নেয়া হয়েছে যে, নারীর উন্নয়ন-অগ্রগতি ছাড়া দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই ধারণাই সফল করে প্রমাণ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নেতৃত্বগুণেই নারীশক্তি-তারা নিজেদের শতভাগ প্রমাণ করেছে। তারাও পুরুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে পারে, সে যোগ্যতা তাদের আছে। বাংলাদেশ যে অর্থনৈতিকভাবে বিশ্বের নজর কেড়েছে নবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের ভাষায় বিকশিত নারী শক্তির ফলেই সেটা সম্ভব হয়েছে।
এইতো চলার শুরু। তার মানে এই নয় যে, পথচলা যথেষ্ট হয়েছে। নারী পুরুষের বৈষম্যটা এখনো প্রকট আছে, আছে নির্যাতনের ভয়াবহতা। পিতৃতান্ত্রিকতা এখনো ভীষণ দৈত্যসম। মানুষ হিসেবে এসব কিছুকে জয় করতে হবে, নারী-পুরুষ উভয়ের একাগ্র প্রচেষ্টায়। একটি সভ্য সমাজের প্রত্যাশা এগিয়ে যাচ্ছে- এটাও কম সুখের কথা নয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ