বাংলাদেশের লাভ হলো, না ক্ষতি?

আপডেট: জুন ১২, ২০১৯, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


বৃষ্টিতে ভেসে গেল আরেকটি ম্যাচ। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের এ ম্যাচ ভেসে যাওয়ায় বাংলাদেশের লাভ হলো না ক্ষতি। এ ম্যাচের প্রভাব বিশ্বকাপের বাকি পথে কেমন প্রভাব ফেলবে?
ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ আরেকটি রেকর্ড করে ফেলল গতকাল। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ কোন বল হওয়ার আগে পরিত্যক্ত হয়েছে গতকাল। এ নিয়ে এ বিশ্বকাপে দুটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে টসের মুখ দেখার আগেই বাতিল হলো। বিশ্বকাপ ইতিহাসে আর কোনোবারই দুই ম্যাচ কোনো বল হওয়ার আগে বাতিল হয়নি।
পরশুও বৃষ্টি ভূমিকা রেখেছে ম্যাচে। বৃষ্টির কারণে ৮ ওভার হওয়ার আগেই থেমেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ। সে ম্যাচও বাতিল হয়েছে শেষ পর্যন্ত। সে ম্যাচের সঙ্গে অবশ্য ‘ফল হয়নি’ ট্যাগ লেগেছে। ইংল্যান্ডের আবহাওয়া যেমন খেল দেখাচ্ছে তাতে বিশ্বকাপের ‘ফল হয়নি’ ট্যাগ লাগানো ম্যাচের রেকর্ডও (দুই ম্যাচ) এ বিশ্বকাপে নতুন করে লেখা হতে পারে।
এসবই জানা কথা সবার। এখন সবার আগ্রহ হচ্ছে, এ বৃষ্টি সব দলগুলোর সমীকরণে কেমন প্রভাব ফেলছে। পরশুর ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় যেমন অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকার। টানা তিন ম্যাচ হারের পর কাল জয় দরকার ছিল দলটির। আবার যেমন শুরু হয়েছিল ইনিংসের, তাতে উইন্ডিজ বোলারদের সামনে থেকে ১ পয়েন্ট পাওয়াকেও বাড়তি হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অমন কোনো সন্দেহ নেই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কালকের ম্যাচটি ভেসে যাওয়ায় বাংলাদেশের যে ক্ষতি হয়েছে, এ মতেই সবার ভোট পড়বে। একে তো দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়ের পর টানা দুই ম্যাচ হেরে গতকাল জয় খুব করে দরকার ছিল বাংলাদেশের। তার ওপর দুই দলের সাম্প্রতিক ফর্ম বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখছিল এ ম্যাচে। আজ শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারলেই ৪ পয়েন্ট হয়ে যেত। এবং তাতে পয়েন্ট টেবিলে পাঁচে দেখা যেত বাংলাদেশকে।
ব্রিস্টলের বৃষ্টি সেটা হতে দেয়নি। তাই চার ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে সাতেই আছে দল। ওদিকে বাংলাদেশ ম্যাচের আগে পাকিস্তান ম্যাচেও পাওয়া ১ পয়েন্ট নিয়ে ৪ পয়েন্ট হয়ে গেছে শ্রীলঙ্কার। তাতেই বিশ্বকাপ শুরুর পর যা কল্পনা করা যায়নি, তা-ই হয়েছে। পয়েন্ট টেবিলে পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলগুলোকে টপকে সাময়িকভাবে পাঁচে চলে এসেছে শ্রীলঙ্কা।
শ্রীলঙ্কা ম্যাচের এ ধাক্কা বাংলাদেশের সেমিফাইনাল স্বপ্নে কিছুটা হলেও দাগ ফেলেছে। বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলতে হলে অন্তত ৫টি ম্যাচ জয় বা ১০ পয়েন্ট দরকার হবে বলে ভাবা হয়েছিল। বাংলাদেশের হাতে এখনো ৫ ম্যাচ আছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া, আফগানিস্তান, ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে হবে বাংলাদেশকে। এর মাঝে শুধু আফগানিস্তান দলের পেস আক্রমণই হয়তো বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে। অপ্রিয় হলেও বাকিদের পেস আক্রমণকে শ্রেয় বলে স্বীকার করে নেওয়াটাই ভালো।
ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা হলেও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাওয়া আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়টাই ফল হিসেবে ধরে রাখা উচিত। সেমিফাইনালে খেলতে চাইলে বাকি ৪ ম্যাচ থেকেও ৩টি বা নিদেনপক্ষে ২টি ম্যাচ জিততে হবে বাংলাদেশকে। ইংলিশ কন্ডিশনে অন্য সব দলগুলো যেখানে দ্রুত গতি ও বাউন্সের ওপর ভরসা রাখতে পারছে, বাংলাদেশের সে সুবিধা নেই। মেঘলা কন্ডিশনে অন্যদের পেস সামলানোর সাহসও দল দেখাতে পারবে সে আশা করেও লাভ নেই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টসে জিতেও ফিল্ডিং বেছে নিয়েই বাংলাদেশ দল জানিয়ে দিয়েছে ভালো পেস আক্রমণের সামনে খেলতে এখনো অস্বস্তি বোধ করে দল।
গতকাল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশ দল হারতেও পারত। সে ক্ষেত্রে এই এক পয়েন্টও হয়তো পাওয়া হতো না। কিন্তু বাংলাদেশের বিশ্বকাপ সূচি দেখে বলতেই হচ্ছে, বৃষ্টি গতকাল বড় ক্ষতি করে দিল বাংলাদেশ দলের।-প্রথম আলো অনলাইন