বাংলাদেশের ৪১% পরিশোধিত পানিতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া: বিশ্ব ব্যাংক

আপডেট: অক্টোবর ১২, ২০১৮, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


পানি ও স্যানিটেশনের সুযোগে বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করলেও সব ধরনের পরিশোধিত পানির ৪১ শতাংশের মধ্যে ক্ষতিকর জীবানু ‘ই.কোলাই’ রয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংস্থাটির প্রকাশ করা ’প্রমিজিং প্রগ্রেস: এ ডায়াগনস্টিক অব ওয়াটার সাপ্লাই, স্যানিটেশন, হাইজিন অ্যান্ড প্রভার্টি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনের চুম্বক অংশ তুলে ধরে বিশ্ব ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জর্জ জোসেপ বলেন, পানি ও স্যানিটেশনের সুযোগে বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করলেও পানির সব ধরনের উন্নত উৎসের ৪১ শতাংশে ক্ষতিকর জীবানু ‘ই.কোলাই’ রয়েছে। এতে অন্ত্রে উচ্চ মাত্রার দূষণের প্রমাণ মেলে।
“বাংলাদেশে ১৩ শতাংশ পানির উৎস আর্সেনিক দূষণের জাতীয় মাত্রার উপরে রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেটে আর্সেনিক দূষণের পরিমাণ বেশি।”
তিনি জানান, শহরের ৫২ শতাংশ ও গ্রামের মাত্র ২৭ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পাইপলাইনে পানির ব্যবস্থা আছে। সেখানে স্বল্পতা আছে সাবান ও স্যানিটেশনের সুযোগের।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গৃহস্থালিতে স্যানিটেশনের ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে এখনো সেই সুবিধা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
“বাংলাদেশের মাত্র ৫২ শতাংশ ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানায় টয়লেট রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা রয়েছে মাত্র অর্ধেকের মতো স্কুলে। আর ১০০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে টয়লেট আছে একটি, যা জাতীয় গড়ের অর্ধেক।”
স্কুলের ভালো স্যানিটেশন ব্যবস্থা না থাকায় মাসিক ঋতুস্রাবের সময়ে ২৫ শতাংশ ছাত্রী অনুপস্থিত থাকে বলে জানান এই বিশ্ব ব্যাংক কর্মকর্তা।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম বলেন, “কোনো সমস্যা যখন আছে, সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি, নাকি তা নিয়ে বসে আছি, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে আমরা সব সমস্যাকে তুলে ধরে সেটার আলোকে পদক্ষেপ নিচ্ছি।”
বাংলাদেশের সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন উপকূলীয় অনেক লবণাক্ত পানির কারণে নানা রকম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর সেরিন জুমা বলেন, “বৈশ্বিক উদ্যোগের অংশ হিসাবে তৈরি করা হয়েছে এই প্রতিবেদন। পানির দূষণ ও নিম্নমান এবং স্যানিটেশনের বাজে অবস্থা অনেক অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।”
তিনি বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি হিসাব দিয়েছিল, বৈশ্বিকভাবে পানি ও স্যানিটেশনে নিশ্চিতে যদি ১ ডলার খরচ করা হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় ওটার বিপরীতে লাভ আসবে ৫ ডলার।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রোকসানা কাদের, বিশ্ব ব্যাংকের প্র্যাকটিস ম্যানেজার তাকুয়া কামাতা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ