বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিকাশ রুদ্ধ করতেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট: আগস্ট ১৭, ২০১৯, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


জাতীয় শোক দিবসের আলোচনায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ যখন মাথা তুলে দাঁড়াতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির বিকাশের পথ রুদ্ধ করে দেওয়া হয়। স্বাধীনতাবিরোধী চক্ররাই বাংলাদেশ বিরোধিতার মাস্টারপ্ল্যান হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে খুন করে। আর এই খুনিদের সঙ্গে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের যোগাযোগ ছিল। বঙ্গবন্ধুকে খুনের উদ্দেশ্যই ছিল মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়া এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের পুনর্বাসিত করা।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (১৬ আগস্ট) জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু আজ নেই কিন্তু তার আদর্শ রয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চের ভাষণে শেষ কথা বলেছেন, প্রয়োজনে বুকের রক্ত দেবো। আর সেই রক্তই তিনি দিয়ে গেছেন। এই দেশের জন্য, এদেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার জন্য তিনি তার শেষ বিন্দু রক্ত দিয়ে গেছেন। তার রক্তঋণ শোধ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণ করে তার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে পারলে তার সেই রক্তঋণ শোধ হবে। এবারের জাতীয় শোক দিবসে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার আবারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আজকের দিনে পিতা তোমাকে কথা দিলাম, তোমার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলবো, এটাই আমাদের অঙ্গীকার।’
বঙ্গবন্ধুর শাসনামলের দেশ আস্তে আস্তে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছিল উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, খরা বন্যার দেশ থেকে একটি স্বাবলম্বী দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সে সময়েও নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছিল। তখন আওয়ামী লীগের সাতজন এমপিকে খুন করা হয়। তারপরও জাতির পিতার সময়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ৭ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছিল। চালের দাম ১০ টাকা থেকে ৩ টাকায় নেমে এসেছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা যখন ব্যাহত করা যাচ্ছিল না তখনই ষড়যন্ত্র করে জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরপর বন্দুকের নলের জোরে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে দিয়ে ক্ষমতা দখল করেন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক জিয়াউর রহমান। তিনি সামরিক আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় এলেন। তিনি হ্যাঁ/না ভোটের আয়োজন করে রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। এরপর তিনি রাজনৈতিক দল গঠন করলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামল ছিল অবৈধ। হাইকোর্ট রায় দিয়ে তাদের শাসনকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। সুতরাং তাদের রাষ্ট্রপতি বলা যায় না। তারা হলেন অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনিরা জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে ইঙ্গিত পেয়েছিল যে, বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেললে কিছুই হবে না। আর সেটা খুনিরা তাদের মনোভাব এবং আচরণেও প্রকাশ করেছিল। জিয়াউর রহমান স্ত্রীসহ মাসে অন্তত একদিন তাদের বাড়িতে যেতেন উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, খুনি ডালিম, ডালিমের বউ-শাশুড়ি তাদের বাড়িতে প্রায়ই যেতেন। আর মেজর হুদা এবং শেখ কামাল দুজনই কর্নেল ওসমানির এডিসি হিসাবে রুম ভাগাভাগি করে থাকতেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাবা-মা, ভাই সব একদিনে হারিয়ে নিঃস্ব-রিক্ত হয়েছিলাম। দেশ ছেড়ে যখন যাই সবই ছিল, যখন ফিরে আসি কেউ নেই। সব হারিয়ে কিন্তু পেয়েছিলাম লাখো মানুষ। তাদের আপন করে নিয়েছি। আর আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মী মুজিব আদর্শের সৈনিক, তারাই আমাকে আপন করে নিয়েছে। সেখানেই পেয়েছি বাবা-মা ভাইয়ের ভালবাসা, এখানেই আমার সব থেকে বড় শক্তি। সেখান থেকেই আমরা বড় প্রেরণা। বরাবর মাথায় রাখি, আমার বাবা, এই দেশ স্বাধীন করেছেন। এই দেশকে গড়ে তুলতে হবে। এদেশের মানুষকে মানুষের মতো বাঁচার সুযোগ করে দিতে হবে। উন্নত জীবন দিতে হবে। ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়তে হবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে আজ বাংলাদেশকে আমরা বিশ্বে একটা মর্যাদার আসনে নিয়ে এসেছি।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, আবদুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান প্রমুখ।
এছাড়াও বঙ্গবন্ধুর স্মরণে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মেরিনা জাহান। যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।
তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ