বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

বাংলাদেশ সিরিজে আমির-ওয়াহাব নেই, ইনজামামের বিস্ময়

আপডেট: January 21, 2020, 12:52 am

সোনার দেশ ডেস্ক


বঙ্গবন্ধু বিপিএল শেষ করেছেন যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হয়ে। যে দলের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলবে পাকিস্তান, সেই বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করেও উপেক্ষিত মোহাম্মদ আমির! তার সঙ্গে গত কয়েক বছর সীমিত ওভারে দারুণ পারফর্ম করে যাওয়া ওয়াহাব রিয়াজেরও জায়গা হয়নি। তাদের স্কোয়াডে না দেখে বিস্মিত সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক ইনজামাম-উল-হক।
লম্বা সময় পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচক ছিলেন ইনজামাম। ২০১৪ সালের এপ্রিল থেকে গত বছর মিসবাহ-উল-হক দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত দল নির্বাচনের কাজ তিনিই সামলেছেন। খেলোয়াড়ি জীবনে অভিজ্ঞতার সঙ্গে নির্বাচকের দায়িত্বে কাজ করায় বর্তমান খেলোয়াড়দের সম্পর্কে তার ধারণা খুব ভালো। সেই অভিজ্ঞতা দিয়েও মেলাতে পারছেন না আমির-ওয়াহাবের বাদ পড়ার হিসাব।
৪৯ বছর বয়সী সাবেক ব্যাটসম্যান মনে করেন, সামনের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো উচিত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি)। ইউটিউব বার্তায় ইনজামামের বক্তব্য, ‘কয়েকটি সিদ্ধান্ত আমি বুঝতে পারছি না। ওয়াহাব রিয়াজ ও মোহাম্মদ আমিরকে বাদ দেওয়া উচিত হয়নি। ওরা অভিজ্ঞ ও সীমিত ওভারে কার্যকর, খুব ভালো বল করতে পারে। টেস্ট ক্রিকেটের কারণে তাদের বাদ দেওয়ার যুক্তিটা ঠিক নয়। তাদের অভিজ্ঞতার সুবিধা নেওয়া উচিত ২০২০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে।’
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলা স্কোয়াডের সাতজনকে বাদ দিয়ে ‘নতুন’ এক দল ঘোষণা করেছে পিসিবি। যে দলের তিনজন অপেক্ষায় রয়েছেন আন্তর্জাতিক অভিষেকের। এত পরিবর্তনে বিস্মিত ইনজামাম, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের খেলোয়াড় নির্বাচনে এত বেশি পরিবর্তন আমাকে বিস্মিত করেছে। আমার মতে, একটা সংস্করণে এতটা বদল ঠিক নয়। সিনিয়র ও জুনিয়রের সমন্বয়েই একটা দল গঠন করা হয়।’
তবে কয়েকটি জায়গায় নির্বাচক মিসবাহর প্রশংসাই ঝরেছে ইনজির মুখে, ‘শোয়েব মালিক ও মোহাম্মদ হাফিজকে ফিরিয়ে আনাটা খুব ভালো সিদ্ধান্ত। ফাস্ট বোলার হারিস সোহেলকে আনাটাও ভালো সিদ্ধান্ত। ব্যাটসম্যান আহসান আলী ঘরোয়া ক্রিকেট ভালো খেলেছে, তাকে আনাটাও সঠিক সিদ্ধান্ত।’ যদিও ফখর জামানকে রাখার পক্ষে সাবেক এই ক্রিকেটার, ‘ফখর সব সংস্করণে ভয়ংকর ব্যাটসম্যান। হ্যাঁ, গত কয়েক ম্যাচে ও ভালো করতে পারেনি, তবে ওর মানসিকতা ও খেলার ধাঁচ একেবারে অন্যরকম।’
অনেক নাটকীয়তা শেষে বাংলাদশে তিন দফায় যাবে পাকিস্তান সফরে। প্রথম দফায় খেলবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ২৪ থেকে ২৭ জানুয়ারি হতে যাওয়া সব ম্যাচই লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে। দ্বিতীয় ধাপের সফরে হবে একটি টেস্ট। ৭ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পাঁচ দিনের ম্যাচটি হবে রাওয়ালপিন্ডিতে। আর তৃতীয় ও শেষ ধাপের পাকিস্তান সফরের শুরুতে বাংলাদেশ ৩ এপ্রিল করাচিতে একটি ওয়ানডে খেলে সেখানেই দুই দিন পর নামবে দ্বিতীয় টেস্টে।

পাকিস্তান সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বাংলাদেশের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ইনজামাম, ‘বাংলাদেশের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। আমার মনে হয়, ভেঙে না এসে একবারে সফর করলে ভালো হতো। যা-ই হোক, তারা এখানে (পাকিস্তান) খেলাটা উপভোগ করবে, কারণ ভক্তরা ভীষণ ক্রিকেটপাগল।’