বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

বাংলায় মামলার রায় লিখতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান বিষয়টি যথার্থই বিবেচনার দাবি রাখে

আপডেট: December 9, 2019, 1:31 am

ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায়ও মামলার রায় লেখার বিষয় বিবেচনার জন্য বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এসময় বিচারকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ ও জনগণ এবং সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে বিচারকাজ পরিচালনা করবেন। সবাই যেন বিচার পায় সে ব্যবস্থা করবেন।
তিনি বলেন, নুসরাত হত্যাসহ সম্প্রতি বেশকিছু চাঞ্চল্যকর হত্যার বিচার দ্রুত হওয়ায় বিচার বিভাগের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা অনেকগুণ বেড়ে গেছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
‘শান্তি ও উন্নয়নের জন্য ন্যায়বিচার’ এই প্রতিপাদ্যে ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিপাদ্যটি খুবই যুগোপযোগী তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নায় বিচার সমাজের স্থিতিশীলতার জন্যই প্রয়োজন। এই স্থিতিশীলতা মানেই শান্তি ও উন্নয়ন। মানুষ যখন ন্যায় বিচার পায় না তখনই সে বিক্ষুব্ধ হয় এবং তার পরিবেশ ও প্রতিবেশকে আপন মনে করে না। স্বাভাবিকভাবেই এই পরিস্থিতি শান্তি ও উন্নয়নের ঘোরতর অন্তরায়।
প্রধানমন্ত্রী ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাতেও মামলার রায় লেখার জন্য বিচারপতিদের প্রতি তাগিদ দিয়েছেন। বাংলায় মামলার রায় লেখার দাবিটি দীর্ঘ দিনের। বিশেষ করে উচ্চ আদালতে মামলার রায় সাধারণত ইংরেজিতে লেখা হয়। ইংরেজিতে লেখা রায় বাদী কিংবা বিবাদী উভয় পক্ষের অধিকাংশর জন্য বোধগম্য নয়। ফলে ওই রায়ের আপিল কিংবা অন্য ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য আইনজীবীর সহযোগিতা নিতে হয়। তাও আবার সব আইনজীবীর জন্যও ইংরেজিতে লেখা রায় বোধগম্য নয়। এটা সাধারণ মানুষের জন্য দুর্ভোগের কারণ যেমন, তেমনি সংশ্লিষ্টদের প্রতারণারও শিকার হতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ইংরেজিতে লেখা রায় উপজেলা পর্যায়ে অনেক কর্মকর্তার জন্য সহজ বোধগম্য নয়। বাংলায় লেখা রায়ের কপি পেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজে বুঝে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে পারে। এ ক্ষেত্রে তার প্রতারণারও সম্মুখিন হতে হবে না। এ ক্ষেত্রেও প্রতিপাদ্যের বিষয়টি বেশ প্রাসঙ্গিক। এটাও ন্যায় বিচারের সাথে সম্পৃক্ত। যার পক্ষে কিংবা যার বিরুদ্ধে রায় হলো- তারাই যদি সেটা নিজে বুঝতে না পারে- সেটা ব্যক্তি বিশেষকে অজ্ঞান করে রাখারই সামিল। আর কেউ অজ্ঞানতার মধ্যে থাকবে- সেটা ন্যায় বিচারের পর্যায়ে পড়ে না। এ ক্ষেত্রেও ব্যক্তি ও তার পরিবারের শান্তি বিঘ্নিত হয়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বাংলায় রায় লেখার আহ্বান রেখেছেন। আশা করি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাতেও রায় লেখার নিয়ম চালু হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ