বাইরে থেকে চাল আমদানি || তানোরে চালকল মালিকদের তোপের মুখে গুদাম কর্মকর্তার পলায়ন

আপডেট: জুন ২০, ২০১৯, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

তানোর প্রতিনিধি


রাজশাহীর তানোর উপজেলার কামারগাঁ খাদ্য গুদামে চালকল মালিকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ না করে বাইরে থেকে দুই ট্রাক চাল আমদানি করে গুদামে ঢোকানোর সময় চলকল মালিকদের তোপের মুখে পড়েন গুদাম কর্মকর্তা ওসি-এলএসডি মাইনুল ইসলাম। পরে কৌশলে পালিয়ে রক্ষা পান ওই গুদাম কর্মকর্তা।
গত মঙ্গলবার বিকেলের দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে প্রকৃত চালকল মালিকরা গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গতকাল বুধবার সকালের দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ।
শুধু চাল না, কৃষকদের কাছ থেকে ধান না নিয়ে গুদাম কর্মকর্তা বাগমারা উপজেলা থেকে হাইব্রিড ধান ট্রলি ও ট্রাকে করে এনে গুদাম ভর্তি করেছেন বলেও একাধিক কৃষকের অভিযোগ। এঘটনায় মিলার ও কৃষকদের মাঝে বিরাজ করছে উত্তেজনা।
গতকাল বুধবার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, কামারগাঁ খাদ্য গুদামের ভিতরে দুটি ট্রাক ভর্তি চাল রয়েছে। তারমধ্যে একটি ট্রাক থেকে কিছু চাল নামানো হয়েছে। অন্য আরেকটি ট্রাক গুদাম কর্মকর্তার অফিসের সামনে রাখা হয়েছে। ট্রাক দুটি ত্রিপল দিয়ে ঢাকা আছে। বেলা ১১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও গুদাম কর্মকর্তা আসেনি।
লিখিত অভিযোগে চালকল মালিকরা বলেন, উপজেলার কামারগাঁ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসিএলএসডি মাইনুল ইসলাম প্রকৃত মিলারদের বাদ দিয়ে যে সব মিল অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে তাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে বরাদ্দ দিয়ে বাহির থেকে পুরাতন ভাঙাদানাযুক্ত চাল গুদামে সরবরাহ করছেন।
অভিযোগকারী কামারগাঁ ইউনিয়ন এলাকার মৃদুল চালকলের মালিক আবদুল মান্নান, মৃধা চালকলের মালিক মুঞ্জুর সর্দার, চালকলের মালিক খাজেম আলীসহ একাধিক মিলার জানান, আমাদের মিল চালু থাকলেও বরাদ্দ না দিয়ে যে সব মিল চালু নাই তাদেরকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
তারা আরো বলেন, আমরা উপজেলা খাদ্য অফিসারকে বিষয়টি জানালে তিনি সাফ জানিয়ে দেন আপনারা সাংসদকে অভিযোগ করেছেন, এজন্য আপনাদের বরাদ্দ দেয়া হয়নি। অথচ গত মঙ্গলবার মাদারিপুর বাজারে অবস্থিত অকেজো শরিফ মুন্সী এবং চৌবাড়িয়া বাজারের করিম চালকলের নামে নওগাঁ জেলার রাকিব চালকল থেকে দুই ট্রাক চাল আনা হয়েছে।
এ দুটি চালকলের নামে সরবরাহ করছেন গুদাম কর্মকর্তা এবং তানোর পৌর সদরের কুঠিপাড়া গ্রামের এক ব্যবসায়ী।
শুধু এখানেই শেষ নয়, কৃষকদের কাছ থেকে ধান না নিয়ে গুদাম কর্মকর্তা বাগমারা উপজেলা থেকে ইরাটন, রায়চাল ও হিরা জাতের হাইব্রিড ধান ট্রলি এবং ট্রাকে করে গুদামে দিয়েছেন। যা সরেজমিন তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে।
এছাড়াও হাজী সেলিম গুদাম কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজস করে ৮/৯টি মিলের নামে চাল সরবরাহ করছেন এবং গুদাম থেকে চিকন ও সুমন স্বর্ণা জাতের চাল বের করে বেশি দামে বিক্রি করে বাইরে থেকে নিম্নমানের চাল দিয়ে লাখ লাখ টাকার ব্যবসা করেছেন ।

তানোর চালকল মালিক সমিতির সভাপতি হাজী মোবারক বলেন, কোনো ঝামেলা না করে মিমাংসার কথা বলা হয়েছে চালকল মালিকদের। এনিয়ে গুদাম কর্মকর্তা ওসিএলএসডি মাইনুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে চাইনি।
উপজেলা খাদ্য অফিসার বিকাশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে সাক্ষাতে কথা বলতে বলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসরিন বানু বলেন, আমি ওসিএলএসডির বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। এবং দুইটি ট্রাকের চাল গোডাউনে নামাতে নিষেধ করেছি। এরপরেও যদি সে অন্য উপজেলার চাল গোডাউনে সংরক্ষণ করে তা হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।