বাগমারার কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ

আপডেট: অক্টোবর ২০, ২০১৯, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

বাগমারা প্রতিনিধি


রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে নাটোরের নলডাঙ্গা এলাকায় একটি আমগাছের সঙ্গে মরদেহ গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ওড়না ডালের সঙ্গে বাঁধা থাকলেও তার পা দুটি মাটিতে ঠেকে ছিল। গতকাল শনিবার সকালে ওই কলেজ ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে নাটোরের নলডাঙ্গা থানা পুলিশ। নিহত কলেজ ছাত্রীর নাম তামান্না আক্তার টিয়া (১৭)। সে বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের সমসপাড়া গ্রামের আবদুর রশিদের মেয়ে ও পুঠিয়া উপজেলার সাধনপুর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ওই ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে নাটোরের পুলিশ সুপার লিটনকুমার সাহা ও নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নিহত টিয়া সাধনপুর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তির পর পুঠিয়া উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের বিদিরপুর গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে শান্ত ইসলাম তাকে উত্ত্যক্ত করতো। এ নিয়ে মাঝে মাঝে তার কলেজে যাওয়া বন্ধ হয়ে যেত। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে। এরই জের ধরে গত শুক্রবার রাতে প্রেমিক শান্ত ইসলাম বাগমারার সমসপাড়া গ্রামে প্রেমিকা তামান্নার বাড়িতে এসে গোপনে তার শয়ন কক্ষে অবস্থান করে। রাত এগারোটার দিকে মেয়ের বাবা অবদুর রশিদ মেয়ের ঘরে ঢুুকে শান্তকে দেখতে পায়। এসময় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে শান্ত মেয়ের বাবাকে বেশি বাড়াবাড়ি না করার জন্য শাসিয়ে মেয়েকে নিয়ে বের হয়ে চলে যায়। প্রেমিকের সঙ্গে যাওয়ার পর তার পরিবারের লোকজন মান-সম্মানের ভয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে চুপচাপ থাকেন। গতকাল শনিবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় পাঁচশ গজ দূরে সড়কুতিয়া দক্ষিণপাড়ায় আমবাগানে একটি মেয়ের মরদেহ ঝুলে আছে এমন খবরে মেয়ের বাবা আবদুর রশিদ সেখানে গিয়ে মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে নলডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং টিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে দেয়। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, প্রেমিক শান্ত ইসলাম টিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা করে গাছের সঙ্গে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে। ঘটনার পর থেকেই প্রেমিক শান্ত ইসলাম পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। টিয়ার বাবা আবদুুর রশীদের অভিযোগ, শান্ত তার সাঙ্গপাঙ্গদের সঙ্গে নিয়ে তার মেয়েকে ধর্ষণ করার পর হত্যা করেছে। তিনি তার মেয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছেন। এঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উল্লেখ্য ঘটনাস্থলটি রাজশাহীর বাগমারা, পুঠিয়া ও নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার সীমান্তবর্তী স্থান।
নিহতের মামা রবিন জানান, পরিকল্পিতভাবে আমার ভাগ্নিকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ নিহত তামান্না আকতার টিয়ার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং টিয়া হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।
বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান জানান, ঘটনাটি নাটোর জেলার মধ্যে হওয়ায় যা করার তা নাটোরের পুলিশই করবেন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে নাটোরের নলডাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) উজ্জল হোসেন বলেন, কলেজ ছাত্রী তামান্নার ঝুলন্ত লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। ময়না তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে বলে তিনি জানিয়েছেন। প্রেমিক শান্ত ইসলামকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে বলেও তিনি জানান।