বাগমারায় আউশে ভরসা রাখছে কৃষক

আপডেট: জুলাই ১৮, ২০১৯, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

রাশেদুল হক ফিরোজ, বাগমারা


বাগমারায় আউশ ধান রোপন করছেন কৃষকরা-সোনার দেশ

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় গত মৌসুমে ধান চাষে কৃষকদের লোকসান গুনতে হলেও চলতি আউশ মৌসুমে আউশেই ভরসা রাখছে কৃষক। এই ধানের উৎপাদন নিয়েও আশাবাদি কৃষক। বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে ধান লাগানোর উপযুক্ত পরিবেশ থাকায় উপজেলার সর্বত্রই আউশ ধান রোপনে আগ্রহী হয়ে উঠেছে কৃষকরা। এই মৌসূমে ওইসব জমিতে অন্য আবাদের উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় ধান রোপনেই আগ্রহ বেড়েছে কৃষকের।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাগমারার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভা এলাকার চলতি আউশ মৌসুমে ১৮হাজার ৯৮৫ হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। যা গতবারের তুলনায় প্রায় দুইশ হেক্টর বেশী। বৃষ্টি নির্ভর ওই খেতে পানির অভাব দেখা না দেয়ায় উৎপাদন আগের মৌসুমের চেয়ে ভাল হতে পারে বলে ধারনা করছেন কৃষকরা।
ভবানীগঞ্জ পৌর এলাকার চাঁনপাড়া মহল্লার কৃষক আবুল হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে নয় বিঘা জমিতে ধান রোপন করা হয়েছে। গত মৌসুমে ধান চাষে যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তা এবার উঠে আসার আশা করছেন তিনি। সার, সেচ ও শ্রমিক খরচ হিসেবে যা ব্যয় হয়েছে, উৎপাদন ভাল হলে খরচ উঠেও বৃষ্টি নির্ভর এই আবাদে লাভবান হবেন বলে আশা করছেন এই চাষি। আউশ মৌসুমে কৃষকরা আঠাশ, চায়না, হাইব্রিডসহ বিভিন্ন জাতের ধান রোপন করেছেন। উৎপাদন ভাল হলে বিঘা প্রতি ১৫/১৮ মণ ধান উৎপাদন হবে বলে কৃষকরা ধারনা করছেন। যোগীপাড়া, হামিরকুৎসা, ঝিকরা, মাড়িয়া, বাসুপাড়া, গণিপুর, আউচপাড়া, দ্বীপপুর, সোনাডাঙ্গা, গোয়ালকান্দি, শুভডাঙ্গাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের খেতে খেতে আউশ মৌসুমে বিভিন্ন প্রজাতির ধান রোপন করা হচ্ছে। এরই মাঝে লক্ষমাত্রার কাছাকাছি ধান রোপন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। দু’এক দিনের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলেও কৃষি অফিস আশা করছে।
মাড়িয়া ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন জানান, ধান রোপনের শুরুইে বৃষ্টির পানি পাওয়ায় ধান রোপনে পানি সেচ দিতে হয়নি। জমিতে পানির অভাব না থাকায় ধান রোপনে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।
যোগাযোগ করা হলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিবুর রহমান জানান, উপজেলায় এ মৌসুমে আউশের ধান রোপনের ্উপযুক্ত পরিবেশ থাকায় কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। উৎপাদনও ভাল হবে বলে তিনি আশা পোষন করেছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ