বাগমারায় চাঁদাবাজির সময় মাইক্রোচালকসহ ৪ ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট আটক

আপডেট: জুলাই ৯, ২০১৯, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ

বাগমারা প্রতিনিধি


বাম থেকে আটক নাসির, আব্দুল জব্বার ও লিয়াকত আলী সোনার দেশ

রাজশাহীর বাগমারায় বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে চাঁদাবাজির সময় মাইক্রোচালকসহ ৪ ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেটকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকার জনগণ। বাগমারা থানার পুলিশ জনগণের হাত থেকে ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে। জনগণের কাছে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিলেও পুলিশের কাছে তারা নিজেদের সাংবাদিক ও মানবাধকিারকর্মী বলে জানিয়েছে। আটককৃতরা হলো দৈনিক রাজশাহীর আলো পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দানকারী আবদুল জব্বার (৪৮), দৈনিক বজ্র সময় পত্রিকার সাংবাদিক নাসির উদ্দীন রাসেল (৩৫), দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সাংবাদিক লিয়াকত আলী (৩৮)্ ও মাইক্রোবাস চালক তোতা মিয়া (৩৮)। আটককৃতদের কাছ থেকে ঢাকা মেট্টো-চ-৫১-৭৫৫১ নম্বরের একটি ছাই রঙের মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। আটককৃতদের থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে বাগমারা থানার পুলিশ জানিয়েছেন।
জানা গেছে, গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলার মোহনগঞ্জ বাজারে আবদুর রউফ নামের এক ব্যবসায়ীর সুমি বেকারিতে আবদুল জব্বার, নাসির উদ্দীন রাসেল ও লিয়াকত আলী নিজেদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। ফ্যাক্টরির মালিক তাদেরকে দুই হাজার টাকা, বিস্কুট, কেক ও সিগারেট দিয়ে বিদায় করে দেন। তাদের আচরণে সন্দেহের সৃষ্টি হলে এলাকার লোকজন ছুটিতে আসা এক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্রেট হুমায়ুন কবীরকে বিষয়টি জানান। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ুন কবির ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা নিজেদের সংবাদকর্মী বলে পরিচয় দেয়। পরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রট হুমায়ুন কবির বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিউল ইসলাম ও বাগমারা থানার ওসি আতাউর রহমানকে জানান। ওসি আতাউর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।
আটককৃতরা নিজেদের সাংবাদিক বলে পরিচয় দিলেও রাজশাহীর সংবাদকর্মীরা তাদের চিনেন না বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাজী শাহেদ, সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, দৈনিক আমাদের রাজশাহীর সম্পাদক অধ্যাপক আফজাল হোসেন, অনলাইন পদ্মাটাইমস এর সম্পাদক বদরুল হাসান লিটন জানান, রাজশাহীতে ওই ধরনের কোনো সাংবাদিক আছে বলে জানা নেই। তারা ওই সব সংবাদকর্মী পরিচয়দানকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত আটকৃতদের থানায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাগমারা থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, জনগণ আটক করে পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ তাদেরকে থানায় নিয়ে আসে। খোঁজখবর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ