বাগমারায় ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ || অতিরিক্ত ১৯৫ মেট্রিক টন ধান কোথা থেকে এলো?

আপডেট: জুলাই ১৯, ২০১৯, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ও বাগমারা প্রতিনিধি


রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় সরকারিভাবে প্রথম পর্যায়ে ৬০০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করার কথা উপজেলা প্রশাসনের। এইজন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এসিল্যান্ড কৃষকদের ধান কেনার স্লিপও দেন। সেই স্লিপ নিয়ে কৃষকরা উপজেলা খাদ্য গুদামে গিয়ে ধান জমা দিয়ে আসেন। কিন্তু স্লিপ অনুযায়ী খাদ্য গুদামে ধান নিয়ে যাওয়ার পর হিসেব করে দেখা গেলো অতিরিক্ত ১৯৫ মেট্রিক টন ধান জমা পড়েছে। তাহলে অতিরিক্ত ১৯৫ মেট্রিক টন ধান কোথা থেকে আসলো? অথচ প্রত্যেকেই ইউএনও ও এসিল্যান্ড স্বাক্ষরিত স্লিপ নিয়েই ধান খাদ্য গুদামে নিয়ে জমা দিয়েছেন। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে অতিরিক্ত কোনো চাল খাদ্য গুদামে নেয়া হয়নি।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আলী জানান, ইউএনও ও এসিল্যান্ড মহোদয় কৃষকদের ধান কেনার যে স্লিপ দিয়েছিলেন সেই স্লিপ অনুযায়ীই ধান কেনা হয়েছে। তবে অতিরিক্ত কোনো ধান কেনা হয়নি। প্রথম অবস্থায় ৬০০ মেট্রিক টন ধান কেনার জন্য স্লিপ দেয়া হলেও অতিরিক্ত ১৯৫ মেট্রিক টন ধান গুদামে নিয়ে আসেন কৃষকরা। তখন ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশে অতিরিক্ত ধান খাদ্য গুদামের না ঢুকিয়ে চাতালে রাখা হয়। পরবর্তীতে নতুনভাবে আবার সরকারিভাবে এক হাজার মেট্রিক টন ধান কেনার নির্দেশনা দেয়া হলে তখন ওই ১৯৫ মেট্রিক ধানের স্লিপ যাচাই-বাছাই করে যেসব স্লিপ ভুয়া ও জালিয়াতি মনে হয়েছে সেইসব স্লিপের মোট ৪৮ মেট্রিক টন ধানের স্লিপ বাতিল করা হয়। বাকি ১৪৭ মেট্রিক টন ধানের মধ্যে ১৩৭ মেট্রিক টন ধান কিনে চাতাল থেকে গুদামে গুদামজাত করা হয়েছে। বাকি আরো ১০ মেট্রিক টন ধানও কিনে গুদামজাত করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নামের তালিকা ছাড়াই শুধুমাত্র ইউএনও ও এসিল্যান্ড স্বাক্ষরিত স্লিপ দেয়ায় এই সুযোগে সরকারদলীয় একটি সিন্ডিকেট স্লিপ জালিয়াতি করে অতিরিক্ত ১৯৫ মেট্রিক টন ধান খাদ্য গুদামে নিয়ে আসেন। অনেকের স্লিপে এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর থাকলেও ধানের পরিমাণ সঠিকভাবে লেখা ছিলো না। অনেকের স্লিপে ঘষামাজা লক্ষ্য করা গেছে। অবশ্য সেই ধরনের ৪৮ মেট্রিক টন ধানের স্লিপ বাতিল করেছে প্রশাসন। তবে নতুনভাবে আবার এক হাজার টন ধান বরাদ্দ পাওয়ায় অতিরিক্ত ১৪৭ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযোগ উঠেছে, এর ফলে শতাধিক প্রকৃত কৃষক খাদ্য গুদামে ধান দেওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কারণ স্লিপ জালিয়াতি করেও যারা খাদ্য গুদামে ধান জমা দিতে এসেছেন তাদের ধানও কিনেছে উপজেলা প্রশাসন। এদিকে ভিড়ের কারণে আগে আসতে না পেরে স্লিপ নিয়ে এখনো কিছু কৃষক ধান দেয়ার জন্য খাদ্য গুদামে অপেক্ষা করছেন।
উপজলো খাদ্য র্কমর্কতার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মে বাগমারা উপজেলা খাদ্য গুদামে বোরো ধান, চাল ও গম সংগ্রহের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জনিয়িার এনামুল হক। চলতি মৌসুমে উপজলো খাদ্য গুদাম ২৬ টাকা কেজি দরে ৬০০ মেট্রিক টন ধান, ২৮ টাকা দরে ১৯০ মেট্রিক টন গম ও ৩৬ টাকা দরে ১৫৯১ মেট্রিক টন চাল কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ চলছে। এক্ষেত্রে কৃষকদের কাছ থেকে স্লিপের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ আরম্ভ করেন উপজেলা প্রশাসন। তবে পূর্বের ছয়শ মেট্রিক টন ছাড়াও সম্প্রতি আরো এক হাজার মেট্রিকটন ধানের বরাদ্দ পাওয়া গেছে বলেও জানা যায়। এই বরাদ্দপ্রাপ্ত ধানের মধ্যে অতিরিক্ত ১৪৭ মেট্রিক টন ধান সমন্বয় করে নেয়া হয়েছে। এর ফলে স্লিপ জালিয়াতি সিন্ডিকেট চক্র আড়ালেই পড়ে যাবে।
এ ব্যাপারে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-এলএসডি) মামুন অর রশিদ জানান, স্লিপ দেখে দেখে কৃষকদের কাছ থেকে ধান নেয়া হয়েছে। কিছু স্লিপ সন্দেহ হওয়ায় সেগুলো বাতিল করা হয়েছে। অতিরিক্ত স্লিপ কিভাবে এলো বা অতিরিক্ত ধান কিভাবে ঢুকলো তার সদুত্তর দিতে পারেন নি তিনি। তবে পরিমাণ বেশি হওয়ার কথা তিনি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন, জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিউল ইসলাম জানান, আমরা ৬০০ মেট্রিক টন ধানের জন্য কৃষকের নামের তালিকা তৈরি করে খাদ্য গুদামের কর্মকর্তাকে নামের তালিকা দিয়েছিলাম। সেই অনুযায়ীই ধান ক্রয় করা হয়েছে। এর বাইরে যদি অতিরিক্ত কোনো ধান খাদ্য গুদামে ঢুকানো হয় তাহলে তার দায়দায়িত্ব খাদ্য গুদামের কর্মকর্তার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ