বাগমারায় বাঁশের সাঁকোয় চলছে দশ গ্রামের মানুষের পারাপার

আপডেট: মার্চ ১৩, ২০১৮, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ

রাশেদুল হক ফিরোজ, বাগমারা


বাগমারায় বাঁশের এ সাঁকো দিয়ে চলাচল করে আশেপাশের দশ গ্রামের মানুষ-সোনার দেশ

রাজশাহীর বাগমারায় সেতু নির্মিত না হওয়ায় বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে টাকার বিনিময়ে চলাচল করতে হচ্ছে অন্তত দশ গ্রামের মানুষকে। উপজেলার কাচারীকোয়ালী পাড়া ইউনিয়নের মানসিংহপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত রানী নদীর ওপর দয়েরঘাট নামক স্থানে সেতু না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে। নদীর দুই পাশেই মানসিংহপুর গ্রাম হওয়ায় সেতুর অভাবে একই গ্রাম বিচ্ছিন্ন দুটি গ্রামে পরিনত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, পারাপারের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বাৎসরিক চুক্তিতে লীজ দেয়া হয়েছে ওই ঘাটটি। লীজ পেয়ে মানসিংহপুর গ্রামের আক্কাস আলী বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করলেও তার ওপর দিয়ে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হয় লোকজনকে। দয়েরঘাটে একটি সেতুর অভাবে বাসুপাড়া ও কাচারীকোয়ালী পাড়া ইউনিয়নের ইসলাবাড়ি, বিরকয়া, খয়রা, হলুদঘর, কালিকাপুর, মোহনপুর, খুজিপুরসহ প্রায় দশটি গ্রামের লোকজনকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উপজেলার দেওলা চৌরাস্তা মোড় হতে রানী নদীর বাঁধ ঘেষে মান্দা উপজেলার রাস্তার মাঝে মানসিংহপুর বাজার সংলগ্ন দয়েরঘাট দিয়ে এলাকাবাসির যাতায়াত বেড়ে যাওয়ায় ওই স্থানে একটি সেতু নির্মাণ জরুরি বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
মানসিংহপুর গ্রামের জাবেদ আলী জানান, প্রতিদিন উপজেলা সদরে ওই পথে যেতে হয়। সেতু তৈরি না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। বাসুপাড়া গ্রামের পল্লী চিকিৎসক মেছের আলী বলেন, সেতু না থাকায় বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিন কয়েকবার এপার ওপারে যাতায়াত করতে হয়। মোহনপুর গ্রামের দলিল লেখক আবদুুল লতিফ জানান, দয়েরঘাটে সেতু না থাকায় যানবাহন চলাচল করতে পারেনা। প্রতিদিন শত শত মানুষ মোটরসাইকেল ও বাই-সাইকেল নিয়ে ওই সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল করেন। সাঁকো মজবুত না থাকায় অন্যান্য যানবাহন চলাচল করতে পারেনা।
খুজিপুর গ্রামের সবুর আলী, কালিকাপুর গ্রামের মমতাজ, মানসিংহপুর গ্রামের লোকমান আলী জানান, সেতু না থাকায় নদীর দুই পারের আত্বীয় স্বজনদের সাথে বিপদ-আপদে কম সময়ে যাওয়া আসা করা যায়না। এছাড়াও উভয় পাশেই জমি থাকায় কৃষি আবাদ করা মুশকিল হয়ে যায়। দয়েরঘাটে সেতু না হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে পারেনা। নদীর ওপারে কাচারীকোয়ালীপাড়া ইউনিয়নের গ্রাম থাকলেও পারাপারের অভাবে ওই সকল এলাকার শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে বাসুপাড়া ইউনিয়নের বিদ্যালয়গুলোতে পড়ছে।
মোহনপুর-মানসিংপুর নি¤্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্বাস উদ্দিন জানান, দয়েরঘাটে ব্রিজ না হওয়ার কারণে মানসিংহপুর গ্রামের ওপারের অংশের শিক্ষার্থীরা নিজ গ্রামের প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নের সুযোগ পাচ্ছেনা। অচিরেই ওই স্থানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা প্রয়োজন বলে তিনি বলেন। পীরগঞ্জ কলেজের শিক্ষার্থী মিলন ও ভবানীগঞ্জ ব্রাইট প্রি-ক্যাডেট কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জাহিদ ইকবাল সৈকত জানান, প্রতিদিন উপজেলা সদরের স্কুলে বাই-সাইকেল নিয়ে যেতে হয়। মাঝে মাঝে হেঁটেও যেতে হয় স্কুলে। বর্ষা মৌসুমে নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে স্কুলের সময় পার হয়ে যায়। স্থানীয়রা জানান প্রায় দশ বছর ধরে মাটি পরীক্ষা ও মাপামাপি করা দেখছি কিন্ত সেতু নির্মাণের কোন লক্ষন দেখা যায়না।
যোগাযোগ করা হলে বাগমারা উপজেলা প্রকৌশলী সানোয়ার হোসেন জানান, দয়েরঘাটের ওই সেতু নির্মাণের জন্য একাধিকবার প্রজেক্ট প্ল্যানিং পাঠানো হয়েছে। কিন্ত অনুমোদন হচ্ছে না। অনুমোদন হয়ে আসলেই কাজ আরম্ভ হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ