বাগমারায় মটরশুটি চাষে লাভবান কৃষক

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৭, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

রাশেদুল হক ফিরোজ, বাগমারা



রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় মটরশুটি চাষে লাভবান হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কম খরচে অধিক লাভবান হওয়ায় বিভিন্ন শবজির পাশাপাশি মটরশুটি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে তারা। গত বছরের চেয়ে চলতি বছরে বাগমারায় দ্বিগুণ পরিমান জমিতে মটরশুটির চাষাবাদ করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে বাগমারায় ৪০ হেক্টর জমিতে মটরশুটির চাষাবাদ করা হয়েছে। গত মৌসূমে ছিল ২০ হেক্টর। কম খরচে মটরশুটি চাষে অধিক লাভবান হওয়ায় প্রতি মৌসূমেই কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। তবে উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নে মটরশুটির চাষাবাদ বেশি হয়েছে। এছাড়াও হামিরকুৎসা ইউনিয়ন, তাহেরপুর পৌরসভা, ভবানীগঞ্জ পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে মটরশুটির চাষাবাদ করা হয়েছে।
গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের রামরামা গ্রামের আবদুল মজিদ জানান, চলতি মৌসূমে ১৪ কাঠা জমিতে মটরশুটির চাষ করে উৎপাদন খরচ বাদে দ্বিগুণ লাভের দেখা মিলেছে। অন্য ফসলের পাশাপাশি এ বছরই তিনি প্রথম মটরশুটির চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন বলে জানান। তিনি জানান, গত তিন বছর আগে সাজুড়িয়া গ্রামের মজনুর রহমান প্রথম মটরশুটির চাষ করেন। তার দেখাদেখি পরে অনেকেই মটরশুটি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। সাজুুড়িয়া গ্রামের আজাদ ১০ কাঠা, রহিম উদ্দিন ১০ কাঠা, রামরামা গ্রামের সাইফুল ইসলাম ৯ কাঠাসহ ওই এলাকার অনেকেই চলতি মৌসূমে আগাম মটরশুটি চাষে লাভবান হয়েছেন। কৃষকরা জানান, বীজ বপণের অন্তত ৭০ দিন পর থেকেই গাছে ফল পাওয়া যায়। বিঘা প্রতি ৩০/৩৫ মণ মটরশুটি পাওয়া যায়। ফল আসার পর প্রতি সপ্তায় খেত থেকে ফল উঠানো যায়। শুরুতেই দুইশ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে পঁচিশ থেকে ত্রিশ টাকা কেজি দরে খুচরা বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে। কৃষকদের উৎপাদিত মটরশুটি রাজধানী ঢাকায় রফতানি করা হয়। বেচাকেনার জন্য স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠেছে আড়ত।
তালতলি বাজারের আড়তদার ইব্রাহিম হোসেন জানান, তার আড়ত থেকে প্রতি সপ্তায় ট্রাকযোগে ঢাকার কাওরান বাজার, যাত্রাবাড়িসহ বিভিন্ন আড়তে মটরশুটি পাঠানো হয়। বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে ব্যবসায়ীরাও অধিক লাভের আশায় আড়ত থেকে কিনছেন মটরশুটি। নাটোরের ব্যবসায়ী আকবর হোসেন জানান, বাগমারা থেকে ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে লাভ পাওয়া যাচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ