বাগমারায় মাইকিং করে জলাবদ্ধতা নিরসনে কয়েকটি দিঘি কেটে দিল গ্রামবাসী

আপডেট: অক্টোবর ১৫, ২০১৯, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ

বাগমারা প্রতিনিধি


জলবদ্ধতা নিরসনে গ্রামবাসী একটি ব্রিজের বাঁধ ভেঙে ফেলে-সোনার দেশ

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের সাকোয়া এলাকায় মাইকিং করে জলাবদ্ধতা নিরসনে কয়েকটি দিঘি কেটে দিয়েছে কয়েক গ্রামের মানুষ। এসময় ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত রাখে।
ওই এলাকার দুই রাস্তার ওপর নির্মিত দুটি ব্রিজ ইট দিয়ে বন্ধ করে ২০১১ সাল থেকে ক্ষমতাশীন দলের স্থানীয় নেতাদের ছত্রছায়ায় সরকারি খাল দখলে নিয়ে কয়েকটি দিঘি বানিয়ে সেখানে মাছ চাষ করে আসছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ প্রভাবশালীরা। এতে করে কয়েক গ্রামে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়ায় মাঠের ফসল প্রতি বছরই তলিয়ে যায়। বর্তমানেও কৃষকের পাকা ধানসহ নানা ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। গতকাল সোমবার এলাকায় মাইকিং করে গোয়ালপাড়া, অনন্তপাড়া, সূর্যপাড়া, পিদ্দপাড়া, কামারবাড়ি, বৈলসিংহসহ কয়েক গ্রামের শত শত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ব্রিজের মুখ ও কয়েকটি দিঘির পাড় কেটে দেয়। এর আগে গত রোববার গ্রামবাসী ব্রিজের বন্ধ মুখ খুলতে গেলে দিঘির মালিকরা গোয়ালপাড়া গ্রামের নছির উদ্দিনের ছেলে খোকা ও কফির উদ্দিনের ছেলে আকরামকে পিটিয়ে আহত করে। আহতদের সেখান থেকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, উপজেলার ভবানীগঞ্জ রানী নদী হতে আত্রাই নদী পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার প্রবাহিত একটি খাল অতীতে ছোট নদীর মর্যাদা লাভ করেছিল। আত্রাই নদীর শাখা হিসেবে স্থানীয়রা এর নাম রাখেন তুলসীগঙ্গা নদী। স্থানীয় প্রভাবশালীরা ওই খালটির প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকার শিকদারী থেকে কালিগঞ্জ রাস্তার ওপর নির্মিত ব্রিজ ও বলিদাপাড়া থেকে কাঠালবাড়ী রাস্তার ওপর নির্মিত ব্রিজ স্থায়ীভাবে ইট দিয়ে বন্ধ করে দিয়ে মাছ চাষ করছে। খালের পার্শ্ববর্তী আংশিক জমি মালিকদের ম্যানেজ করে খালের পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়ায় প্রতিবাদ জানিয়েছে আরো জমি মালিক ও ব্রিজের অপর প্রান্তের কৃষকরা। নদী ও খাল সংরক্ষণ আইনে পানির গতিপথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা ও সরকারি ব্রিজের নিচে বাঁধ নির্মাণ করে বন্ধ করা আইন পরিপন্থী হওয়া সত্ত্বেও আইনকে পাশ কাটিয়ে মাছের চাষ করছেন মাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আসলাম আলী আসকান ও প্রভাবশালী কয়েকজন। অপর দিঘিওয়ালারা হলেন, সাবেক সেনা সদস্য ও ব্যবসায়ী বাবু, আবেদ আলী, ফরহাদ হোসেন মজনু ও মেহের হাজী।
কাঠালবাড়ি গ্রামের ওমর আলী জানান, এক সময় খালে মাছ ধরে তা বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাতাম। কিন্তু এখন পরিবার নিয়ে বেকায়দায় পড়েছি। সরকারি আইনে তা উন্মুক্ত থাকার কথা থাকলেও ব্যক্তি বিশেষের স্বার্থে খালটি বন্ধ করে মাছ চাষের জন্য দখল করা হয়ছে বলে জানান তিনি। খাল সংলগ্ন জমি মালিক রহিদুল জানান, খালের পাড়ে জমি থাকা সত্ত্বেও আমাদের মতামত উপেক্ষা করে ব্রিজের মুখ বন্ধ করা হয়েছে। গোয়ালপাড়া গ্রামের কৃষক মকছেদ আলী, আলতাফ হোসেন, রফিকুল, শমসেরসহ কয়েকজন জানান, বর্তমানে আমাদের এলাকায় সমস্ত পাকাধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
মাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আসলাম আলী আসকানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান জানান, এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য কয়েকটি স্থান কেটে দিয়েছে। সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ