বাঘার চরে চিনা বাদামের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

আপডেট: মে ১৩, ২০১৯, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা


রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার চরে উপযোগী আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে চিনা বাদাম চাষে দ্বিগুন ফলনের আশা করেছেন চাষিরা। চলতি মৌসুমে বাদামের বাম্পার ফলনে আশাবাদী কৃষকরা। চরের ৫০ হেক্টর জমিতে চিনা বাদামের চাষ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানা যায়, চলতি মৌসুমে ৪৫ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু তার চেয়ে ৫ হেক্টর জমিতে বেশি চাষ হয়েছে। ভালো ফলনের আশায় এই মৌসুমে চিনা জাতের বাদামের আবাদ হয়েছে। আবার অনেকে ত্রিদানা জাতের বাদামের আবাদ করেছেন।
উপজেলার পদ্মার ১৫টি চর নিয়ে চকরাজাপুর ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের চারদিক দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে পদ্মা নদী। পদ্মা নদীর মধ্যে দাদপুর, পলাশি, পলাশি ফতেপুর, নিচপলাশি, কালিদাশখালি, চকরাজাপুর, বিমানপাড়া, চৌমাদিয়া, টিকটিকিপাড়া, দিয়াড়কাদিরপুর, কাদিরপুর, মানিকেরচর, তেমাদিয়াচরগুলোতে ব্যাপক বাদামের চাষ করা হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছর ভাল দাম থাকায় চাষিরা বাদাম চাষে ঝুঁকেছে।
পদ্মার চরে স্থানীয় কৃষক আসলাম হোসেন, মজিবর রহমান, শফিকুল ইসলাম, সালাউদ্দীন, শহিদুল ইসলাম, ফজলু মেম্বার, আবদুল আওয়াল, ইদ্রিস আলী, জালাল উদ্দীন, জহুরুল মালিথা, বারেক মোল্লাসহ শতাধিক ব্যক্তি চিনা বাদামের চাষ করেছেন।
চকরাজাপুর চরে বাদাম চাষি ফজলু মেম্বার জানান, তিনি চলতি মৌসুমে আট বিঘা জমিতে বাদামের চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতা নিয়ে উপযুক্ত পরিচর্যা করায় বাদাম খেতে পোকার আক্রমণ কম হয়েছে। তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছি।
চাষি শহিদুল মোল্লা জানান, চরে বিঘা প্রতি সাত থেকে আট মণ বাদাম হয়। প্রতি মণ বাদামের বাজার মূল্য আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা। বাদাম পরিচর্যায় খরচ ও সময় কম লাগে।
চকরাজাপুরের ইদ্রিস আলী, জালাল উদ্দীন, বারেক মোল্লা যৌথভাবে ৫০ বিঘা জমিতে বাদামের আবাদ করেছেন। তাদের খরচ হয়েছে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই জমিতে ৬০০ মণ বাদাম পাওয়ার আশা করছেন। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে সাড়ে ১২ লাখ টাকায় বিক্রি হবে বলে আশা করছেন চাষিরা।
চকরাজাপুর চরের বাদাম চাষি আসলাম উদ্দিন বলেন, চলতি মৌসুমে বাদাম খেতে পোকার আক্রমণ কম। সার্বক্ষণিক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেখভাল করেন এবং পরামর্শ দেন। রাজস্ব খাতের অর্থায়নে ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণের সহযোগিতায় রোপণ করা ৫০ শতাংশ জমি প্রদর্শনী খেত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
চকরাজাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, চরে শুধু বাদাম নয়, আলু, বেগুন, পটল, ধান, গম, সরিষাসহ বিভিন্ন সবজি চাষ হয়। সমতলের চেয়ে চরে বেশি চাষ হয়। ফলনও ভালো হয়। আমি নিজেও এক বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লা সুলতান বলেন, চরে ৫০ হেক্টর জমিতে বাদামের চাষ হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চাষিরা সময়মত যতœ নিচ্ছেন। পদ্মার চরে আগাম জাতের বাদাম চাষে বাম্পার ফলনের আশা করছি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ