বাঘার পদ্মার চরে কৃষি বিপ্লব

আপডেট: মার্চ ১, ২০১৯, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা


রাজশাহীর বাঘা উপজেলার দক্ষিণ প্রান্ত দিয়ে বয়ে চলেছে পদ্মা নদী। পদ্মার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে বিস্তীর্ণ চর। এক সময় পদ্মা প্রমত্তা থাকলেও এখন তা শুকিয়ে পলি জমে আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। নদীতে চর জেগে ওঠা এসব জমিতে এখন সারা বছর উৎপাদন হচ্ছে নানা প্রকার সবজিসহ বিভিন্ন ফসল। যা স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রফতানি করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
বাঘা উপজেলার নদী তীরবর্তী চকরাজাপুর ইউনিয়নের চকরাজাপুর, পলাশি ফতেপুর, দাদপুর, কালিদাসখালী, কলিগ্রাম, টিকটিকিপাড়া, করারি নওসারা, সরেরহাট, চাঁদপুর, চৌমাদিয়া চরে আলু, বেগুন, টমেটো, কফি, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, সিম, করলা, পুঁই ও লালশাকসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হচ্ছে। এরমধ্যে পেঁয়াজ ও রসুনে বিপ্লব ঘটেছে। পাশাপাশি চাষ হচ্ছে গম, ছোলা, মসুর, আখ, সরিষা ও বাদাম।
চকরাজাপুর চরের শরিফ শেখ জানান, এক সময় পদ্মার চরের জমিতে শুধু ধান, গম আর আখ চাষ করা হতো। কিন্তু এখন এ সকল জমিতে আম বাগান, পেঁয়ারা বাগান, বরই বাগান, কলা বাগানসহ নানা রকম সবজি চাষ হচ্ছে। শীত মৌসুমে নদী বিধৌত চর জুড়ে আবাদ হচ্ছে নানা রকম সবজি।
পলাশি ফতেপুরের চরের আনোয়ার শিকদার হোসেন জানান, আমি পদ্মার চরে ৪০ বিঘা জমিতে আবাদ করি। আমি শুধু অর্থকরি ফসলের পাশাপাশি বিভিন্ন সবজি জাতীয় ফসল উৎপাদন করি।
দাদপুর চরে সাবেক ইউনিয়ন মেম্বার রেজাউল করীম জানান, পদ্মার চরের জমিতে রোপণ করা হচ্ছে গম, ছোলা, মসুর, আখ ও বাদাম। চাষিরা বর্তমানে লাঙলের পরিবর্তে আধুনিক পদ্ধতিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করে। ফলে চাষাবাদের খরচ কমেছে। এ ছাড়া সেচের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে শ্যালো মেশিন। শ্যালোমেশিনে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় ডিজেল। ডিজেলের দাম বেশি হওয়ায় সেচ খরচ বেশি পড়ে। তবে চাষের খরচ এবং শ্রমিক কম লাগার কারণে চরের জমিতে উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক কম। ফলে চাষ করে লাভবান হচ্ছে চাষিরা।
চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মুস্তাফিজুর রহমান জানান, আমি শিক্ষকতার পাশাপাশি এ বছর ছয় বিঘা জমিতে পেঁয়াজ, তিন বিঘা জমিতে রসুন, এক বিঘা জমিতে লাও এবং চার বিঘা জমিতে আলুর আবাদ করেছি। পেঁয়াজ ও রসুনের ফলন ভাল হয়েছে। এ চরে শুধু আমি না, আমার মতো অনেকেই অর্থকরি ফসলের পাশাপাশি সবজি চাষ করছেন।
চকরাজাপুর চরের আম্বিয়া বেগম বলেন, আমার বাড়ি ভিটা ছাড়া কোনো জমি নেই। বাড়ির পাশ দিয়ে কাঠা দু’য়েক জমির উপর লাউ চাষ করেছি। ইতোমধ্যে ৩ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছি। আরো যে পরিমাণ লাউ আছে, দেড়-দুই হাজার টাকায় বিক্রি হবে। সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন লাউ বিক্রি করতে হয়। বিক্রি করতে কোনো অসুবিধা হয় না। পাশে চকরাজাপুর বাজারে বিক্রি করি। আবার কোনো কোনো সময়ে বাড়ি থেকে কিনে নিয়ে যায় ক্রেতারা।
চকরাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল আয়ম জানান, পদ্মার চর দেখলে এখন আর চর মনে হবে না। চারদিকে ফসলের চাষ হচ্ছে। গড়ে উঠেছে অনেক আমবাগান। ফলে চরে সবুজের বিপ্লব ঘটছে। শীত মৌসুমে নানা প্রকার সবজি বিপুল পরিমাণ উৎপাদন হয় পদ্মার চরে।
বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লা সুলতান জানান, চরের জমি খুবই উর্বর। এ চরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে যে কোনো ফসল বেশি হয়। তবে গত কয়েক বছর যাবত পদ্মার চরে নীরব বিপ্লব ঘটছে। উপজেলার সমতল এলাকায় যে, পরিমাণ সবজি চাষ হয়, তার চেয়ে বেশি সবজি হয় চকরাজাপুর চরে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ