বাঘায় অতিথি পাখি নিধন : এলাকাবাসী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চায়

আপডেট: অক্টোবর ১৩, ২০১৯, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ

বাঘা প্রতিনিধি


রাজশাহীর বাঘায় অতিথি পাখি শামুকখোল নিধনের অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার খোর্দ্দবাউসা এলাকায় একটি অসাধু চক্র অবাধে এ পাখি নিধন করছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এরফলে অতিথি পাখির বিচরণ কমে যাচ্ছে।
আড়ানী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতান হোসেন বলেন, ৫ বছর থেকে খোর্দ্দবাউসা গ্রামের আশেপাশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আম ও বাঁশ বাগানে প্রায় ২০ হাজার অতিথি পাখি আশ্রয় নিয়েছে। সারাদিন এ এলাকায় পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে থাকে এলাকা। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয়সহ বিভিন্ন স্থান থেকে এসে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি প্রতিদিন এ পাখি শিকার করছে।
স্কুল শিক্ষক সাহাদত হোসেন বলেন, স্থানীয়দের সহায়তায় কিছু ব্যক্তি পাখি শিকার করে থাকে। এলাকার কিছু কিছু বাড়িতে প্রায় দিনই এ অতিথি পাখির মাংস পাওয়া যায়।
আড়ানী ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সোহেল রানা বলেন, ৫ বছর যাবত আফ্রিকা ও সাইব্রেরিয়া থেকে শামুলখোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির ছোট বড় অতিথি পাখি এসে আশ্রয় নিয়েছে। এগুলো বেশির ভাগই হাঁস প্রজাতির। অনেকগুলো দেখতে রাজহাঁস ও বাজ হাঁসের মতো। খোর্দ্দবাউসা এলাকায় বিশাল আম ও বাঁশ বাগনে এ পাখি আশ্রয় নিয়েছে।
খোর্দ্দবাউসা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মতিন বলেন, গত কয়েক দিন থেকে অতিথি পাখি শিকার করার কারণে বর্তমানে পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। প্রশাসনিকভাবে অতিথি পাখির অভয়াশ্রম ধরে রাখতে শিকার বন্ধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
খোর্দ্দবাউসা গ্রামের ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সেতু আহম্মেদ বলেন, প্রশাসনের কোনো প্রকার তদারকি না থাকায় যে কেউ তাদের খেয়াল খুশি মত অতিথি পাখি শিকার করে নিয়ে যাচ্ছে। অতিথি পাখি আসার ব্যবস্থা ধরে রাখতে হলে সরকারিভাবে পাখি নিধন বন্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে।
রাজশাহী শহর থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা শাহাবুদ্দিন জানান, উড়ার সময় অতিথি পাখি দেখতে অনেক সুন্দর দেখায়। কিন্তু বেড়াতে এসে জানলাম কিছু লোক এ পাখি শিকার করে নিয়ে যাচ্ছে। পাখি নিধন বন্ধ করা না গেলে এক সময় নিরাপত্তার অভাবে পাখি আসা বন্ধ হয়ে যাবে।
আড়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক রফিকুল ইসলাম বলেন, শুনেছি কিছু অসাধু ব্যক্তি পাখি ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে পাখি শিকার বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল তৈরি করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি করছি।
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, পাখির অভয়াশ্রম ধরে রাখতে এবং অতিথি পাখি শিকার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অতিথি পাখি নিধনের বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। এছাড়া অতিথি পাখি নিধনের খবর পেলে তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।