বাঘায় অতিথি পাখি নিধন প্রশাসনের স্বউদ্যোগি ভূমিকা চাই

আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০১৯, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আইন আছে, অথচ তার প্রয়োগ নেইÑ তাহলে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আর কার্যকর থাকে না। প্রয়োজনে আইন হয়, প্রয়োজনে ওই আইনের যথাযথ প্রয়োগও হওয়া চায়। তবেই আইনের উদ্দেশ্যটা জনগণের সামনে আসে এবং সেটা জনমনে উপলুব্ধ হয় যে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ মানুষের জন্য, ভূ-বৈচিত্র রক্ষার জন্য কতটুকু প্রয়োজন।
বরেন্দ্র অঞ্চলে পাখিদের সমারোহ এখনো চোখে পড়ার মত। পাখি ছাড়া প্রকৃতিকে কল্পনা করা যায় না। পাখি শুধু নিজের প্রয়োজনে পাখনা মেলে নাÑ ওই পাখনায় মানুষের স্বপ্নকেও জাগিয়ে তোলে। পাখির কাছ থেকেই আকাশে উড়ার প্রেরণা। এই প্রেরণাই মানুষকে আকাশ জয় করতে শিখেয়েছে এবং মানুষ সেটি পেরেছে। কিন্তু সেই পাখিরই শত্রু এক শ্রেণির মানুষ যারা অবাধে পাখি শিকার করে। কেহ করে জীবন-জীবিকার অবলম্বন হিসেবে, আবার কেহ করে শিকারের নেশায়, পাখি-মাংস আস্বাদনের জন্য। এর সবই অবৈধ- বে আইনি।
যা আইন বিরোধী সে কাজ হচ্ছে কেন? সাধারণ মানুষই বলবে যে, যারা আইন প্রয়োগ করেন তারা বিষয়টি যথাযথভাবে দেখেন না। পাখি শিকারীরা এই সুযোগটা কাজে লাগান। শিকারী যদি এলাকার প্রভাবশালী হয় তা হলে কথাই নেইÑ নির্বিঘ্নে পাখি শিকার হয়। এমনই একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী রাজশাহীর বাঘায় অতিথি পাখি নিধন হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার খোর্দ্দবাউসা এলাকায় একটি অসাধু চক্র অবাধে এ পাখি নিধন করছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এরফলে অতিথি পাখির বিচরণ কমে যাচ্ছে। তথ্যমতে ওই এলাকায় গত ৫ বছর থেকে ওই গ্রামের আশপাশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আম ও বাঁশ বাগানে প্রায় ২০ হাজার অতিথি পাখি আশ্রয় নিয়ে আছে। সারাদিন পাখির কলকাকলিতে ওই এলাকা মুখরিত হয়ে থাকে।পাখির এই সমারোহ বাইরের লোককেও আকুষ্ট করছেÑপর্যটকরা ওই এলাকায় গিয়ে পাখিদের সাহচার্যে সময় কাটিয়ে তৃপ্ত হচ্ছেন। কিন্তু স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তির সহযোগিতায় বহিরাগতরা গিয়ে পাখি নিধন করছেন।
রাজশাহী অঞ্চলকে পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা বলা হচ্ছে। এ অঞ্চলে যেমন অসংখ্য পুরাকীর্তি রয়েছে তেমনি এর ভূ-বৈচিত্র যা পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মত। এগুলোকে ব্রান্ডিং করা গেলে এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে। কিন্তু এর জন্য সবচেয়ে আগে যেটা প্রয়োজন এ অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতির অন্যন্য বৈচিত্র রক্ষা করতে হবে। দেশি- বিদেশি পাখি প্রাকৃতিক বৈচিত্রেরই একটা উল্লেখযোগ্য অংশ। এদের সুরক্ষা দিতে হবে। কেহ অভিযোগ করলেই কেবল অ্যাকশন হবে- এমন ধারণা পোষণ করলে প্রাকৃতিক সম্পদ ও বৈচিত্র রক্ষা করা যাবে না। যারা এটি রক্ষার দায়িত্বে আছেন তাদেরকেই স্বউদ্যোগে পাখি নিধনের মত অবৈধ কাজ বন্ধ করতে হবে। বরং তাদেরই উচিৎ হবে স্থানীয়দের এ কাজে সম্পৃক্ত করে ওই এলাকা পাখিদের জন্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ