বাঘায় চলতি মৌসুমে খেজুরগুড়ে আয় ২০ কোটি টাকা

আপডেট: জানুয়ারি ১৩, ২০১৯, ১:০১ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা


ঢাকাসহ অন্যান্য জেলায় বিক্রির জন্য প্যাকেটজাত করা হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাঘার খেজুর গুড়- সোনার দেশ

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় চলতি মৌসুমে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চলছে খেজুর গুড় উৎপাদনে ব্যস্ততা। উপজেলার খেজুর গুড়ের খ্যাতি দেশজুড়ে। এই শীত মৌসুমে খেজুর গুড় থেকে সরকারিভাবে সাড়ে ১৫ কোটি টাকা আয় হবে। তবে বেসরকারি হিসেবে প্রায় ২০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এমন কথা বলেন স্থানীয় গুড় ব্যবসায়ীরা।
উপজেলায় দু’টি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে ৩০ হাজার ৩৮৯ জন কৃষক পরিবার রয়েছে। খেজুর বাগান রয়েছে চার হাজার। এছাড়া সড়কপথ, পতিত জমি ও বাড়ির আঙিনা মিলে দেড় লক্ষাধিক খেজুরগাছ আছে। একজন গাছি প্রতিদিন ৫০ থেকে ৫৫টি খেজুর গাছের রস আহরণ করতে পারেন। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চার হাজার গাছি রস সংগ্রহে ব্যস্ত রয়েছে। প্রতি মৌসুমে তারা খেজুর গাছের ওপর নির্ভরশীল হয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একেকজন কৃষক তাদের গাছের সংখ্যা অনুপাতে গাছি নিয়োগ করেন। তারা মৌসুম জুড়ে রস সংগ্রহ ও গুড় উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত থাকেন। উপজেলার আমের যেমন দেশজুড়ে খ্যাতি, তেমনি সুমিষ্ট খেজুর গুড়ের খ্যাতিও রয়েছে। উপজেলায় গুড়ের প্রধান হাট বাঘা ও আড়ানী হাট। এরপর রয়েছে মনিগ্রাম ও দিঘাসহ অন্যান্য হাট। সপ্তাহে রোববার ও বৃহস্পতিবার বাঘার হাট বসে। এ হাটেই সবচেয়ে বেশি গুড় বেচাকেনা হয়। উপজেলার বাঘা ও আড়ানী পৌরসভা ছাড়াও বাজুবাঘা, গড়গড়ি, পাকুড়িয়া, মনিগ্রাম, আড়ানী, বাউসা ও চকরাজাপুর ইউনিয়নের অন্যান্য হাটেও কম-বেশি গুড় বেচাকেনা হয়। তবে বেশি দাম পাওয়ার আশায় অনেকেই বাঘারহাটে গুড় বিক্রি করতে আসেন। বাঘার হাটে রোববার প্রতি কেজি খেজুর গুড় ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়। মৌসুমের একেবারে শুরুতে এ গুড়ের দাম প্রতি কেজি ৯০ থেকে ৯৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। প্রতি বছরই মৌসুমের শুরুতে বেশি দামে গুড় বিক্রি হলেও ভরা মৌসুমে দাম কিছুটা কমে যায়।
বাঘা বাজারের ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারী এনামুল হক বলেন, চলতি শীত মৌসুমে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ কোটি টাকার গুড় বেচা কেনা হবে। ফলে উৎপাদনকারী থেকে শুরু করে ব্যবাসায়ীরা প্রায় ২০ কোটি টাকা আয় করবেন।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা সামিমুল ইসলাম বলেন, সরকারি হিসেবে চলতি মৌসুমে খেজুর গুড় থেকে সাড়ে ২০ কোটি টাকা আয় হবে। উপজেলার ৩৫ হেক্টর জমিতে খেজুর গাছ রয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বাণিজ্যিকভাবে খেজুর গুড় উৎপাদনে সহায়তা দেয়া হলে এই শিল্পকে আরো লাভজনক করা সম্ভব। ফলে বিদেশেও গুড় রফতানি করা যেতে পারে। এছাড়া এই গুড় থেকে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাওয়া সম্ভব।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ