বাঘায় পদ্মার চরে চিনা বাদামের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

আপডেট: মে ৭, ২০১৭, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা


বাঘায় পদ্মার চরে চিনা বাদামের পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক-সোনার দেশ

বাঘা উপজেলার পদ্মার বালু চরে উপযোগী আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে চিনাবাদাম চাষে দ্বিগুণ ফলনের আশাবাদী কৃষকরা। এবার পদ্মার চরে ৫০ হেক্টর জমিতে চিনা বাদামের চাষ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পদ্মার চরে চলতি মৌসুমে ৪৫ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু তার চেয়ে ৫ হেক্টর বেশি জমিতে চাষ হয়েছে। ভালো ফলনের আশায় এই মৌসুমে চিনা জাতের বাদামের আবাদ হয়েছে বেশি। আবার অনেকে ত্রিদানা জাতের বাদামেরও আবাদ করেছেন। উপজেলার পদ্মার ১৫টি চর নিয়ে চকরাজাপুর ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের চারদিক দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে পদ্মা নদী। পদ্মা নদীর মধ্যে দাদপুর, পলাশি, পলাশি ফতেপুর, নিচপলাশি, কালিদাশখালি, চকরাজাপুর, বিমানপাড়া, চৌমাদিয়া, টিকটিকিপাড়া, দিয়াড়কাদিরপুর, কাদিরপুর, মানিকেরচর, তেমাদিয়াচরগুলোতে ব্যাপক বাদামের চাষ হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছর দাম ভালো থাকায় চাষিরা বাদাম চাষে ঝুঁকেছে।
পদ্মার চরে স্থানীয় কৃষক আসলাম হোসেন, মজিবর রহমান, শফিকুল ইসলাম, সালাউদ্দীন, শহিদুল ইসলাম, ফজলু মেম্বর, আবদুল আওয়াল, ইদ্রিস আলী, জালাল উদ্দীন, জহুরুল মালিথা, বারেক মোল্লাসহ শতাধিক ব্যক্তি চিনা বাদামের চাষ করেছেন।
চকরাজাপুর চরে বাদাম চাষি ফজলু মেম্বর জানান, তিনি চলতি মৌসুমে আট বিঘা জমিতে বাদামের চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতা নিয়ে উপযুক্ত পরিচর্যা করায় বাদাম খেতে পোকার আক্রমণ কম হয়েছে। তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছি।
আরেক চাষি শহিদুল মোল্লা জানান, চরের বালুতে বিঘা প্রতি জমিতে সাত থেকে আট মণ বাদাম হয়। প্রতি মণ বাদাম বাজার মূল্য আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। বাদাম পরিচর্যায় খরচ ও সময় কম লাগে।
পদ্মার চরের চকরাজাপুরের ইদ্রিস আলী, জালাল উদ্দীন ও বারেক মোল্লা যৌথভাবে ৫০ বিঘা জমিতে বাদামের চাষ করেছেন। তাদের খরচ হয়েছে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই জমিতে ৬শ মণ বাদাম পাওয়ার আশা করছেন তারা। বাজারদর ভালো থাকলে তাদের কাঁচা বাদাম বিক্রির আশা করছেন ১৫ লাখ টাকা। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে সাড়ে ১২ লাখ টাকায় বিক্রি হবে বলে আশা করছেন চাষিরা।
চকরাজাপুর চরের বাদাম চাষি আসলাম উদ্দিন বলেন, চলতি মৌসুমে বাদাম খেতে পোকার আক্রমণ কম হয়েছে। রাজস্ব খাতের অর্থায়নে ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণের সহযোহিতায় রোপণ করা ৫০ শতাংশ জমি প্রদর্শনীয় খেত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
পদ্মার চরের চকরাজাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন,  চরে শুধু বাদাম নয়, আলু, বেগুন, পটল, ধান, গম, সরিষাসহ বিভিন্ন সবজি চাষ হয়। সমতলের চেয়ে চরে বেশি চাষ হয়। ফলনও ভালো হয়। আমি নিজেও এক বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম বলেন, পদ্মার চরে ৫০ হেক্টর জমিতে বাদামের চাষ হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চাষিরা সময়মতো যতœ নিতে পারছেন। পদ্মার চরে আগাম জাতের বাদাম চাষে বাম্পার ফলনের আশা করছি।