বাঘায় পদ্মার চরে লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বাদাম চাষ || বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

আপডেট: February 15, 2020, 12:58 am

আমানুল হক আমান, বাঘা


বাঘায় পদ্মার চরে বাদাম খেতের পরিচর্যা করছেন দুই বাদাম চাষি-সোনার দেশ

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার চর এখন আর শুধুমাত্র বালুকাময় নয়, পরিণত হচ্ছে শস্যভূমিতে। চাষাবাদ হচ্ছে বিভিন্ন রকমের দানাজাতীয় শস্য। পদ্মার বিস্তৃত চরজুড়ে এ বছর ব্যাপক হারে বাদামের চাষাবাদ হয়েছে। কৃষি দফতর বলছে, লক্ষ্যমাত্রা ৫০০ হেক্টরের চেয়ে বেশি জমিতে বাদামের চাষ হয়েছে।
চরাঞ্চলের মাটিতে পলি পড়ায় বিগত সময়ের চেয়ে এ বছর বাদাম চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। বাদাম বিপ্লবের ফলে বালুস্বর্গ এখন সবুজে ছেয়ে গেছে। ফসল তোলা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দ্বিগুন ফলন ও লাভের আশা দেখছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে যে পরিমাণ বাদাম চাষ হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ বাদামের চাষাবাদ হয় পদ্মার চরাঞ্চলে। এ বছর ৫০০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও এর চেয়ে অনেক বেশি জমিতে বাদামের চাষ হয়েছে।
সরেজমিনে পদ্মার চরাঞ্চলের পলাশি ফতেপুর, করারি নওশারা, কালিদাদ খালি, চকরাজাপুর, দাদপুর ও টিকটিকিপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, এবছর অসংখ্য কৃষক বাদামের চাষ করেছেন। অনেকেই জমি বর্গা নিয়ে বাদাম চাষ করেছেন । ফসল ঘরে ওঠা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বহুগুনে ছাড়িয়ে যাবে।
চরাঞ্চলের চকরাজাপুর এলাকার কৃষক গোলাম মোস্তফা, শিক্ষক মজিবর রহমান, শফিকুল ইসলাম এবং কালিদাসখালি গ্রামের হাফিজুল ইসলাম, জালাল উদ্দীন, জহুরুল মালিথা, আকছেন শিকদার প্রত্যেকেই এ বছর বাদাম চাষ করেছেন। তারা জানান, বিগত যে কোন বছরের তুলনায় এবার পদ্মার চরে বাদাম চাষ বেশি হয়েছে। গত বছর বাজারে বাদামের দাম ভাল পাওয়ায় এবার অধিকাংশ কৃষক বাদাম চাষে আগ্রহী হয়েছেন বলে জানান।
চরাঞ্চলের চকরাজাপুর ইউনিয়ন সদস্য ফজলুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৮ বিঘা জমিতে বাদামের চাষ করেছেন। উপযুক্ত পরিচর্যা করায় বাদাম খেতে পোকার আক্রমণ কম হয়েছে। এতে পুরোদমে সহযোগিতা পেয়েছেন উপজেলা কৃষি বিভাগের। অন্যান্য বছরের চেয়ে ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান জানান, বাদাম পরিচর্যায় খরচ ও সময় দুটোই কম লাগে। গত বছর বাদামের ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় কৃষকরা এবার আগাম বাদাম চাষ করেছে। একই সঙ্গে ফলন ভালো হওয়ায় চিনা জাতের বাদামের পাশাপাশি অনেকে ত্রি-দানা জাতের বাদামের আবাদও করেছেন। উপজেলা কৃষি দফতর বাদামের বীজবপন, পরিচর্যা ও কীটনাশক ব্যবহার সম্পর্কে কৃষকদের নানা পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ