বাঘায় পদ্মার চর ভাড়া নিয়ে মানুষের বসবাস

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা


রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার চর ভাড়া নিয়ে বসবাস করছে শত শত পরিবার। তারা সহায়-সম্বল হারিয়ে অনেকে ভূমিহীন মানুষের কাতারে শামিল হয়েছে। প্রতি বছর নদী ভাঙনে এইসব ভূমিহীন পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে। চরের মানুষ অন্যের জমিতে চুক্তি ভিত্তিক আশ্রয় নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।
উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন এইসব ভূমিহীন পরিবার। দফায় দফা নদী ভাঙনে শত শত পরিবার অন্যের জমি লিজ নিয়ে বছর চুক্তি বাড়ি করে বসবাস করছে। তারা কোনও রকম মাথা গোঁজার ঠাঁই নিলেও তাদের দুর্ভোগ অবর্ণনীয়। শুধু বাসস্থান নয়, তাদের কর্মসংস্থান, খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, স্যানিটেশন-কোনও ব্যবস্থাই ভালো নয়। কোনও রকম দিন মজুরি করে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। অন্যের জমিতে আশ্রয় নেয়া (চুক্তিভিত্তিক) ওইসব পরিবারের বাসস্থান বন্যার সময় তলিয়ে যায়। চকরাজাপুর চরের এলাকায় আশ্রয় নেয়া রেজাউল ইসলাম, কেন্দু প্রাং, আতর আলী, মাজেদ আলীসহ কয়েকজন জানান, ১৫ থেকে ১৬ বছর যাবৎ, বছর ভিক্তিক চুক্তি নিয়ে অন্যের জমিতে বাড়ি করে আছি। এতে ঠিকমতো সংসার চলে না। এছাড়া চুক্তিভিত্তিক জায়গায় বাড়ি-ঘরে মাটি কাটতে পারি না। তাই বন্যার সময় বাড়ি-ঘর তলিয়ে যায়। এতে জীবনযাপন অনেক কষ্টকর। সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা তেমন পায়না এসব মানুষেরা।
পদ্মার চরের মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিযুল আযম বলেন, পরিষদ থেকে যতুটুকু বরাদ্দ হয়, সেগুলো এসব মানুষদের মাঝে বন্টন করে দেয়া হয়। তবে অনেকেই জমি বন্দক নিয়ে বসবাস করছে। বিভিন্ন মৌজায় নদী ভাঙনে মানুষ কারও আঙিনা কিংবা বন্ধকি জমিতে বাড়ি করে আছেন। উপজেলার সাহায্যে তাদের সমস্যা সমাধান হয় না। তাদের জন্য সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহিন রেজা বলেন, চরাঞ্চলের ভাংগনে সর্বহারা মানুষরা ভাড়া করে বসবাস করে এটা জানা নেই। তবে তাদের জন্য যতটুকু সরকারিভাবে বরাদ্দ আসে, সেগুলো সুষ্ঠুভাবে বন্টন করা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ