বাঘায় পদ্মার বালুচরে কৃষকরা কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছে

আপডেট: মার্চ ১২, ২০১৯, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা


বাঘায় পদ্মার চকরাজাপুর চরে বেগুনের খেত-সোনার দেশ

রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার বালুচরে কৃষকরা কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছেন। এক সময় পদ্মা ছিল দুঃখের কারণ। এখন সেই পদ্মার বুকে বিভিন্ন ফসল ফলিয়ে অভাব দূর করছেন কৃষকরা। অক্লান্ত পরিশ্রমে অসম্ভবকে সম্ভব করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন নদী ভাঙা সর্বহারা শত শত পরিবার। নদীর বুকে জেগে ওঠা পরিত্যক্ত বালুচরে উন্নয়নের স্বপ্নে ফসল বুনে ঘরে তুলছেন খেটে খাওয়া মানুষ। এছাড়া ফসল চাষ করে হাজার কোটি টাকা আয় করছে খেটে খাওয়া চরের মানুষরা।
পদ্মায় জেগে ওঠা এক সময়ের ধূ-ধূ বালুচরে এখন সবুজের সমারোহ। এইতো কয়েক বছর আগে যেখানে ছিল বালুচর, সর্বনাশা পদ্মার গ্রাসে ঘর-বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে অনেক পরিবার। এমনকি অভাব অনটন ছিল তাদের নিত্য দিনের সাথী। এখন তা বদলে গেছে। পদ্মার বালুচরে বন্যায় পলী মাটি জমে উঠায় এইসব চর এখন উর্বর আবাদী জমিতে পরিণত হয়েছে। বালুচরে এখন শোভা পাচ্ছে সবুজের সমারোহ। পদ্মায় শীতকালে পানি থাকেনা।
নদীর তলদেশ শুকিয়ে জেগে ওঠে বালুচর। দির্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকা এইসব বালুচরে ফসল ফলানো দূরের কথা, ঘাসও জন্মাতো না। অথচ সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেই বালুচরে বেগুন, আলু, পেঁয়াজ, মরিচ, রমুন, হলুদ, শষা, শিম, কুমড়া চাষ করে সবুজে ভরে তুলেছেন কৃষকরা।
উপজেলার চকরাজাপুর চরের পরিবারগুলো বিশাল বালুচরকে কাজে লাগিয়ে অভাব দূর করছেন। নারীরা তাদের স্বামী-সন্তান নিয়ে শারীরিক পরিশ্রম করে বিভিন্ন ফসল ফলাচ্ছেন। সেই ফসল বিক্রি করে সফলতা পাচ্ছেন। চলতি মোৗসুমের শুরুতে ফসল চাষ করে চাষিদের মুখে এখন হাসির ঝলক।
চরের চাষি রবিউল ইসলাম জানান, বালুচরে কোন ফসল ফলানো যাবে এটা স্বপ্নেও ভাবিনি। এখন বালুচরে ফসল রোপণ করে অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা এনেছি। তারা আরো জানান, প্রতি বছরই বাড়ছে চাষের পরিধি। সেই সঙ্গে বাড়ছে ফলন। লাভের টাকা হাতে পেয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লা সুলতান জানান, গত কয়েক বছর থেকে বালুচরে পর্যাপ্ত, আলু, ধান, পাট, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন জাতীয় সবজি চাষ হচ্ছে। ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়, নদীর চরে বিভিন্ন ফসল চাষ করে সেটাই প্রমাণ করছেন খেটে খাওয়া চরের মানুষরা। তবে সরকারি সহায়তা পেলে ওইসব উদ্যোমী মানুষের হাতেই ভাগ্য বদলে যাবে বলে চরের মানুষের।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ