বাঘায় পদ্মার বালুচরে দরিদ্র কৃষকরা কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছে

আপডেট: ডিসেম্বর ৪, ২০১৭, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা


পদ্মার চরে বেগুনের খেত-সোনার দেশ

রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার বালুচরে দরিদ্র কৃষকরা কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছেন। এক সময় পদ্মা ছিল দুঃখের কারণ। এখন সেই পদ্মার বুকে বিভিন্ন ফসল ফলিয়ে অভাব দূর করছেন কৃষকরা। অক্লান্ত পরিশ্রমে অসম্ভবকে সম্ভব করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন নদীভাঙা সর্বহারা শত শত পরিবার। নদীর বুকে জেগে ওঠা পরিত্যক্ত বালুচরে উন্নয়নের স্বপ্নে ফসল বুনে ঘরে তুলছেন খেটে খাওয়া মানুষ। এছাড়া ফসল চাষ করে লাভবান হচ্ছে খেটে খাওয়া চরের মানুষ।
পদ্মায় জেগে উঠা এক সময়ের ধূ-ধূ বালুচরে এখন সবুজের সমারোহ। এইতো কয়েক বছর আগে যেখানে ছিল বালুচর, সর্বনাশা পদ্মার গ্রাসে ঘর-বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে অনেক পরিবার। এমনকী অভাব অনটন ছিল তাদের নিত্যদিনের সাথী। এখন তা বদলে গেছে। পদ্মার বালুচরে বন্যায় পলিমাটি জমে উঠায় এসব চর এখন উর্বর আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। বালুচরে এখন শোভা পাচ্ছে সবুজের সমারোহ।
নদীর তলদেশ শুকিয়ে জেগে ওঠে বালুচর। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকা এসব বালুচরে ফসল ফলানো দূরের কথা, ঘাসও জন্মাতো না। অথচ সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেই বালুচরে বেগুন, আলু, পেঁয়াজ, মরিচ, রসুন, হলুদ, শসা, সিম, কুমড়া চাষ করে ফসল তুলছেন কৃষকরা।
উপজেলার চকরাজাপুর চরের পরিবারগুলো বিশাল বালুচরকে কাজে লাগিয়ে অভাব দুর করছেন। এই সকল পরিবারের নারীরা তাদের স্বামী-সন্তান নিয়ে শারীরিক পরিশ্রম করে বিভিন্ন ফসল ফলাচ্ছেন। সেই ফসল বিক্রি করে সফলতা পাচ্ছেন। চলতি মোৗসুমের শুরুতে ফসল চাষ করে চাষিদের মুখে এখন হাসির ঝলক।
চরের চাষি রবিউল ইসলাম জানান, বালুচরে কোন ফসল ফলানো যাবে এটা স্বপ্নেও ভাবিনি। এখন বালুচরে ফসল আবাদ করে অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতা এনেছি। তারা আরো জানায়, প্রতি বছরই বাড়ছে চাষের পরিধি। সেই সঙ্গে বাড়ছে ফলন। লাভের টাকা হাতে পেয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম জানান, গত কয়েক বছর থেকে বালুচরে আলু, ধান, পাট, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন জাতীয় সবজি অর্থকরি ফসলের চাষ হচ্ছে। ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়, নদীর চরে বিভিন্ন ফসল চাষ করে সেটাই প্রমাণ করছেন খেটে খাওয়া চরের মানুষ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ