বাঘায় পাখির ‘বাসাভাড়া’ বছরে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে প্রতিবেদন প্রেরণ

আপডেট: নভেম্বর ১২, ২০১৯, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা


রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খর্দ্দোবাউসা গ্রামে আমবাগানের সেই পাখির জন্য ‘বাসাভাড়া’ বছরে ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা বরাদ্দ চেয়ে ঢাকায় প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বরাদ্দ চেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে এই প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলে গতকাল সোমবার জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান।
এই টাকা আমবাগানের মালিক ও ইজারাদারদের দেয়া হবে। ফলে আর কেউ বাসা থেকে পাখি তাড়াতে পারবে না। যত দিন ইচ্ছা পাখি এ বাসায় থাকবে। সরকার প্রতি বছর এই ব্যয় বহন করবে। আমবাগানে দলবেঁধে শামুকখোল অতিথি পাখি বাসা বেঁধেছে। গত চার বছর ধরে পাখিরা এই বাগানে বাচ্চা ফোটাতে আসে। বর্ষায় মৌসুমে এসে বাসা বানিয়ে বাচ্চা ফোটায়। শীতের শুরুতে বাচ্চা উড়তে শিখলে আবার তারা বাচ্চা নিয়ে চলে যায়।
এবারও পাখি বাসা বেঁধে বাচ্চা ফুটিয়েছে। বাচ্চা এখনো উড়তে শেখেনি। কিন্তু ইজারাদার এ সময় বাগানের পরিচর্যা করতে চান। বাগান মালিক বাসা ভেঙে আম গাছ খালি করতে চান। গত ৩০ অক্টোবর বাগান ইজারাদার একটি গাছের কিছু বাসা ভেঙে দেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় পাখি প্রেমী কিছু মানুষ বাগান ইজারাদারকে বাসা না ভাঙার জন্য অনুরোধ করেন। তাদের অনুরোধে ইজারাদার পাখি বাসা ছাড়ার জন্য ১৫ দিন সময় বেঁধে দেন। ১৫ দিনের মধ্যে বাসা না ছাড়লে পাখিদের বাসা ভেঙে দেয়ার ঘোষণা দেন।
এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে আদালতের নজরে এনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার আরজি জানান সুপ্রিমকোর্টে। আদালত পাখির বাসা না ভাঙতে রুলসহ এক আদেশ জারি করেন। আদেশে কেন ওই এলাকাকে পাখির অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। এটিকে অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হলে বাগান মালিক ও বাগান ইজারাদারের ক্ষতির সম্ভাব্য পরিমাণ নিরূপণ করে ৪০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, ৩৮টি আম গাছে পাখি বাসা বেঁধেছে। আমের সম্ভাব্য দাম ও পরিচর্যার ব্যয় নিরূপণ করা হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা ক্ষতি হতে পারে। সেই অনুযায়ী জেলা প্রশাসক প্রতিবেদন ঢাকায় কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। এ টাকা বরাদ্দ এলে বাগান মালিক ও ইজারাদারদের দেয়া হবে।