বাঘায় পাট কাটতে ব্যস্ত চাষিরা: লক্ষ মাত্রার চেয়ে বেশি চাষ

আপডেট: আগস্ট ৪, ২০১৮, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ

বাঘা প্রতিনিধি


রাজশাহীর বাঘায় চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫৭০ হেক্টর বেশি জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। উপজেলায় পাট চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই হাজার ৬২৫ হেক্টর। আবাদ হয়েছে তিন হাজার ১৯৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে হেক্টর প্রতি তিন টন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, পাট পণ্যের দ্বিগুণ রফতানি বৃদ্ধি, পণ্যের মোড়কে পাটের ব্যাগ বাধ্যতামূলকসহ ব্যবহারে বহুমাত্রিকতায় এবার পাটের আবাদ বেশি হয়েছে। এরমধ্যে কিছু জমিতে ৫২৪ জাতের পাট রোপণ করা হয়েছে। ভারতীয় জাতের পাট আবাদ হয়েছে বেশি। পাশাপাশি দেশি তোষা পাটের চাষ হয়েছে কম। উদ্ভাবিত ৫২৪ জাত সাধারণ তোষা পাটের জাত থেকে কমপক্ষে ২০ শতাংশ বেশি ফলন হয়। এর উচ্চতা সাধারণ পাটের চেয়ে ২০ সেন্টিমিটার বেশি। সাধারণ তোষা পাট কাটার সময়ের তুলনায় নতুন এই জাত ২০ দিন আগে কাটা যায়। সময় বেঁচে যাওয়ায় একই জমিতে আমন চাষে সুবিধা পান কৃষকরা। সাধারণ পাটের আগা চিকন ও গোড়া মোটা হয়। ৫২৪ জাতের আগা-গোড়া সমান।
শ্রাবনের ঝরা বৃষ্টির পানিতে এসব পাট পঁচিয়ে আগে ভাগে ঘরে তুলতে চায় কৃষকরা। এজন্য পাট কেটে জাগ দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন হাজারো কৃষক। তবে উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজার মূল্যের অসমতার কারণে শঙ্কায় রয়েছে কৃষকরা। গত দুই বছর আগেও সোনালি আঁশের ফলন ও দাম দুটোই ছিল কাঙ্খিত। পাটের সুদিন ফিরলো বলে আশায় বুক বেঁধেছিল চাষিরা । কিন্তু গত বছর বাজারে দাম না থাকায় সোনালি আঁশ নিয়ে স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে তাদের।
উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় দিগন্ত জোড়া পাট খেত। দেখে মনে হয় সবুজ গালিচা বিছিয়ে রাখা হয়েছে। মাঝে মাঝে বাতাস বয়ে যাওয়ায় হেলে দুলে উঠছে পাট পাতা ও গাছগুলো। এ গ্রামেরই কৃষক মোজাফফর। খেতে শ্রমিকের সঙ্গে নিজেও পাট কাটছেন। গতবারও এই জমিতে পাট চাষ করেছিলেন তিনি।
মোজাফফর হোসেন বলেন, এক বিঘা জমিতে পাট উৎপাদনে হাল চাষ, সার, বীজসহ ব্যয় হয়েছে দুই হাজার টাকা। জমিতে নিড়ানি দিতে খরচ হয়েছে তিন হাজার টাকা। পাট কাটা ও জাগ দিতে চার হাজার টাকা। ফলে এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে একজন কৃষকের ব্যয় হয় ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। অথচ একবিঘা জমিতে ভালো আবাদ হলে পাট পাওয়া যায় ৮ মণ। গতবার উঠতি বাজারে মণ প্রতি ১ হাজার ১শ টাকা থেকে এক হাজার ২শ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এতে কৃষককে বিঘা প্রতি ১ হাজার থেকে বারোশ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুণতে হয়েছে। এবার যে কি হবে সেটা নিয়ে শঙ্কায় আছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে মোজফফর হোসেন সাড়ে চার বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন।
গড়গড়ি গ্রামের পাট চাষি শফিকুল ইসলাম জানান, আষাঢ়ে বৃষ্টির দেখা না পেলেও শ্রাবনে বৃষ্টি পেয়ে পাট জাগ দিতে সুবিধা হচ্ছে। সবাই এখন পাট কেটে জাগ দেয়ার জন্য খালে-বিলে জমা হচ্ছে। তাই তাড়াতাড়ি করে পাট কাটা শুরু করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে ১২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন শফিকুল। পাট কেটে এই জমিতেই আমন ধান লাগাবেন বলে জানান তিনি।
একই এলাকার আরেক চাষি আফজাল হোসেন বলেন, এ বছর ১০ বিঘা জমিতে পাটের চাষ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন বেশ ভালো হয়েছে। বাজারে পাটের দাম ভালো হলে এ বছর একটু লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা করছেন তিনি।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে চাষিরা পাট পচাঁনোর জন্য ইতোমধ্যে পাট কাটতে শুরু করেছে। তবে পাট কাটা শ্রমিকের অভাব দেখা দিয়েছে। এর আগে যে শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা ছিল এখন ৩৫০ টাকা দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম বলেন, চলতি মৌসুমে পাটের রোগবালাই ও পোকা মাকড়ের আক্রমণ কম হয়েছে। ফলে পাটের ফলন ভালো হবে বলে মনে করেন তিনি। বাজার ভালো থাকলে আগামীতে আবারো বেশি আবাদ হবে।