বাঘায় প্রতিমণ পটল ১২০ টাকা

আপডেট: জুন ১৬, ২০১৯, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা


বাঘার খেতে ক্রেতার অভাবে অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে পটলগুলো-সোনার দেশ

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানীহাটে প্রতিমণ পটল ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে হাটে এ দামে পটল বিক্রি করেন চাষিরা।
আড়ানীহাটে পটলের পর্যাপ্ত আমদানি হলেও ক্রেতা না থাকায় কৃষকরা অল্প দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। আবার দাম কম হওয়ায় এ দামে বিক্রি করে। বাজারে কম হওয়ায় অনেক কৃষক জমি থেকে পটল উত্তোলন করছে না। জমিতে পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে হতাশায় ভুগছেন কৃষকরা।
গতকাল শনিবার আড়ানীহাটে প্রতিমণ পটল ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে আড়ানী হাটে ২২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকায় প্রতিমণ পটল বিক্রি হয়েছে।
আড়ানী গোচর গ্রামের কলিম উদ্দিন বলেন, পটলের বাজারদর এমন থাকলে চাষিদের লোকসান গুণতে হবে। প্রতিমণ পটল হাটে আনতে পরিবহন খরচ ২০ টাকা, খাজনা বাবদ দিতে হয় আর ২০ টাকা, জমি থেকে উত্তোলন করেত ২০ টাকা। ফলে ১২০ টাকা দরে পটল বিক্রি করলে কৃষকের বাজার করার মতো টাকা থাকে না।
শালাই নগর গ্রামের আসাদুল হক বলেন, প্রতি সপ্তাহে আমি ৭ থেকে ৮ মণ পটল বিক্রি করার জন্য হাটে আনি। আগের হাটগুলোতে দাম ভালো পেয়েছি। কিন্তু শনিবার হাটে দর খুবই কম, ক্রেতাও নেই তেমন।
পটলের দাম না থাকায় এক সময় মনে হলো- পটল রাস্তায় ফেলে চলে যাই। এ সময় এক ক্রেতা ১২০ টাকা দরে কিনে নিলো। পরিবহন খরচসহ অন্যান্য খরচ দিয়ে খালি বস্তা নিয়ে বাড়ি চলে আসি।
শাজাদপুর থেকে আসা পটলের ব্যাপারি আরিফুল ইসলাম বলেন, সপ্তাহে দু’দিন শনিবার ও মঙ্গলবার আড়ানী হাট থেকে হাট কিনে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাই। কম দামের মামামাল কিনে মোকামে নিয়ে গেলে রিক্স থাকে। কোনো কোনো সময় ক্যাশ হারিয়ে যায়। দুই সপ্তাহ আগে এ হাটে প্রতিমণ পটল ২২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা দরে কেনাবেচা হয়েছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে একই পটল বিক্রি হচ্ছে প্রতিমণ ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। আমি প্রায় ২৫০ মণ পটল কিনেছি।
আড়ানীর স্থানীয় ব্যবসায়ী টিটু আহম্মেদ বলেন, কম দামে পটল কিনেও শান্তি নেই। কারণ, ঢাকা-গাজীপুরের আড়তে ঠিকমতো পটল বিক্রি করতে পারছি না।
আড়ানী গোচর গ্রামের পটল চাষি সুজন আলী বলেন, আমি এক বিঘা জমিতে পটলের আবাদ করেছি। এ জমিতে মাচা তৈরি করতে প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন প্রতিমণ পটল বিক্রি করতে হচ্ছে ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকায়। ফলে এ বছর পটলের আবাদ করে লোকসান হবে।
বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, উপজেলায় এবার ২৫ হেক্টর জমিতে পটলের আবাদ হয়েছে। তবে অন্য বছরের চেয়ে এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু দাম কম হওয়ায় কৃষকরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে প্রথম দিকে পটলের ভালো দাম পেয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ