বাঘায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাটির স্তুপ: আগের ভবন ঝুঁকিতে

আপডেট: জুলাই ১২, ২০১৯, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা


বাঘার মুর্শিদপুর মনমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এভাবে মাটি স্তুপ করে রাখা হয়েছে-সোনার দেশ

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মুর্শিদপুর মনমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঢাকা পড়েছে মাটির স্তুপে। ফলে শিক্ষার্থীরা চলাচল ও খেলাধুলাতে করতে পারছেনা।
জানা যায়, উপজেলার মুর্শিদপুর মনমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমির পরিমান ৩৮ শতাংশ। শ্রেণি কক্ষ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট ফাঁকা জায়গাটি শিক্ষার্থীর খেলাধুলার জন্য খুবই সামান্য। তারপরও শিক্ষার্থীদের খেলাধূলা চলে সামান্য এ জায়গায়। কিন্তু সেটিও ঢাকা পড়েছে ঠিকাদারের মাটির স্তুপে। বিদ্যালয়টির শ্রেণি কক্ষের সামনে দীর্ঘদিন ধরে মাটি ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে দৈনন্দিনের সমাবেশ হয় না। তবে জাতীয় সঙ্গীতসহ অন্যান্য কাজ শ্রেণি কক্ষের ভেতরে করতে হয়। বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন ঘেষে গর্ত করা হয়েছে। ফলে আগের ভবনটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিদ্যালয়ে গত দুই মাস যাবত ধরে ভবনের পাশে মাটি কেটে গর্ত করে রাখা হয়েছে। কোমলমতি শিশুরা গর্তে পড়ে দৈহিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ঠিকাদারের ভবন নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখায় স্বাভাবিক পাঠদানে অসুবিধা হচ্ছে। এ বিষয়ে অভিযোগ করেও আমলে নিচ্ছেনা ভবন নির্মাণ ঠিকাদার।
মুর্শিদপুর মনমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোলাইমান হোসেন বলেন, দুই মাস আগে একতলা ভবন পুর্ননির্মাণের জন্য ৪ তলা ফাউন্ডেশনের ভিত্তি প্রস্তরের মাটি কাটা হয়েছে। এ মাটি বিদ্যালয়ের মাঠে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। গত রমজানের ছুটিতে বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। এরমধ্যে কাজ করার জন্য ঠিকাদারকে বলা হলেও তিনি তা আমলে নেয়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবিএম সানোয়ার হোসেন বলেন, কাজটি দ্রুত করার জন্য ঠিকাদারকে বলা হয়েছে। কিন্তু মাটি পরীক্ষার অজুহাতে কাল ক্ষেপন করছে।
এ বিষয়ে ভবন নির্মাণ ঠিকাদার গোলাম মোস্তফা খান মন্টু বলেন, আশে পাশে কোনো খালি জায়গা না থাকায় বিদ্যালয়ের সামনের মাঠে মাটি রাখা হয়েছে। বিদ্যালয় বন্ধের মধ্যে কাজ শেষ করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু শ্রমিক সংকট ছাড়াও মাটি পরীক্ষার কারণে বিলম্ব হয়েছে। তবে দ্রুত কাজ শুরু করবো।
বাঘা উপজেলা প্রকৌশলী রতন ফৌজদার বলেন, এ উপজেলায় যোগাদানের পর ওই বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। বিদ্যালয়ের সামনের অবস্থা দেখে খারাপ লেগেছে। ঠিকাদারকে বারান্দার সামনে টিন দিয়ে ঘিরে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিন রেজা বলেন, বিষয়টি জানার পর প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ