বাঘায় ভূট্টা খেতে নারীর লাশ স্বামী-শ^শুর শাশুড়ি জা-কে জিজ্ঞাসাবাদ

আপডেট: জুন ১২, ২০১৯, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ

বাঘা প্রতিনিধি


রাজশাহীর বাঘায় ভূট্টা খেত থেকে গোলাপি বেগম (৪৫) নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের চক বাউসা গ্রামের মাঠ থেকে এ লাশ উদ্ধার করে বাঘা থানার পুলিশ। গোলাপি বেগম উপজেলার আড়ানী পৌরসভার পাঁচপাড়া গ্রামের বাকপ্রতিবন্ধী মোনির হোসেনের স্ত্রী।
আড়ানী পৌরসভার নারী কাউন্সিলর ও পাঁচপাড়া গ্রামের মর্জিনা বেগম বলেন, ঈদের আগে বুধবার (২৯ মে) রুস্তমপুর হাটে ৪২ হাজার টাকায় একটি গরু বিক্রি করে গোলাপি। পরের দিন বিদ্যুৎ বিল দেয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয় গোলাপি। এরপর আর বাড়ি ফিরে আসেনি। বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয়। কোথাও না পেয়ে গোলাপি বেগমের ভাসুর মাজদার রহমান বাদি হয়ে ১ জুন বাঘা থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন।
তিনি আরো বলেন, প্রায় ৪ মাস আগে গোলাপি বেগম ৬ বছরের ছেলে মারুফ হোসেনকে রেখে রুস্তমপুরের এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়া করে ঘর ছেড়ে চলে যায়। গোলাপি বেগমের স্বামী বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় পরে আমি ও স্থানীয় আ’লীগের নেতারা পুনরায় গোলাপিকে বুঝিয়ে স্বামীর বাড়িতে আনা হয়।
গোলাপি বেগমের শাশুড়ি মরিয়ম বেগম বলেন, আমার ছেলের বৌ-এর পেটে ৬ মাসের সন্তান রয়েছে। আমার ধারণা যার সঙ্গে পরকীয়া ছিল সে এমন কাজ করেছে। তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এর রহস্য বেরিয়ে আসবে।
গোলাপি বেগমের শ^শুর বিচ্ছাদ আলী বলেন, আমার ছেলে বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় গোলাপি নিজের ইচ্ছা মতো চলাফেরা করতো। আমরা প্রতিবাদ করলে আমাদের বিভিন্ন কথা শুনাতো। ফলে আমরা দেখেও না দেখার ভান করে চলতাম। এরমধ্যে আমার ছেলে ও নাতিকে রেখে অন্য একটি ছেলের সঙ্গে চলে গিয়েছিল। এলাকার লোজনকে ধরে পুনরায় ফিরে আনা হয়েছে। সর্বশেষ বিদ্যুতের বিল দেয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয় আর ফিরে আসেনি। পরে চকবাউসা গ্রামের লালু প্রামানিকের ভুট্টা খেতে লাশ পাওয়া গেলো।
এ বিষয়ে বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহসীন আলী জানান, খরব পেয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে লাশের পাশে থেকে একটি কালো বোরখা, এক জোড়া স্যান্ডেল, একটি গুলের কোটা পাওয়া যায়। তবে ওড়না দিয়ে গলা পেঁচানো ছিল। এ বিষয়ে ধারণা করা হচ্ছে অন্য জায়গায় তাকে হত্যা করে চকবাউসা গ্রামের লালু প্রামানিকের ভুট্টা খেতে লাশ ফেলে রাখা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে লাশ ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে গোলাপি বেগমের স্বামী মোমির হোসেন, শ^শুর বিচ্ছাদ আলী, শাশুড়ি মরিয়ম বেগম, জা সজেদা বেগমকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।