বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

বাঘায় সরকারি অনুদান পেতে টাকা গুনতে হচ্ছে হতদরিদ্রদের

আপডেট: April 20, 2019, 12:56 am

বাঘা প্রতিনিধি


সমাজসেবা দফতরে ৭৫ বয়সি বৃদ্ধের নালিশ-সোনার দেশ

৭৫ বছর বয়সের আমিন আলী নামের এক বৃদ্ধ গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে বাঘা উপজেলা সমাজসেবা অধিদফতরে এসে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান মেম্বারের কাছে কয়েক দফা ঘুরেও বয়স্ক ভাতার একটি কার্ড পান নি। তাই তিনি উপজেলা সমাজসেবা অফিসে এসেছেন।
এ অভিযোগ শুধু আমিন আলীর নয়, শত শত হতদরিদ্র ও এলাকার সুধিজনরা এ ধরনের অভিযোগ তুলেছেন উপজেলার রাজনৈতিক নেতা, পৌর মেয়র, কাউন্সিলর, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বারের বিরুদ্ধে। ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ গড়তে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বর্তমান সরকার। এ জন্য হতদরিদ্রদের জন্য ভিজিডি, ভিজিএফ, বয়স্ক, বিধবা, মাতৃত্বকালীন, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং ১০ টাকা কেজি চাল দেয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ কার্ড ও অনুদান পেতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, পৌর মেয়র, কাউন্সিলর, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বারদের দিতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। সম্প্রতি এ বিষয় নিয়ে উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।
জানা গেছে, বর্তমান সরকার দেশের অর্থ সামাজিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সে লক্ষে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে বাঘা উপজেলা সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে ৫ হাজার ৪৬০ জন বয়স্ক মানুষ, ২ হাজার ৭৫৪ জন স্বামী পরিত্যক্ত (বিধবা), ১ হাজার ৪২১ জন অসচ্ছল প্রতিবন্ধী’র অনুকুলে ৬ কোটি ১২ লাখ ২০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছেন।
অপর দিকে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়ে বাৎসরিক ৬ হাজার টাকা হিসেবে ৯১২ জন দরিদ্র মাতার জন্য ৫৫ লাখ টাকা মাতৃত্বকালীন ভাতা, কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা হিসেবে পৌরসভা এলাকায় ৮৭৫ জনের মধ্যে ৫২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ভিজিডি সহায়তায় ২ হাজার ৬৩ জন সুবিধাভোগীর জন্য প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল হিসেবে বাৎসরিক ৭৪৩ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি অনুদান পেতে হলে স্থানীয় মেম্বার, কাউন্সিলর এবং সরকারি দলের নেতা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের দারস্থ হতে হয়। এ দিক থেকে যারা টাকার পরিমাণ বাড়াতে পারে কেবল তাদের নামে কার্ড হয়। আর বঞ্চিত হয় প্রকৃত দুস্থরা। তাদের অভিযোগ ১০ টাকা কেজি চাল বিক্রির প্রকল্পে এ ধরনের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলার আমোদপুর গ্রামের হতদরিদ্র হামিদুল ইসলাম ও বাবুল ইসলাম জানান, তারা সরকারি দল করার পরেও গত দশ বছরে কোনো সুযোগ সুবিধা পান নি। মনোয়ারা বেগম জানান, তিনি দুই হাজার টাকার বিনিময়ে বিধবা ভাতার একটি কার্ড পেয়েছেন। অনুরূপ কথা বলেন, বারখাদিয়া গ্রামের বিধবা আমেনা বেগম। আরেক নারী রশিদা বেগম জানান, তিনি এক আ’লীগ নেতাকে ৫ হাজার টাকা দিতে না পারায় তার নামে সরকারি অনুদান (শিশু মাতা) কার্ড হয় নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাকুড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফকরুল হাসান বলেন, বর্তমানে কার্ড তৈরির বিষয়ে অনিয়ম করছে সরকারি দলের লোকজন। এটি সব ইউনিয়নে হচ্ছে। তাহলে আপনার বিরুদ্ধে এলাকায় সমাবেশ হলো কেন ? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এ এলাকার এক ছাত্র নেতার দাবি রাখতে না পারার কারণে সে নিজ উদ্যোগে সমাবেশ ডেকে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল বলেন, আমি যে কোনো অনুদানের ক্ষেত্রে চেষ্টা করি সুষ্ঠু বণ্টনের জন্য। তার পরেও কিছু অনিয়মের অভিযোগ আসে। বর্তমান সরকার তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় কর্মীসহ হতদরিদ্রদের জন্য যে সব সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন, তা অতীতের কোনো সরকার দেয় নি। এ বিষয়গুলো আগামীতে কঠোরভাবে দেখভাল করা হবে।
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রকল্পে লোকমুখে কখনো কখনো কিছু অনিয়মের কথা শুনতে পাই। তবে আমার কাছে কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করে নি। অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।