বাঘা ইউএনওর বাড়ি বাড়ি শীতবস্ত্র বিতরণ || জীবন-ঘনিষ্ট পরিবর্তনটাই হোক

আপডেট: জানুয়ারি ৪, ২০১৮, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

পরিবর্তন ! আর যদি সেটা ইতিবাচক ধারার হয় তাতে কার না ভাল লাগে। এই ধরনের সম্মিলিত ভাললাগা অনেক ভাল কর্মযজ্ঞের সৃষ্টি করতে পারে। তাতে দেশ ও জাতির তর তর করে সমৃদ্ধির সোপানে পৌঁছতে মোটেও সময় লাগবে না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার তেমনই ছিল।
পূর্বের সাথে তুলনা করলে প্রশাসনেও পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। কর্তব্যক্তিরা সাধারণ মানুষের সাথে মিশছেন, সাধারণ মানুষও তাদের কাছে যেতে পারছেনÑ নিজেদের সমস্যার কথা নির্ভয়ে বলতে পারছেন। এসব কিছুই ইতিবাচক পরিবর্তন। অবশ্য এর মানে এই নয় যে, পরিবর্তনটি হয়ে গেছে। পরিবর্তনের সূচনাটা হয়েছে- এটাও উন্নয়ন ধারণারই সূচক।
বাঘার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন। তিনি মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর উপজেলার বলিহার, তুলসিপুর, বিনোদপুর, বাঘা দারুল উলুম মহিলা মাদ্রাসা, বলিহার গুচ্ছগ্রাম, সাওতাল পল্লি এলাকায় দুই শতাধিক শীতার্তের মাঝে এ শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বয়ং উপস্থিত থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করায় প্রকৃত দুস্থ যারা তারা শীতবস্ত্র পেয়েছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে শীতবস্ত্র বিতরণের ফলে শীতার্ত মানুষের কষ্ট স্বচক্ষেই অবলোকন করা গেছে। দৈনিক সোনার দেশে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তেমনটিই উল্লেখ করা হয়েছে। শীতবস্ত্র পেয়ে দরিদ্র মানুষ উপকৃত হয়েছেন। এ ধরনের উদ্যোগ সর্বত্র হলে প্রকৃত শীতার্তরাই শীতবস্ত্র পেতে পারে।
শীত ক্রমশ জাঁকিয়ে বসছে। সেই সাথে হতদরিদ্র মানুষের শীত-কষ্টও বাড়ছে। এসব মানুষের কাছে শীতবস্ত্র পৌছে দেয়ার এখনই সময়ই। সব উপজেলাতেই এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।
প্রজতন্ত্রের কর্মচারী যাঁরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব পালন করেন তা জনসাধারণের জন্যই। সেই বোধটাই আজ বড় প্রয়োজন। সব ক্ষেত্রেই এটা প্রয়োজন। এই বোধ দ্বারা যত বেশি তাড়িত হওয়া যায় দেশ ও জাতির ততই মঙ্গল। গণমানুষের জীবন সংগ্রামের প্রতি মমত্ববোধ- দায়িত্ববোধেরই একটি অংশ। বছর চারেক আগে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার একবার স্মারক লিপি গ্রহণের জন্য তিনি স্বয়ং নাচোলে গিয়ে তা গ্রহণ করেছিলেন। অথচ আদিবাসীদের একটি কর্মসূচি ছিল যে, তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ঘেরাও করে স্মারক লিপি প্রদান করবে। কিন্তু আদিবাসীদের আর দীর্ঘ পথ আর পাড়ি দিতে হয় নি। তাদের কর্মসূচি জানতে পেরে বিভাগীয় কমিশনার নিজেই সেখানে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন।
কর্তব্যবোধের এই জায়গাটিই আজ খুব বেশি প্রয়োজন। মানুষকে যত বেশি সম্পৃক্ত করা যায়, তত বেশিই উন্নয়নের সুফলটা পাওয়া যায়। আমরা সেই জীবন-ঘনিষ্ট পরিবর্তনটাই চাই। যাতে আছে মানুষের জয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ