বাঘের মাসি

আপডেট: ডিসেম্বর ২, ২০১৭, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়


এক ছিল ম্যাও রানী সবাই ডাকত পুশি
ইঁদুরেতে রুচি নেই মাছ পেলে খুব খুশি।
কার বাড়ি সরভাজা, কোথাকার পান্তো,
কোথায় হচ্ছে পুলি-পুশি সব জানত।
চুরি করে খাওয়া ছাড়া মন নেই কিছুতে
সারা গ্রাম ঝালাপালা বেড়ালের পিছুতে।
একদিন সহ্যের সীমাখানা ছাড়াতে
লাঠিসোঁটা হাতে সব এল তাকে তাড়াতে।
দাঁড়া ব্যাটা নচ্ছার চুরি তোর ঘোচাবই,
কত ধানে কত চাল আজ তোকে বোঝাবই।
এতদিন মাছ দুধ খেলি করে আহ্লাদ,
পিঠে খেয়ে দেখ দেখি কী রকম তার স্বাদ।
তাড়া খেয়ে শেষে বনে ঢুকে গেল বিল্লি;
গোটা পাড়া সাথে গেল কী চিল্লাচিল্লি!
চেঁচামেচি হৈচৈ জঙ্গল প্রান্তে
বাঘরাজা এল সব বিবরণ জানতে।
সব শুনে বাঘ বলে ” সাহস তো কম নয়!
আমার হুকুম ছাড়া কোন ব্যাটা বনে রয়?”
শেয়াল কূলকে বলে, “ভাগ্নেরা শোন তো,
কোথাকার বিল্লু সে ধরে নিয়ে আয় তো।”
হাজির হল সে মেনি ব্যাঘ্রের সামনে;
বাঘ দেখে বলে কিনা, “আমি ভয় পাইনে।
বনের রাজা যে হবে সে কেমন পোক্ত?
একবার মোর সাথে মোকাবিলা কর তো।”

শুনে সকলের হাসি-দম ফেটে যায় যায়,
আপন বুদ্ধি দোষে আপদ এবার যায়।
ঠিক হল কুস্তি আর হবে লাফ ঝাঁপ,
জিতবে যে সেই সেরা, হেরোর হবে না মাফ।
কুস্তিতে বাঘ যেই প্যাঁচ কষে ম্যাওকে
ধরে ফেলে শেয়ালদের কাউকে না কাউকে।
ব্যাঘ্রের থাবা থেকে পুশি খালি ফস্কায়,
ঘেমে নেয়ে জবজবে, রাগে রাজা গজরায়।
“লাফালাফি হোক শুরু”, বাঘ বলে, “দেখি তায়,
কী করে আমার চেয়ে ও বেটি বেশি লাফায়?
এক লাফ দিয়ে দেখি কে কোথায় পৌঁছোয়,
একবার মাটি ছেড়ে ফের কোথা মাটি ছোঁয়?”
ছুটে এসে দিল লাফ বাঘমামা প্রাণ পণ;
বেড়াল চড়ল গাছে ডালে ডালে শন্শন্।
যখন ছুঁল সে মাটি নেমে এসে গাছ বেয়ে
দশ গুণ দূর গেছে পেরিয়ে বাঘের চেয়ে।
ডোরাকাটা রেগে খুন, “এটা কীরকম হল?”
ম্যাও বলে, “মেনেছি তো শর্ত যেমন ছিল।”
মানে হার বাঘরাজা, মুখ কোথা ঢাকবে?
মেনি বলে, “আজ থেকে ‘মাসি’ বলে ডাকবে।”