বাজারে এখন রাজশাহীর আম

আপডেট: মে ১৬, ২০১৯, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ও বাঘা প্রতিনিধি


বানেশ্বর বাজারে আম বিক্রি করছেন আমচাষি ও বাগান মালিকরা-সোনার দেশ

ঝড় বৃষ্টি আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাটিয়ে রাজশাহীর আম এখন বাজারে। প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময়সূচি অনুযায়ী রাজশাহীতে গতকাল বুধবার থেকে নামানো শুরু হয়েছে গুটি জাতের আম। তবে প্রথম দিনে তুলনামূলকভাবে কম আম বাজারে উঠেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাঁচ থেকে সাতদিনের মধ্যে জমে উঠবে আমের বাজার।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেয়া নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বুধবার সকাল থেকেই আম পাড়া শুরু করে আমচাষী ও বাগান মালিকরা। নির্দেশনা অনুযায়ী বুধবারে শুধুমাত্র গুটি আম পেড়েছেন তারা। তবে প্রথমদিনে খুব অল্প আমই গাছতে পাড়তে দেখা গেছে ব্যবসায়ীদের। রাজশাহীর সবচেয়ে বড় আমের বাজার বানেশ্বর বাজার ঘুরেও একই চিত্র পাওয়া গেছে। কারণ যে বাজার থেকে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার আম দেশের বাইরে যায়, সেখানে শুধুমাত্র কয়েক ভ্যান গুটি আম বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগামি ২০ তারিখের পর থেকেই জমে উঠবে রাজশাহীর আমের বাজার। তবে অল্প যা আম বাজারে উঠেছিলো তার দামও চড়া। বানেশ্বর বাজারে গুটি আম পাইকারি বিক্রি হচ্ছে তেরশো থেকে আঠারশো টাকা পর্যন্ত। তবে সেই আমই রাজশাহীর খুচরা বাজারে বিক্রি হতে দেখা গেছে ৪ হাজার টাকা মণে।
আড়তদার শহিদুল ইসলাম জানান, বাজারে আমের দাম চড়া। এখন যদিও বাজারে সেভাবে আম আসতে শুরু করেনি। কিন্তু বাজারে আম পুরোদমে এলেও দাম কমবে না। বরং বাড়বে। কারণ ঈদের পরেই সাধারণত আমের বাজার জমে উঠবে। আর তখন লোকজন প্রচুর আমও কিনবে। রমজানের মধ্যে খুব একটা আম বিক্রি হয় না। গতবছর রমজানে সব আমে একসাথে বাজারে আসার কারণে বাগান মালিকরা লোকসানে পড়েছিলো।
আমচাষিরা বলছেন, গতবছরের তুলনায় এবছর আমের উৎপাদন অনেক কম। বলা যায়, অর্ধেক। আর গত সোমবারের ঝরেও কিছু আম পড়ে গেছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গতবছরের তুলনায় এবার অর্ধেক আম গাছে এসেছে। সেহেতু দাম ভালো না পেলে কৃষকদের লোকসানে পড়তে হবে। অবশ্য কৃষকরা আশাবাদী।
আব্দুর রাজ্জাক একইসাথে আমচাষী ও আম ব্যবসায়ী। তার বাড়ি কাটাখালির সমসাদিপুর গ্রামে। তার এক হাজারটির মতো আমের গাছ লিজ নেয়া আছে। তিনি বললেন, গত বছরের তুলনায় আমের উৎপাদন এবার অনেক কম। আবার ঝড়েও অনেক আম পড়ে গেছে। তারপরও যদি দাম ভালো থাকে তাহলে রাজশাহীর আমচাষিরা লাভবান হবেন।
পুঠিয়ার নামাজগ্রামের আমচাষি মহসিন আলীও জানালেন একই কথা। তিনি জানান, এবার আমের উৎপাদন অনেক কম হবে। গতবছরের তুলনায় অর্ধেক আমও বাজারে উঠবে না। তারপরও বলা যায়, আমের দাম ভালো পেলে লাভবান হওয়া সম্ভব। গতবছর যেমন প্রচুর আম উঠেছিলো। আবার দাম কম ছিলো। এবার তার উল্টো হবে বলেই আশা করছি। এবার দামের উৎপাদন কম থাকায় দাম বেশি হবে বলেই মনে করছেন বাগান মালিকরা।
তবে কৃষি বিভাগ বলছে, ঝড়ে আমের কোনো ক্ষতি হয়নি। স্বাভাবিকভাবে যে আমগুলো ঝরে পড়ার সেগুলোই শুধু ঝড়ে পড়েছে। ফলে আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ীই হবে। রাজশাহী জেলায় এবছর সাড়ে ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন। আর জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্যান্য জাতের আম গাছ থেকে পাড়া যাবে, গোপালভোগ ২০ মে, রাণী পছন্দ ২৫ মে, লক্ষ্মণভোগ ও লখনা ২৫ মে, খিরসাপাত ও হিমসাগর ২৮ মে, ল্যাংড়া ৬ জুন, আম্রপালি ১৬ জুন, ফজলি ও সুরমা ফজলি ১৬ জুন এবং আশ্বিনা ১ জুলাই থেকে গাছ থেকে পাড়া যাবে।
বাঘা প্রতিনিধি জানান, রাজশাহীর বাঘায় আইনী বাধা শেষ গতকাল বুধবার সকাল থেকে আমপাড়া শুরু হয়েছে। আম পাড়া মৌসুম শুরু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতাদের আগমন শুরু হয়েছে আড়তে। উপজেলার আমের আড়ৎ ঘুরে দেখা গেছে, আম ক্রয়ের জন্য বিভিন্ন ছোট বড় আড়ৎ ধোয়া- মোছার কাজ চলছে।
কিছু স্থানে গড়ে তোলা হয়েছে অস্থায়ী আড়ৎ। প্রতি বছর উপজেলায় আমের আড়তে প্রায় সাড়ে চার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। শ্রমিকরাও শেষ মুহূর্তে আড়ৎদারের সঙ্গে দৈনিক মুজুরি নিয়ে দর কষাকষি করে কাজ করে।
আড়ানী পৌরবাজারের আড়ৎদার মোহাম্মদ বাদশা হোসেন বলেন, বুধবার সকাল থেকে আম কেনা-বেচা শুরু হয়েছে। বিগত বছরের তুলনায় এ বছর বাগানে আম অনেক কম ধরেছে। তার উপর দফায় দফায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বয়ে যাচ্ছে। ফলে চাহিদা অনুসারে আম পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। এবার গুটি জাতীয় আম প্রতিমণ ৮০০-১২০০ টাকা দরে কেনা-বেচা শুরু হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ থেকে আড়ানীর আড়তে আসা আম ব্যবসায়ী আবদুল্লা আল মামুন বলেন, আম মৌসুমের প্রতি বছর কয়েকটি আড়ৎ ঘুরে আম কিনে থাকি। জেলার মধ্যে সবচেয়ে ভালো মানের আম বাঘা উপজেলার আড়ৎতে পাওয়া যায়। এখান থেকে আম কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় চাহিদা মোতাবেক সরবরাহ করে থাকি।
উপজেলার হামিদকুড়া গ্রামের আমচাষি বিরাজ আলী বলেন, বুধবার থেকে আম পাড়া শুরু হয়েছে। তাই আমের বাজার দর জানতে আড়তে এসেছি।
এ ব্যাপারে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, কোন আম কখন পাড়তে হবে সে মোতাবেক একটি দিক নির্দেশনা ক্রেতা-বিক্রেতাদের দেয়া হয়েছে। এছাড়া আমাদের পক্ষ থেকে সার্বক্ষনিক আম আড়ৎগুলোতে মনিটরিং থাকবে। এ ছাড়া কোথাও কোনো অনিয়মের খবর পেলে তৎক্ষনিক আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ