বাণিজ্যিকভাবে গ্লাডিওলাস চাষ করে সফল বাঘার সোহেল

আপডেট: February 3, 2020, 12:53 am

আমানুল হক আমান, বাঘা


নিজের রোপন করা গ্লাডিওলাসের যত্ন নিচ্ছেন সোহেল রানা-সোনার দেশ

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার হামিদকুড়া গ্রামের উচ্চ শিক্ষিত সোহেল রানা নামের এক বেকার যুবক বাণিজ্যিকভাবে গ্লাডিওলাস চাষ শুরু করেছেন। বাবার বসতভিটাসহ তিন বিঘা জমি ছাড়া কোনো সম্পদ নেই। আয় বলতে জমিই ভরসা। বছরে এ জমি থেকে যে ফসল উৎপাদন হয়, তা দিয়ে কোনোমতে চার সদস্যের সংসার চলে।
জানা যায়, কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে বাড়ির পাশে ২০১৪ সালে ৮ শতক জমিতে গ্লাডিওলাস ফুলের চাষ শুরু করেন সোহেল। প্রথমবার তিন হাজার টাকা খরচ করে ৮ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করেন। ২০১৬ সালে ১২ হাজার টাকা, ২০১৭ সালে ১৫ হাজার টাকা, ২০১৮ সালে ১৮ হাজার টাকা, ২০১৯ সালে ৩০ হাজার টাকা, এ বছর ইতোমধ্যেই ৪০ হাজার টাকা ফুল বিক্রি করেছেন।
উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে গ্লাডিওলাস ফুলের চাষ এই প্রথম। সোহেল রানার ৮ শতক জমিতে সাদা, হলুদ ও গোলাপি রঙের গ্লাডিওলাস ফুলের চাষ করছেন। অক্টোবর মাসের শেষের দিকে এ ফুলের চারা রোপণ করতে হয়। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ফলন পাওয়া যায়। বর্তমান বাজারে প্রতিটি ফুলের স্টিক ১০ থেকে ১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি ফুলের স্টিক ফুল ব্যবসায়ীদের কাছে সাত থেকে আট টাকায় বিক্রি করেন।
সোহেল রানা বলেন, আমি ২০১৬ সালে ইসলামের ইতিহাস থেকে রাজশাহী কলেজ থেকে অনার্স মাস্টার্স পাশ করে বেকার ঘুরে বেড়াতাম। ফুল চাষ করে বাড়তি আয় করা যায়, সেই চিন্তা থেকে সাবেক কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগমের পরামর্মে যশোরের এক বন্ধুর সহযোগিতায় ঝিকরগাছা থেকে বীজ সংগ্রহ করে ৮ শতক জমিতে গ্লাডিওলাস ফুলের চাষ করেছি। অধিক দামে সার ও ডিজেল কিনে অন্য ফসলের উৎপাদন খরচই ওঠে না। বাড়তি আয়ের জন্য গ্লাডিওলাস ফুলের চাষ করি। ইতোমধ্যেই ৪০ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করেছি। জমিতে আরো ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকার ফুল রয়েছে। তবে এ ফুল বিক্রি করতে কোন সমস্যা হয় না। ব্যবসায়ীরা প্রতিমাসে দুই থেকে তিনবার ফোন দেয়। ফুল বিক্রি করার মতো হলে রাজশাহী, নাটোর, ঈশর্দীর ব্যবসায়ীদের জানালে তারা জমি থেকে নিয়ে যায়। তারা ন্যায্য দামও দেন।
আমার বাবা শাহাবাজ আলী অনেকটাই অসুস্থ। কোন কোন সময়ে স্থানীয় একটি স্ব-মিলের দিন হাজিরায় কাজ করে। মা দোলেনা বেগম গৃহীনি। বড় ভাই টুটুল আহম্মেদ একটি বেসরকারি কম্পানিতে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করছে।
বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, ফুল বিক্রির পর চাষিরা বীজও বিক্রি করতে পারবেন। ৮ শতক জমি থেকে অন্তত ৩০ হাজার টাকার চারা বীজ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।