বাতিল হলো বিজিএমইএ নির্বাচন ২০১৮-২০

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৮, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


পোশাক শিল্প মালিক ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর নির্বাচন ২০১৮-২০ বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। সদস্যদের উদ্দেশে এক ঘোষণায় নির্বাচন বাতিলের কথা জানিয়েছে সংগঠনটি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের বরাত দিয়ে বিজিএমইএর ঘোষণায় বলা হয়েছে, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ থেকে এক বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিজিএমইএ নির্বাচন ২০১৮-২০ এর সব কার্যক্রম বাতিল করা হলো। গত ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭-১৮ সালের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করে বিজিএমইএ। তফসিল অনুযায়ী, ৭ মার্চ বিজিএমইএর ৩৫টি পরিচালক পদে নির্বাচন ও পরে ১৫ মার্চ নির্বাচিত পরিচালকরা একজন সভাপতি এবং সাতজন সহসভাপতি নির্বাচন করার কথা ছিল। কিন্তু গত ২৮ জানুয়ারি বিজিএমইএর বর্তমান পর্ষদ তাদের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করে। গতকাল এ আবেদনে অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, বিজিএমইএর সংঘবিধির প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের লক্ষ্যে পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ বাণিজ্য সংগঠন অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর ৮ক ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ হতে এক বছর সময় নির্দেশক্রমে বৃদ্ধি করা হলো। উক্ত সময়ের মধ্যে বিজিএমইএর নির্বাচন সম্পন্ন করে এ মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন প্রেরণ করতে হবে। ২০১৭-১৮ সালের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করে ২০১৮-২০ এর নির্বাচনসংক্রান্ত কার্যক্রম কীভাবে বন্ধ হলো জানতে চাইলে বিজিএমইএ নির্বাচন বোর্ড সভাপতি জাহাঙ্গির আলামিন বণিক বার্তাকে বলেন, বিজিএমইএ বোর্ড যখন ইলেকশন কমিশন গঠন করে, তখন লিখেছিল ২০১৭-১৮ মেয়াদ। ওই মেয়াদটা আসলে ওনাদের জন্য ছয় মার্স বর্ধিত করা মেয়াদ ছিল, যেটা শেষ হবে ২১ মার্চ ২০১৮। এরপর বিজিএমইএ বোর্ড আবার একটি রেজল্যুশন নেয়। যেহেতু এরই মধ্যে ২০১৭ সাল চলে গেছে, সেই সময়ের জন্য ইলেকশন করা যায় না। সেই জন্য বর্ধিত সময় যেটা দ্বিতীয়বার দেয়া হলো, তার পর থেকে গণনা হবে। এটাই পরিবর্তন করে ২০১৮-১৯ করা হয়েছে। এটাই ক্ল্যারিফিকেশন। কিন্তু ২০১৮-২০ কীভাবে হলো এমন প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গির আলামিন বলেন, ২০১৮ থেকে ২০১৯ এক বছর এবং ২০১৯ থেকে ২০২০ দুই বছর। আমাদের আর্থিক বছর যেভাবে হিসাব করা হয়, এখানেও সেভাবে হিসাব করতে হবে। সাধারণত ডিসেম্বরে সংগঠনগুলো ইলেকশন শেষ করে, ক্যালেন্ডার ইয়ারে আমাদের টার্ম শুরু হয়। ছয় মাস বর্ধিত হওয়ায় ওদের বছরের মাঝামাঝি টার্ম হয়ে গেছে। এজন্য দুটি বছর চলে গেছে। বোর্ডে রেজল্যুশন করে পরে টার্মটা ২০১৮-২০ করা হয়েছিল। দ্বিতীয়বারের মতো ইলেকশন ক্যানসেল করার প্রেক্ষিতটা হচ্ছে এদের (বর্তমান পর্ষদের) মেয়াদটা আরো এক বছরের জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এক্ষেত্রে বাণিজ্য সংগঠন আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কিনা এ মর্মে প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গির আলামিন বলেন, মেয়াদ যখন দেয়া হয়, তখন ইচ্ছা করলে ওই মেয়াদের মধ্যে ইলেকশন করা যায়, কিন্তু সাধারণত মেয়াদ শেষেই ইলেকশন হয়। এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৮-২০। এ মেয়াদেরই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। ২০১৮ সালের মার্চে যদি নির্বাচন হয়, তাহলে তা শেষ হয়ে ২০২০ সালের মার্চে গিয়েই শেষ হয়। ২০১৭-১৮ এর যে তফসিল ঘোষণা করা হয়, পরে তা সংশোধন করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিজিএমইএর সাবেক এক সভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিজিএমইএ ভুল বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। আর এ ভুল উদ্দেশ্যমূলক। আরেক সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরি পারভেজ বলেন, বিজিএমইএর বর্তমান পর্ষদের বর্ধিত মেয়াদ আগামী বছর মার্চে শেষ হয়ে যাবে। বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগ বা ডিটিও রুল অনুযায়ী, ২০১৯ সালের মার্চের মধ্যেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হবে। ২০১৮-২০ সংক্রান্ত ঘোষণায় ভুল হয়েছে বলে ধারণা করছি। এ বিষয়ে বিজিএমইএর বোর্ড ও নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেয়া উচিত। তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ