‘বাল্যবিয়ের দাওয়াতে অংশ নিলেই অপরাধী’

আপডেট: জুন ২০, ২০১৯, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি


বাল্যবিয়ে বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য মাইকিয়ের উদ্বোধন করেন ইউএনও তমাল হোসেন-সোনার দেশ

নাটোরের গুরুদাসপুরে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচারণা মাইকিং করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়নের জন্য পৃথক সাতটি অটোভ্যানে মাইক এবং বাল্যবিয়ে বিরোধী লিফলেট বিতরণের শুরু করেন ইউএনও। এসময় ইউএন তমাল হোসেন জানান, বাল্যবিয়ের দাওয়াতে অংশ নিলে সেও সমান অপরাধী।
প্রচার মাইকিং ও লিফলেটে বলা হয়, ‘প্রিয় গুরুদাসপুরবাসী, আসসালামুআলাইকুম। আপনাদের সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বিয়ের জন্য ছেলেদের নূন্যতম বয়স ২১ বছর এবং মেয়েদের জন্য ১৮ বছর। ১৮ বছরের কম বয়স্ক মেয়ে এবং ২১ বছরের কম বয়স্ক ছেলের বিয়ে বাল্যবিয়ে হিসেবে বিবেচিত হয়। বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক ব্যাধি এবং আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ। যিনি বাল্যবিয়ে করবেন, যিনি বাল্যবিয়ে পড়াবেন এবং বাল্যবিয়ে দাওয়াতে অংশ নিবেন তারা সকলেই অপরাধী এবং বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন ২০১৭ অনুসারে সবার শাস্তির বিধান রয়েছে। কোন স্থানে বাল্যবিয়ের কথা জানামাত্র উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মর্কতা, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অথবা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করুন। মনে রাখবেন, প্রাপ্ত বয়ষ্ক কেউ বাল্যবিয়ে করলে তিনি অনধিক (২) দুই বৎসর কারাদণ্ড বা অনাধিক ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। আসুন সকলে মিলে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে এগিয়ে আসি। বাল্যবিয়ে না বলি, সুস্থ সুন্দর জীবন গড়ি। গুরুদাসপুর উপজেলায় বাল্যবিয়ে সংক্রান্ত যে কোন খবর জানামাত্র-০১৭৩১-১৭১৩৫৪ নম্বরে যোগাযোগ করুন।’
ইউএনও তমাল হোসেন বলেন, গুরুদাসপুরে কঠোর হস্তে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা হবে। কোন ভাবেই ক্ষমা করা হবে না। তাই সচেতন করতে প্রাথমিক ভাবে মাইকিং করা হচ্ছে।