বাড়ছে কোটা সুবিধা

আপডেট: জুলাই ২৩, ২০১৮, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


পুঁজি বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে আবার বাড়ানো হচ্ছে কোটা সুবিধা। এই নিয়ে এ সুবিধা টানা সপ্তম এবং শেষবারের মতো দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, পুঁজিবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা আইপিওতে ২০ শতাংশ কোটা সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে করে তারা আরো এক বছর এই কোটা সুবিধা ভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে এরপর এই সুবিধার মেয়াদ কোনোক্রমে আর বাড়ানো হবে না।
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এক নোটে বলেছেন, এবারই শেষ, এরপর আর সময় বাড়ানো হবে না। অর্থমন্ত্রীর এই ঘোষণার ফলে শেষবারের মতো আগামী ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা আইপিওতে (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) ২০ শতাংশ কোটা সুবিধা পাবেন। এর ফলে মার্জিন ঋণ হিসাব ও নন-মার্জিন হিসাবের (বি.ও) ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা ইস্যুকৃত সব পাবলিক ইস্যুতে কোটা সুবিধা ভোগ করতে পারবে।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আগামী বছর পর্যন্ত এ সময়সীমা বাড়িয়েছেন বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।
২০১০ সালের পুঁজিবাজার ধসের কারণে ১৭ লাখেরও বেশি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। তাদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা।
সূত্র জানায়, পুঁজিবাজারে অস্বাভাবিকতা রোধ, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা ও ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি বিশেষ স্কিম গঠনের নির্দেশ দেন। স্কিম গঠনে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি প্রণোদনা স্কিমের সুপারিশ করে। সুপারিশের আলোকে সরকার স্কিম বাস্তবায়নের উদ্যেগ নেয়। প্রণোদনা স্কিমে অন্যান্য সুপারিশের সঙ্গে চিহ্নিত ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০১২ এবং ২০১৩ সালে ইস্যুকৃত সব পাবলিক ইস্যুতে ২০ শতাংশ কোটা সুবিধা বাস্তবায়ন করা হয়। এরপর থেকে টালমাটাল পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে এর সময়সীমা সর্বমোট ৬ বার বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ গত মাসে এর সময়সীমা শেষ হলে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি আবারো এটি বাড়ানোর আবেদন করে।
বিএসইসি অর্থমন্ত্রীর কাছে লেখা এক আবেদনে বলে, পুঁজিবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এর মেয়াদ বাড়ানো প্রয়োজন। এতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আরো একবার সময় বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
চলতি মাসের ১২ তারিখ তিনি বিষয়টি অনুমোদন করেন। ১২ তারিখ অনুমোদন হলেও ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য এ সুবিধা ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত আইপিওতে ২০ শতাংশ কোটা সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। তবে অর্থমন্ত্রী এ সুবিধা আর বহাল রাখতে চাচ্ছেন না। তিনি চাচ্ছেন, এবারই যেন শেষবারের মতো এ সুবিধা দেওয়া হয়।

এক নোটে তিনি লিখেছেন, ‘আমি এর পরে এই সময়সীমা আর বাড়াবো না।’ এর আগে ২০১৬ সালেও তিনি বিএসইসির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লিখেছিলেন, ‘এবারেই শেষ সময় বৃদ্ধি হবে।’ তারপরও তিনি এর ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনা করে সময়সীমা বাড়িয়েছিলেন।
এর আগে পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর কিভাবে সহায়তা দেওয়া যায় তার জন্য ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে একটি স্কিম কমিটি গঠন করা হয়েছিল। অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া স্কিম কমিটির একটি খসড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল-শেয়ার বাজারে যেসব ব্যক্তির নিজস্ব বিনিয়োগ সর্ব্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ছিল তারাই ছিল ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। এই সকল বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ছিল মোট ১৭ লাখ ৮৪ হাজার। এরাই মূলত শেয়ার বাজার ধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ২০০৯ সালে ১ জানুয়ারি থেকে ২০১১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সময়কালে এই সব বিনিয়োগকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ করে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করেছিলেন। শেয়ার বাজার ধসের কারণে তাদের ২২ হাজার কোটি টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আর ঋণ করার কারণে তাদের ঋণের সুদই হয়েছে ২ হাজার ৬২৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। তথ্রসূত্র: রাইজং বিডি