বাড়ল দ্রুত বিচারে শাস্তির মেয়াদ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


বহুল আলোচিত দ্রুত বিচার আইন সংশোধন করে শাস্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিলটি সংসদে কোনো ধরনের বিরোধিতা ছাড়াই পাস হয়েছে।
ফলে দ্রুত বিচার আইনে অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ৫ বছর থেকে বেড়ে ৭ বছর হল। এছাড়াও এই আদালতে ‘বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিষ্টেট’ নিয়োগের ক্ষমতা পেল সরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল রোববার সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন। তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে বিলের উপর দেওয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়।
সাধারণত বিরোধী দল জাতীয় পার্টি বিলের উপর সংশোধনী প্রস্তাব দেয়। তবে এ বিলের উপর দলটির কোনো সংসদ সদস্য কোনো সংশোধনী প্রস্তাব দেননি।
জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর জন্য জাতীয় পার্টির ছয়জন এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী নোটিস দিলেও পাঁচজন ছিলেন অনুপস্থিত। উপস্থিত দুজনের প্রস্তাব মন্ত্রী গ্রহণ না করলে তা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়।
গত ২২ জানুয়ারি ‘আইনশৃঙ্খলা বিঘœকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সংশোধন) আইন- ২০১৮’ সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল।
তখন বিলটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দিতে সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। সংসদীয় কমিটি গত ২৮ জানুয়ারি বিলের প্রতিবেদন সংসদে জমা দেয়।
বিলে ২০০২ সালের এ সংক্রান্ত আইনের ৪(১) ধারা সংশোধন করে শাস্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
ওই ধারায় ‘আইন-শৃঙ্খলা বিঘœকারী অপরাধ’ এর জন্য এতদিন সর্বনিম্ন দুই বছর এবং সর্বোচ্চ পাঁচ বছর সশ্রম কারাদ-ের পাশাপাশি অর্থদ-ের বিধান ছিল।
ওই সাজার মেয়াদ বাড়িয়ে সর্বনিম্ন দুই বছর ও সর্বোচ্চ সাত বছর সশ্রম কারাদ- করা হয়েছে, অর্থদ-ের বিধান থাকছে।
আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ‘আইনশৃঙ্খলা বিঘœকারী অপরাধ’ করলে দ্রুত বিচার আইনে তার বিচার হবে।
যেমন ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বা বেআইনি বল প্রয়োগ করে কোনো ব্যক্তি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাঁদা, সাহায্য বা অন্য কোনো নামে অর্থ বা মালামাল দাবি বা আদায় বা আদায়ের চেষ্টা করলে তা এ আইনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এছাড়া স্থল, রেল, জল বা আকাশপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা, ইচ্ছের বিরুদ্ধে যানের গতি ভিন্নপথে পরিবর্তন করা, ইচ্ছাকৃত কোনো যানবাহনের ক্ষতি করা; ইচ্ছাকৃতভাবে সরকার, ব্যক্তি বা কোনো প্রতিষ্ঠানের স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি ভাংচুর করাসহ নয় ধরনের অপরাধের জন্য এই আইনের অধীনে সাজা দেয়া যাবে।
বিলে আদালত গঠনের বিধানেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বিদ্যমান আইনের ৮(২) ধারায় বলা হয়েছে, ‘আদালত সরকার কর্তৃক নিযুক্ত একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়া গঠিত হইবে৷’
সংসদে পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, ‘সরকার বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রপ্ত একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটকে উক্ত আদালতের বিচারক নিযুক্ত করিবে।’
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে ২০০২ সালে দ্রুত বিচার আইন জারি করে দুই বছরের জন্য তা কার্যকর করা হয়। এরপর বেশ কয়েক দফা ওই আইনের মেয়াদ বাড়ায় সরকার।
সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৩ এপ্রিল এই আইনটি সংশোধন করে ৫ বছরের জন্য মেয়াদ বাড়ায় বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার।
আইন সংশোধনের কারণ ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বলেন, “আইনের ধারা ৪ এর উপ-ধারা (১) এ বিধৃত শাস্তির পরিমাণ কম থাকায় আইনটি সময়োপযোগীকরণ এবং দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অধিকতর উন্নতির লক্ষ্যে এ আইনের বিধৃত শাস্তির পরিমাণ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।”
তবে যখন যারা বিরোধী দলে ছিল, তারা এ আইনকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ আনে সরকারের বিরুদ্ধে।
এবার আইনটি সংশোধনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় পাস হলে তার প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের সাজা দিয়ে নির্বাচনে অযোগ্য করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ