বাড়ি পাচ্ছেন তানোরের সেই বৃদ্ধ

আপডেট: March 29, 2020, 11:33 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক


পেটের দায়ে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও সড়কে নামা সেই ষাটোর্ধ বৃদ্ধকে সরকারি খাস জমিতে বাড়ি করে দেয়া হবে। রাজশাহীর তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুশান্তকুমার মাহাতো জেলা প্রশাসকের বরাত দিয়ে জানান, বসবাসের জন্য শিগগিরই সরকারি খাস জমিতে তাকে একটি বাড়ি করে দেয়া হবে।
জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ঘর থেকে বের হয়ে শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হকের দৃষ্টিতে পড়েছিলেন বৃদ্ধ আতাবুর রহমান। পরে রাজশাহী জেলা প্রশাসক ব্যক্তিগতভাবে তাকে আর্থিক সহযোগিতা করেন। এসময় বাড়ি থেকে ঝুঁকি নিয়ে বের না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। এ ঘটনার পর তানোরের ইউএনও সুশান্তকুমার মাহাতো শনিবার (২৮মার্চ) ওই বৃদ্ধকে খুঁজে বের করেন। এসময় তাকে জানান, বসবাসের জন্য শিগগিরই সরকারি খাস জমিতে তাকে একটি বাড়ি করে দেয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হকের নির্দেশে শনিবার বিকালে বৃদ্ধ আতাবুর রহমানকে খুঁজে বের করা হয়। এরপর তার কার্যালয়ে নিয়ে আতাবুরের হাতে নতুন জামা-কাপড় ও চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রী তুলে দেন ইউএনও। তখনই ইউএনও জানান, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর খাস জমিতে বাড়ি হবে আতাবুরের। বিষয়টি নিয়ে ডিসি হামিদুল হক তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।
তানোরের ইউএনও সুশান্তকুমার মাহাতো আরো বলেন, ‘জেলা প্রশাসক স্যার বৃদ্ধের পরিচয় জানার নির্দেশ দেয়ার পর আমরা তার পরিচয় উদ্ধার করি। তিনি খুব অসহায়। কখনও কাগজ কুড়িয়ে আবার কখনও ভিক্ষা করে তিনি সংসার চালান। বিষয়গুলো জানার পর ডিসি স্যারকে অবহিত করি। স্যারের নির্দেশমতো তাকে নতুন জামা-কাপড় ও চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশকিছু বাজার করে দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাকে সরকারি সহায়তায় নগদ অর্থ এবং খাস জায়গায় বাড়ি নির্মাণও করে দেয়া হবে।’
ষাটোর্ধ বৃদ্ধ আতাবুরের বাড়ি তানোর পৌরসভার বড়কুঠি এলাকায়। শুক্রবার বিকালে উপজেলা সদরে কাগজ কুড়াচ্ছিলেন তিনি। এসময় তার দিকে এগিয়ে যায় পুলিশ। সঙ্গে ছিলেন জেলা প্রশাসক হামিদুল হকও।
ভীতসন্ত্রস্ত আতাবুর ডিসিকে দেখেই বাড়ির বাইরে বের হওয়ার জন্য করজোড় করে ক্ষমা চান। আবেগ আপ্লুত হয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক তখন চাল-ডাল কেনার টাকা দিয়ে ওই বৃদ্ধকে বাড়ি পাঠান। পরে ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করে বিষয়টির বিবরণ দেন ডিসি হামিদুল হক নিজেই। তার ওই পোস্টটি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভাইরাল হয়ে যায়।