বিএনপির ‘নীল নকশার’ নির্বাচনে না! || ভাঙ্গা ঢোল আর কতদিন বাজবে?

আপডেট: নভেম্বর ১২, ২০১৭, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বিএনপি অবশ্যই নির্বাচনে যাবে। তবে আমরা নির্দলীয় সহায়ক সরকার চাই। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ চাই। নীল নকশার নির্বাচনে বিএনপি যাবে না।’
শুক্রবার গুলিস্তানে শহীদ নূর হোসেন চত্বরে শহীদ নূর হোসেন দিবস উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে বলে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্রের কন্ট্রোল সুইচ আওয়ামী লীগের হাতে থাকলে সেটাকে তারা যতই গণতন্ত্র বলুক আসলে এটি গণতন্ত্র নয়, স্বৈরতন্ত্র। আমরা বহু দল, বহু মতের গণতন্ত্র চাই।’
অর্ধযুগ ধরে বিএনপির নেতারা এক ধরনের কথা বলে আসছেন। সময় ও পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও বিএনপি নেতৃবৃন্দের বক্তৃতা- বিবৃতিতে কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় না। সনাতনি দৃষ্টিভঙ্গি এখনো দলটির নেতাদের মূল উপজীব্য। হয়ত পুরো রাজনীতির ধারণার সাথে বিষয়টি এক করে প্রণিধানযোগ্য। কিন্তু বিএনপিতে দৃষ্টিভঙ্গির আলাদা কোনো প্রতিফলন নাই। এটা একটি রাজনৈতিক দলের স্থবিরতার প্রমাণ বহণ করে। ‘নীল নকশার’ নির্বাচনের বিষয়টি বিএনপি ভুলতেই পারছে না। একই ভাঙ্গা রেকর্ড তারা বাজিয়েই চলেছে। কিন্তু তাতে কি দলের জন্য খুব একটা লাভ হচ্ছে?
এখন সারা দেশেই নির্বাচনী আমেজ। সেটা জাতীয় নির্বাচন এবং সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে ঘিরেই। রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে জনসংযোগ শুরু করেছেÑ যদি জাতীয় নির্বাচন এখনো কিছুটা দূরে আছে। দেশের মানুষের কথা বাদই দেয়া যাক, বিএনপি নেতৃত্ব তাদের কর্মী-সমর্থকদের জন্য কী ম্যাসেজ দিচ্ছে? যা দিচ্ছে তা সটান নির্বাচনের জন্য মোটেও সুখকর নয়। ইঙ্গিতটা যদি সবসময় নেতিবাচক হয় তা হলে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ভীতি-বিভ্রান্তি, হীনমন্যতার সৃষ্টি হয়। বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সেটি এখনো গভীরভাবেই আছে। কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি, তাদের কে উজ্জীবিত করার মত কোনো ফর্মুলা গত ৬ বছরে বিএনপি নেতৃত্ব দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে উপস্থাপন করতে পারে নি। হতাশারই চিত্র সবসময়।
এ দেশে রাজনীতিটা কখনেই সমতাল রেখায় ছিল না, সেটা বিএনপি নেতৃত্বের না জানার কথা নয়। চরাই-উতরাই পার হয়েই নিজেদের প্রমাণ করতে হয়েছে সবসময়। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ইতিহাস খুবই প্রণিধানযোগ্য। অন্য সময়ের কথা বাদ দিলেও বিশেষ করে পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ কে যে মহাদুর্যোগ অতিক্রম করতে হয়েছে তা এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলকে সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়নি। পরিকল্পিত উপায়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিঃশেষ করে দেয়ার জন্য যা যা করার দরকার তার সবই করা হয়েছে। জিয়া, এরশাদ কিংবা খালেদা জিয়া কার আমলে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি ছিল? বরং সে ইতিহাস অতি ভয়ঙ্কর। তারপরও আওয়ামী লীগ রাজনীতি করেছে, হারতে হারতে জিততে শিখেছে। নেতৃত্ব, নেতৃত্বের কাছ থেকে আসা সিদ্ধান্ত যথার্থ ছিল বলেই দলটি দুর্যোগ মোকাবিলা করে আজকের অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে। এটি একটি দৃষ্টান্ত। গণতান্ত্রিক উপায়ে সঠিক সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যতমুখিন রাজনৈতিক নেতৃত্ব আওয়ামী লীগকে জনগণের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
‘ নির্বাচনে যাবো না, যাবো না’ বলে বিএনপির নেতাকর্মীদের মনোবল ভাঙ্গা ছাড়া আর কিছু প্রাপ্তি আছে বলে মনে হয় না। জনগণকে আস্থায় নেয়ার মত নেতৃত্ব, সাংগঠনিক সক্ষমতার জায়গায় বিএনপি সবসময় দুর্বলতার পরিচয় দিয়ে আসছে। এটি শুধু বিএনপি নয়Ñ গণতন্ত্রের বিকাশেরও অন্তরায়। কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করা যায় এমন নেতৃত্বই আজ সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ