বিএনপি অফিসে ছাত্রদলের তালা, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

আপডেট: জুন ১২, ২০১৯, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


দলীয় কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ-সোনার দেশ

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দেয়ার প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিদ্যুতের লাইন কেটে দিয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে ছাত্রদলের শ খানেক নেতাকর্মী ফটকে তালা দিয়ে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন কার্যালয়ের নিচ তলায় অনশনেও বসেন।
বিক্ষোভরতদের দাবি, ছাত্রদলের কমিটি ভেঙে দেয়ার ঘোষণা প্রত্যহার করতে হবে। ছাত্রদলের দেয়া তিনটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে নতুন কমিটি করতে হবে।
বয়সের সীমারেখা না রাখা, স্বল্পমেয়াদী কমিটি গঠন এবং কেন্দ্রীয়, বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগর ও কলেজের সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছিল ওই তিন প্রস্তাবে।
ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর। রাজীব আহসানকে সভাপতি ও আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত ওই আংশিক কমিটিতে তখন ১৫৩ সদস্য ছিলেন।
দীর্ঘদিন পর সেই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হলে তাতে ৭৩৬ জনকে পদ দেয়া হয়। তবে ওই কমিটি নিয়েও সংগঠনে ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখা গিয়েছিল।
গত ৬ জুন ঈদের আগের দিন ছাত্রদলের ওই মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দেয় বিএনপি। সে সময় দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কাউন্সিলে প্রার্থী হওয়ার জন্য তিনটি যোগ্যতা নির্ধারণী শর্তও ঠিক করে দেয়া হয়।
সেখানে বলা হয়, প্রার্থীকে ছাত্রদলের প্রাথমিক সদস্য হতে হবে, তাকে অবশ্যই বাংলাদেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হতে হবে এবং ২০০০ সালের পরে এসএসসি/সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
নতুন কাউন্সিল অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সাবেক নেতাদের নিয়ে সোমবার তিনটি কমিটি করে দেয়া হয় বিএনপির পক্ষ থেকে।
কিন্তু কমিটি ভেঙে দেয়ার ঘোষণা এবং প্রার্থিতার ক্ষেত্রে বয়সের শর্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়ে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বিএনপি অফিসের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
এ সময় তারা ‘সরকারের দালালেরা হুঁশিয়ার, সাবধান’, ‘আমাদের অধিকার দিতে হবে দিতে হবে’- ইত্যাদি স্লোগান দিতে শুরু করলে উত্তেজনা তৈরি হয়।
রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি ভেঙে দেয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছিল বলে তার বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধরা।
রুহুল কবির রিজভী অসুস্থ অবস্থায় ওই কার্যালয়েই আছেন। সেখানেই গত কয়েকদিন ধরে তার চিকিৎসা চলছে।
কার্যালয়ের বিদ্যুতের লাইন ছাত্রদলের কর্মীরা কেটে দেয়ায় রিজভীকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়ার কথা ভাবছেন বিএনপি নেতারা।
ছাত্রদলের সাবেক নেতা শামসুজ্জামান দুদু, আমানউল্লাহ আমান, আসদুজ্জামান রিপন, ফজলুল হক মিলন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, এবিএম মোশাররফ হোসেন, মীর সরাফত আলী সপু, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, হাবিবুর রশিদ হাবিব বেলা ১১টার দিকে কার্যালয়ের সামনে এলেও বিক্ষোভের মধ্যে তারা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেন নি।
সাবেক নেতাদের মধ্যে খায়রুল কবির খোকন ও আজিজুল বারী হেলাল সকালে বিক্ষোভ শুরুর আগেই কার্যালয়ে ঢুকে পড়েছিলেন। বেলা সাড়ে ১২টা দিকে তারা অফিস থেকে বেরিয়ে এলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘ভুয়া’ ‘ভুয়া’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
কিছু সময় নয়া পল্টনে হোটেল ভিক্টোরিয়া সামনে দাঁড়িয়ে থাকার পর ছাত্রদলের সাবেক এই নেতারা গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যান।
সেখান থেকে তারা লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন বলে দলের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন।
এর আগে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, বিশেষ সম্পাদক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস আদালতে হাজিরা দিয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কার্যালয়ের সামনে এলে বিক্ষুব্ধদের সামনে পড়েন। তাদের দাবির কথা শুনে সেখান থেকে চলে যান তারা।
ভেঙে দেয়া কমিটির সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলট সাংবাদিকদের বলেন, “এটা আমাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি। হঠাৎ করে ঈদের আগে এই কমিটি ভেঙে দেয়া হয়েছে। আমরা ঢাকা শহরের ১২টা ইউনিট ও আমাদের সদ্য বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় সংসদ ঐক্যবদ্ধভাবে একটা আবেদননামা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠিয়েছিলাম। সেখানে তিনটা বিষয়ের উল্লেখ ছিল।
“একটা দাবি ছিল বয়সের সুনির্দিষ্ট সীমা রেখা থাকবে না। ধারাবাহিক কমিটি হতে হবে এবং একটা কমিটি হবে ছয় মাসের, আগামী ১ জানুয়ারি পর্যন্ত। পরে একবছরের জন্য কমিটি দিতে হবে, যাতে ছাত্রদলকে সুন্দর গোছানো সংগঠনের চেহারায় নিয়ে আসা যায়।”
এক প্রশ্নের জবাবে পাইলট বলেন, “এখানে ভুল বোঝার কোনো অবকাশ নেই। আমাদের দাবি একটা, আমাদের ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি একটা- আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। আমরা এখানে এসেছি ঈদে যারা বাড়িতে ছিলাম সবাই কোলাকুলি করব বলে। কিন্তু ঈদের আগের দিন আমরা দেখতে পেলাম রাতের বেলা প্রেস রিলিজের মাধ্যমে আমাদের কেন্দ্রীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা এতে আহত বোধ করছি।”
সাবেক কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ইফখাইরুজ্জামান শিমুল সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের যে দাবি বা প্রস্তাব ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে দিয়েছি, তার বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে।”
গুলশানে যাওয়ার আগে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ছাত্রদল সভাপতি ফজলুল হক মিলন পার্টি অফিসের সামনে সাংবাদিকদের বলেন, “বিক্ষোভ থাকতেই পারে, এটা অস্বাভাবিক কিছু না। তাদের দাবি থাকতে পারে, যৌক্তিকতাও থাকতে পারে। এটা সমন্বয় করে বাস্তবায়নের দিকে আমরা যাচ্ছি। তাদের বেদনা-ক্ষোভ আমরা শুনব। সকলের সাথে আলোচনা করে আমরা কাজ করব।”
দলীয় কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ নিয়ে উদ্বিগ্ন নন বলে দাবি করেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিলন।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক সাবেক ছাত্রদল সভাপতি শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “যারা আাজকে এখানে বিক্ষোভ করছেন, তারা আমাদের ছোট ভাই। ওদের যদি সুন্দরভাবে মূল্যায়ন করতে পারে বিএনপি, অথবা তাদের সাথে যদি আলাপ-আলোচনা করতে পারি, তাহলে সমাধানে আমরা আসতে পারব। আমরা সেই কাজটি অবশ্যই করব। অবশ্যই তাদের সাথে ধীরে ধীরে আলোচনা করব।”
বয়সসীমা না রাখার যে দাবি বিক্ষুব্ধরা করেছে- সে বিষয়ে প্রশ্ন করলে এ্যানি বলেন, “এটা তো আমার একার বিবেচনার বিষয় নয়, এটা তাদের সাথে আলোচনা করেই সমাধান ও সমন্বয় হতে পারে।”
তথ্যসূত্র : বিডিনিউজ