বিএনপি নেতার সকালে এক কথা বিকেলে আরেক ছন্দহারা বিএনপির গন্তব্য কোথায়?

আপডেট: জুলাই ১০, ২০১৮, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

১/১১ এর থেকে বিএনপি ছন্দ হারিয়ে ১০ বছর পরেও তা খুঁজে পায়নি। অবশ্য বিএনপির জন্ম থেকেই ছন্দ ছিল না, জোড়াতালি দিয়েই চলছিলÑ কিন্তু এখন সেই জোড়াতালি দেয়ার কৌশলটাও বিএনপি নেতৃত্ব যেন ভুলে বসেছে। খেই হারাতে হারাতে দলটি এখন গভীর সঙ্কটের মধ্যে নিপতিত হয়েছে। নেতৃত্বের দুর্বলতা এতোই চরমে পৌছেছে যে, কর্মী-সর্মথকদের মধ্যে আর আশা সঞ্চার করা যাচ্ছে না। আস্থাহীনতা যেমন কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তেমনি দেশের মানুষের মধ্যেও। অর্থাৎ বিএনপি নেতৃত্ব দিয়ে আর কিছু হবে না, জনমনে এমনই ধারণা।
বিএনপির নেতৃত্বের দুর্বলতা, সিনদ্ধান্তহীনতা, প্রজ্ঞাহীন রাজনৈতিক বিবেচনাÑ এসব চিত্রই দলটির উদ্দেশ্যহীন গন্তব্যের ধারণা জনমনে জায়গা করে নিয়েছে। এই পরিস্থিতি একটি রাজনৈতিক দলের জন্য সত্যিকার অর্থেই প্রত্যাশিত নয়। এটি গণতান্ত্রিক বোধ নির্মাণেরও অন্তরায়।
অসহিষ্ণু ও অপরিণামদর্শি কর্মকা-ের ফলে দলটি আর মোটেও এগুতে পারছে নাÑ বরং মাঝেমধ্যেই দলীয় নেতৃত্বকে হাস্যকর করে তুলছে। বিএনপি নেতৃত্ব ভারতের আস্থা অর্জনের একটি প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল কিন্তু তাতেও জল ঢেলে দিলো দলটির সিনিয়র যুগ্মসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি সকালে ভারতকে কটাক্ষ করলেন আবার বিকেলেই ভারতের গুনগান গাইলেন। একজন সিনিয়র রাজনীতিক কীভাবে দলের কৌশলকে বিভ্রান্ত ও অসাড় প্রমাণ করা যায় তারই প্রমাণ রাখলেন তিনি। এ সংক্রান্ত খবর দেশের সংবাদ মাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ৮ জুলাই সংবাদ সম্মেলনে জনাব রিজভী বললেন, ‘বাংলাদেশের একটি ভোটারবিহীন সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের ভূমিকা ঔপনিবেশিক শাসকদের মতো, যেন তারা বাংলাদেশে তাদের প্রতিভুদের টিকিয়ে রাখতে উঠে-পড়ে লেগেছে’। আবার একইদিন বিকেলে তিনি বললেন, ‘বিএনপি’র নীতি হচ্ছে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। বিএনপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক যোগাযোগই হচ্ছে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্কের ভিত্তি। ভারত একটি বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে।’
৭ জুলাই সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে প্রধানমন্ত্রীর এক উপদেষ্টা বলেন, ভারত বিএনপিকে কোনোভাবেই বিশ্বাস করে না। বিএনপির অতীত ও সাম্প্রতিক সময়ের তিব্র ভারতবিরোধী মনোভাবের প্রেক্ষিতেই ওই মন্তব্য করা হয়। রিজভীর বক্তব্য প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার মন্তব্যকেই মূলত সমর্থন বা বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ করলেন।
বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলকেই প্রশ্নবিদ্ধ করলেন বিএনপিনেতা রিজভী। অথচ একটা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল যে, বিএনপি ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চায়। এটাকে যে যেভাবেই ব্যাখ্যা করুক না কেন, এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে যথার্থই বলা যায়। প্রতিবেশি দেশকে উপেক্ষা বা কটাক্ষ করে বা অনিষ্ট কামনা করে সম্প্রীতি- সৌাহার্দ নিয়ে বসবাস করা যায় না। গত জুন মাসেই বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল ভারত সফর করে এসেছেন এবং তারা ভারতের ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দের সাথে সলাপরামর্শ করেছেন। কিন্তু বিএনপির নেতৃবৃন্দ মাঝেমধ্যেই ভারত বিরোধিতার স্বরূপ সামনে নিয়ে আসছেন। এটা পরস্পর সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে বড় অন্তরায়। এতে করে আস্থার সঙ্কটই বাড়বে।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ দু একজন বাদে প্রায় সকলেই লাগামহীন বক্তব্য দিয়ে থাকেন। একজনের বক্তব্যের সাথে অন্যের বক্তব্যকে মোটেও মেলানো যায় না। কর্মীসমর্থকদের মত দেশের মানুষও এসব বক্তব্যে বিভ্রান্ত হয়। বিএনপি কী চায় সেটাও বেশ অস্পষ্টতার জন্ম দেয়। সত্যিকার অর্থেই বিএনপিকে ছন্দে ফেরাতে হবে। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা, ভবিষ্যতমুখিনতা এবং দলে চেইন অব কমান্ড সৃষ্টিই হবে ছন্দ ফিরে পাওয়ার উপায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ