বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ

আপডেট: জুলাই ৩১, ২০১৮, ১:১১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। যদিও বিএনপি এই নির্বাচনকে প্রহসন ও নীলনক্সর নির্বাচন বলে উল্লেখ করেছে।
সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে টানা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে মাঝেমধ্যে বৃষ্টি বাগড়া দিয়েছে কিন্তু নির্বাচনের গতি থামাতে পারেনি। নির্বাচনে প্রচারণায় আওয়ামী লীগ প্রাধান্য বিস্তর করেছিল। ঠিক নির্বাচনের দিনও সে আমেজ লক্ষ্য করা গেছে নৌকা প্রতীকের সমর্থকদের ভিতরে। তবে এই নির্বাচনে বিএনপির সমর্থকদের কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করা গেলেও তাদের ভিতরে কোনো আগহ লক্ষ্য করা যায়নি। কিন্তু ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ছিল। তারা নির্বাচনের পরিবেশকে প্রাণবন্ত করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে।
নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা কোনো ধরনের ভয়ভীতি মধ্যে পড়েননি। তবে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্মার্টকার্ড সমস্যায় অনেক ভোটার ভোট প্রদানে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের তালাইমারী এলাকার তালাইমারী দারুল উলুম সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা কেন্দ্রের ভোটার রমেনা বেগম ও আব্দুল মান্নান জানান, স্মার্ট কার্ড নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে তারা ভোট দিতে পারেন নি।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে কাউন্সিলরপ্রার্থী আব্বাস উদ্দিন আব্দুল্লাহর ভোটার সিরিয়াল সরবরাহকারী মতিউর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তার দাবি, স্মার্টকার্ড অনুযায়ী ভোটার তালিকা সরবরাহ করা হয়নি। ফলে পুরাতন জাতীয় পরিচয়পত্র অনুসারেই ভোটারদের সিরিয়াল দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে অনেক কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরুর আগে সকাল থেকেই ভোটাররা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ায়। কিন্তু ভোট শুরুর ১৫ মিনিটের মাথায় সোয়া আটটায় শুরু হয় গুড়িগুড়ি বৃষ্টি। কিন্তু সেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভোট দিয়েছেন অনেকে। বৃষ্টির শঙ্কা নিয়েই তারা সকালেই এসেছিলেন কেন্দ্রে। প্রত্যেকের হাতে ছাতাও ছিল। সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা ছিল। সালমা নামের এক ভোটার বলেন, বৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়েই ভোট কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়েছি। অন্য এক নারী ভোটার বলেন, সকালে ভিড় কম হবে ভেবে এসছি। ভোট দিয়ে নিজের কাজে যাবো। কিন্তু এখানে তো দীর্ঘ লাইন। নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভদ্রা সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিতে এসেছিলেন বাপ্পি। তিনি বলেন, ‘নতুন ভোটার হয়েছি। তাই এক ধরনের উৎসাহ কাজ করছে। সকালেই এসেছি ভোট দিতে।’ নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার আলমগীর কবির বলেন, দুপুরে ঝমঝম বৃষ্টি হওয়ায় অনেকে যায়নি। তবে বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে ভোট দিয়ে এসেছি। কারণ ভোট হচ্ছে নাগরিক অধিকার। আর এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে চাই না।