বিচ্ছু ভূত

আপডেট: জুলাই ১৫, ২০১৭, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

সৌর শাইন


১.
নদীর পাড়ে ছোট্ট সে ভূত রাজ্যটি। বহু বছর ধরে এ রাজ্যে বাস করে ছোট বড় অনেক ভূত। গাছে গাছে ওদের বাসা। আম,  কাঁঠাল,  বট,  বকুল,  বেল,  তাল,  তমাল,  তেঁতুল,  জাম,  জারুল,  জামরুল,  কদম,  কড়ই,  হিজল,  শেওড়া,  শিমুল,  খেজুর,  বেত ঝোপ,  বাঁশ ঝাড় আরো কত শত গাছ। প্রতিটা গাছে থাকে এক একটা ভূত পরিবার। দিনের বেলা ওরা ঘুমায়। রাতের বেলা সবাই নিজ নিজ কাজে বের হয়। অবসরে ওরা গাছের ডালে বা নদীর পাড়ে বসে গান গায়, গল্প করে। তখন কেউ শিস বাজায় কেউ হাত তালি দেয়। গল্পে গল্পে ওদের রাত গভীর হয়। ভোরের আজান পড়তেই ওরা আবার ঘুমাতে যায়। ক্ষুধা পেলে ভূতেরা নদীতে ডুব দিয়ে মাছ ধরে আনে। সেটা চাঁদের আলোয় রান্না সেড়ে মজা করে খায়। এভাবে ভূত রাজ্যে দিন-কাল বেশ ভাল কাটছিল।
হঠাৎ একদিন ঘটল এক অঘটন। রাজ্যের রাজা বদল হলো। ঠিক কীভাবে কেন রাজা বদল হলো তা কেউ জানে না। ভূত সৈন্যরা ঢোল পিটিয়ে নতুন রাজভূতের অভিষেকের কথা ঘোষণা করল। শোনা গেল নতুন রাজভূতের নাম ভূতরাজ। তবে ভূত রাজ্যে রাজাকে রাজভূত বলেই সম্বোধন করা হয়। বিপদের বিষয় হলো নতুন রাজভূত খুবই হিংস্র ও বদমেজাজি। সিংহাসনে বসেই নতুন করে ভূত সৈন্যদল গঠন করল। সে সৈন্যদল রাজ্যের সাধারণ প্রজাদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে শুরু করল শাসন। সবাইকে রাজভূতের নির্দেশ মেনে চলতে বলা হলো। আর কেউ হুকুম অমান্য করলেই শাস্তির দেয়ার বিধান।
নদীর পাড়ে ছিল অনেকগুলো শিমুল গাছ। সে গাছগুলোর কাছে বিশাল মাঠ নিয়ে তৈরি হলো ট্রেনিং ক্যা¤প। সে ক্যা¤েপ সবাইকে ট্রেনিং নিতে আদেশ দেয়া হলো। ভূত সৈন্যরা এসে সাধারণ প্রজাদের জোর করে সেই ট্রেনিং ক্যা¤েপ নিয়ে যায়। সারারাত ওদের আক্রমণ কৌশল শেখানো হয়।
কেউ কেউ রাজভূতের এ ট্রেনিং ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছে। কিন্তু রাজভূত এসব শুনতে মোটেও রাজি নয়। বরং যারা বিদ্রোহ ও রাজ বিরোধিতা করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে। কারো কারো নামে জারি করা হয়েছে গ্রেফতারি আদেশ। এক সময় সৈন্যরা অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে নিয়ে আসে। কিন্তু থেকে থাকে না বিদ্রোহ, চরম আকার ধারণ করে প্রজাদের ট্রেনিং বিরোধী আন্দোলন। দিনে দিনে গ্রেফতার বাড়তে থাকে, বাড়তে থাকে রাজদ্রোহীদের সংখ্যা। একসময় রাজকয়েদি প্রজাদের দ্বারা ভরে যায় কারাগার। তখন রাজভূত পড়ল ভীষণ ভাবনায়। কী করে ট্রেনিং ক্যা¤প সচল রাখবে? কীভাবে ভাবে প্রজাদের দমন করবে? এ রকম নানা ভাবনা নানা বিষয়। রাজভূতকে পরামর্শ দিলো তার তিন বন্ধু। সে পরামর্শ ছিল এক জঘন্য কূট কৌশল।
রাজভূতের নির্দেশে কূট কৌশল অনুযায়ী কাজ করা শুরু করল সৈন্যরা। একদিকে মুক্তি দেয়া হলো সকল বন্দিকে, অন্যদিকে প্রজাদের বাসা থেকে বাচ্চা ভূতদের তুলে আনা হলো। সে বাচ্চা ভূতদের বন্দি করে রাখা হলো কাঠের বাক্সে। আর প্রজাদের হুমকি দেয়া হলো রাজভূতের নির্দেশ অমান্য করলে বাচ্চা ভূতদের ফেরত দেয়া হবে না। অবশেষে বাধ্য হয়ে প্রজারা রাজভূতের নির্দেশ মেনে নিলো। ট্রেনিং ক্যা¤েপ ট্রেনিং শুরু হলো। সৈন্যরা প্রজাভূতদের ট্রেনিং দেয় কীভাবে মানুষের ক্ষতি সাধন করবে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাজভূতের আদেশ মানতে হয়। নদীর পাড় থেকে শুরু করে রাজপথ, ব্রীজ ঘাট সবখানেই ভূতেরা রাতভর পাহারারত থাকে। কোনো মানুষ একা চলাফেরা করছে দেখলেই ওরা আক্রমণ করে। বাজার থেকে ফেরা পথিকদের মাছ-তরকারির থলি ছিনিয়ে নেয়া। সন্ধ্যার সময় মানব শিশুদের ভয় দেখানো। মধ্যরাতে মানুষের বাড়িতে ঢিল ছোঁড়া,  হঠাৎ কারো গাছে ঝাঁকি দেয়া,  অদ্ভুত শব্দ করাÑ এসব অপরাধমূলক কাজ প্রতিদিন বাধ্য হয়ে করতে হয়। ভূতরাজ্যে ইচ্ছা-অনিচ্ছার দিন ফুরিয়ে এসেছে। জানাশোনা অপরাধ ও বিরূপ আচরণ করে ভূতদের দিন কাটছে। অন্যদিকে সন্তানদের দূরে রেখে মা-বাবা ভূতদের দুঃখ দুর্দশা বেড়েই চলছে।

২.
ভূতের ছানাগুলোকে কারাগারে একটা বাক্সের ভেতর বন্দি করে রাখা হয়েছে। বন্দিদশা কি কারো ভাল লাগে? কক্ষনো না। ওদেরও ভাল লাগে না। খুব মন খারাপ হয়। সারাক্ষণ মুখ ভার করে বসে থাকে। অসহ্য হয়ে কখনো ওরা কাঁদে, কখনো গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে। তখন বাক্সটা পট পট করে কাঁপতে থাকে। প্রায় ফেটে যাবার মতো অবস্থা। তবু ওদের মুক্তি দেয়া হয় না। এটা রাজভূতের নির্দেশ,  বাচ্চা ভূতদের বন্দি করে রাখতে হবে। বাক্সের ভেতরেই ওদের খাবার দেয়া হয়। খাবার বলতে ছোট ছোট চিংড়ি বা কাঁকড়া। খাবার খেয়ে ওরা ভূঁ ভূঁ স্বরে একটানা ডাকতে থাকে। ঘুম পেলে একজনের উপর আরেকজন ঘুমায়। ঘুম থেকে ওঠে আবার ডাকে।…ভূঁ…ভূঁ…। ওদের ডাক শুনে ভূত সেনারা খুব বিরক্ত হয়। ধমক দিয়ে বলে, তোরা থামবি নাকি প্রহার করবো? ধমক শুনে বাচ্চা ভূতগুলো হাউ.. মাউ.. ভূঁ…ভূঁ স্বরে কেঁদে ওঠে। ভূত সেনারা আরো বেশি বিরক্ত হয়। কিন্তু ছানাদের কান্না তো থামে না। একটানা কান্না শুনে কখনো কখনো সেনাদের মনটাও ভারি হয়ে আসে। ইচ্ছে করে বাক্স খুলে বাচ্চা ভূতগুলোকে ছেড়ে দিতে। কিন্তু সে উপায় নেই। রাজভূতের নির্দেশ তো মানতেই হবে। অমান্য করলেই নির্মম শাস্তি।
মাঝে মধ্যে মন ভাল হলে ভূত ছানারা সারি বেঁধে নাচে। সবাই একসাথে বাক্সের দেয়ালে টোকা দিয়ে গান গায়। এভাবেই ওদের দিন কাটে রাত পোহায়। মাঝে মধ্যে রাজভূত কারাগারে ভূত ছানাদের দেখতে আসে। এসেই বলে, বাহ চমৎকার হয়েছে। পিচ্চিরা তোমরা চুপচাপ খাবে আর ঘুমাবে। তোমাদের বাবা-মা থাকবে টেনশনে আর আমি থাকব টেনশন মুক্ত। হা হা হা।
বাচ্চা ভূতের বাবা-মা বাসায় বসে কেবল কাঁদে। রাজভূতের বিরুদ্ধে কথা বলার একটুও সাহস পায় না। কারণ রাজভূতের বিরুদ্ধে কথা বলা মানেই বন্দি হয়ে কারাগারে যাওয়া। সেখানে কত রকম শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নদীর পাড়ে বটগাছে থাকে এক নিরীহ ভূত পরিবার। ওদের নাম ষিংকু ভূত ও ঋতপা। কিছুদিন আগে ওদের দুই ছেলেকে রাজভূতের সৈন্যরা ধরে নিয়ে গেছে। সন্তানদের হারিয়ে ষিংকু ভূত খুব কষ্টে আছে। সৈন্যরা বলে গেছে, এখন থেকে বাচ্চা ভূতদের দেখাশুনা করবে রাজভূতের সৈন্যরা। মা বাবাদের এই নিয়ে ভাবতে হবে না। সবাই কেবল রাজভূতের নির্দেশ মেনে চলবে।
ঋতপা প্রায়ই কেঁদে বলে,  আমার ছেলে দুটোকে ওরা মেরে ফেলবে। কে জানে ওদের খাবার দেয়া হয় কিনা।
ষিংকুও কেঁদে বলে,  জানি না কেমন আছে ছেলেরা। কি যে সর্বনাশ শুরু হয়েছে এ রাজ্যে! নতুন রাজভূত এসেই যত গ-গোল বাঁধিয়ে দিলো। এখন কে ওদের রক্ষা করবে? আগের রাজভূত থাকলে তো এমন হতো না।
কাঁদতে কাঁদতে বেহুঁশ হয়ে পড়ে ষিংকু ও ঋতপা।
দূরের শেওড়া গাছে থাকে র¤পুভূত ও শ্যাঁঞ্চু। ওরাও একমাত্র মেয়ের জন্য দিন-রাত কেঁদে বেড়ায় আর রাজভূতকে অভিশাপ দেয়। বলে, নতুন ঐ রাজভূতকে দুষ্টে পেয়েছে, তাই এমন নিঠুর আচরণ করছে। একদিন তার মসনদ ভেঙে পড়বে। র¤পু ভূত কিছুটা ক্ষ্যাপাটে আর বদমেজাজি। মেয়েকে বন্দি করে রেখেছে বলে সে রাজভূতের উপর খুব রেগে আছে।
বাচ্চা ভূতদের বন্দি করার পর রাজভূত সবাইকে নতুন নতুন নির্দেশ দিলো। এক সভা ডেকে রাজভূত বলল, আগের রাজভূত মহামান্য সরল সুধা শাসনকার্য পরিচালনা থেকে অবসর নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগর ভ্রমণে বেরিয়েছেন। সিংহাসনের শাসনভার দিয়ে গিয়েছেন আমার হাতে। তাই এখন থেকে এ রাজ্যে বাস করতে হলে আমার নির্দেশ মেনে চলতে হবে। নির্দেশ অমান্য করলেই শাস্তি। সবাইকে রাতের বেলা পথে-ঘাটে দাঁড়িয়ে থেকে মানুষদের ভয় দেখাতে হবে। কারণ মানুষ হলো ভূতদের চির শত্রু। আমাদের রাজ্যের আয়তন বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে মানুষজনের ঘর বাড়ি আমরা দখল করব।
এ জন্য সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। সৈন্যদের কাছ থেকে ট্রেনিং নিয়ে মানুষদের উপর আক্রমণ করতে হবে। কেউ আক্রমণ করতে অস্বীকার করলে তাদের বাচ্চাগুলো আর ফিরিয়ে দেয়া হবে না।
রাজভূতের এ কথা শুনে পুরো রাজ্য ভয়ে কেঁপে ওঠল। সন্তানদের বাঁচাতে সবাই রাজভূতের নির্দেশ পালনে রাজি হলো। বুড়ো ভূতগুলো কেঁদে বলল,  একি আজব দিনকাল এল। রাজভূত বদল হয়ে গেল বলে, এভাবে সবকিছু কি পাল্টে যায়? এসব থেকে কি রক্ষা পাবার উপায় নেই?

৩.
রাজভূতের বন্ধু তিনজন। ঋকু, ণিকু ও রাগবিনয়। ওদের পরামর্শেই রাজভূত ট্রেনিং ক্যা¤প খুলেছে। বাচ্চা ভূতদের বাক্স বন্দি করেছে। প্রজাদের উপর চালাচ্ছে কঠোর শাসন। মানুষদের প্রতি ভূতদের মিথ্যে বিদ্বেষ বাড়িয়ে মসনদ টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে।
রাগবিনয় বরাবরই কূট কৌশল চালাতে পটু। পা-িত্যে ও বুদ্ধিতে এগিয়ে। সবসময় সে খুব ভেবে সিদ্ধান্ত নেয়। ঋকু ও ণিকু অলস প্রকৃতির। তবে ওরা অতিচালাকির স্বাক্ষর সবসময়ই রেখে চলে।
রাজভূত বলল,  বন্ধুরা তোমাদের সাহায্য ও বুদ্ধির জোরেই আমি সিংহাসনে আরোহণ করতে পেরেছি। তোমাদের ঋণ আমি কক্ষণো শোধ করতে পারবো না। বলো, কী উপহার দিলে তোমরা খুশি হবে?
রাগবিনয় বলল,  আমি তেমন কিছু চাই না। শুধু তুমি ক্ষমতায় টিকে থাকো,  এটাই আমি চাই।
রাজভূত বলল, তা ঠিক আছে। কিন্তু তোমাদের রাজ কর্মকর্তা করতে পারলে আমি খুশি হতাম। বলো,  কী চাকরি তোমাদের পছন্দ?
ঋকু বলল,  আমি চাকরি চাই না। প্রতি মাসে ভাতা পেলেই আমার চলবে। ঘুরে ফিরে,  ঘুমিয়ে দিন কাটিয়ে দেবো,  রাতে নদীর পাড়ে হাঁটবো।
ণিকু বললো,  আমারও একই কথা। চাকরি করা তো খাটুনি। ওসব আমি পারবো না। আমরা দু’জনেই অলস জীবন যাপন করতে চাই।
কথা শুনে রাজভূত বিরক্ত হলো। কিন্তু সে বিরক্তি প্রকাশ করল না। বলল,  ঠিক আছে। তোমরা প্রতি মাসে রাজ কোষাগার থেকে ভাতা পাবে।
এবার রাজভূত রাগবিনয়ের দিকে তাকাল। বলল,  তুমি তো কিছুই বললে না।
রাগবিনয় হেসে বলল, সময় তো চলে যায়নি। এক সময় নিশ্চয়ই বলবো।
রাজভূত বলল, আচ্ছা ঠিক আছে। তবে আজ তোমাদের একটা প্রতিজ্ঞা করতে হবে।
ণিকু জিজ্ঞেস করল,  কীসের প্রতিজ্ঞা?
রাজভূত বলল, অনেক কাঠখর পুড়িয়ে এতদূর এসেছি। সেটা তো তোমরা জানো। কারণ তোমরাও আমার সাথে কাজ করেছ। এখন তোমাদের কাজ ও দায়িত্ব আরো বেড়ে গেছে। আমার আসল পরিচয় কারো কাছে প্রকাশ করা যাবে না। প্রজারা জানতে পারলেই সর্বনাশ হয়ে যাবে। বিদ্রোহ শুরু হতে পারে। সেজন্য তোমাদের আমি উপযুক্ত পুরস্কার দিতে চাই। আর তোমরা প্রতিজ্ঞা করবে আমার পরিচয় কক্ষণো কাউকে বলবে না। আর হ্যাঁ, আমাকে তোমরা নতুন নাম ভূতরাজ বলেই ডাকবে। আসল নামটা গোপন থাকবে।
ঋকু ও ণিকু দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।
ঋকু বলল, ঠিক আছে। আমরা রাজভাতা পেলে এ কথাটা কাউকে বলব না।
রাগবিনয় বলল, আমিও কাউকে বলব না। তবে আমার জন্য কোনো ভাতার প্রয়োজন নেই।
রাজভূত বলল, অনেক ধন্যবাদ তোমাদের। এখন আমাকে রাজ্য পরিচালনার জন্য পরামর্শ দাও।
ঋকু ও ণিকু কিছুই বলল না। চুপচাপ বসে রইল। রাজভূত রাগবিনয়ের দিকে তাকাল। রাগবিনয় বলল, পরিস্থিতি লক্ষ্য করে আমাদের সামনে অগ্রসর হতে হবে। আমি পরামর্শ দেবার জন্য সবসময় তোমার পাশে আছি। বিদ্রোহ বা আন্দোলন দমনের সব রকম কৌশল আমার জানা আছে।
রাজভূত ভরসা পেয়ে হেসে বলল, তাই তো চাই বন্ধু।
রাগবিনয় বলল, এখন যা করতে হবে, তা মনোযোগ দিয়ে শোনো। সেনাপ্রধানকে তোমার অনুসারী করা চাই। একটা গোয়েন্দা বিভাগ তৈরি করতে হবে। ওরা তোমাকে সবরকম গোপন তথ্য দিয়ে সাহায্য করবে।
রাজভূত বলল, ঠিক আছে। তাই করা হবে।

চলবে…