বিত্তবানদের সহায়তায় অবলম্বন রুম্পার জীবন বাঁচাতে

আপডেট: মার্চ ৭, ২০১৯, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

মেহেদী হাসান মাসুম


দরিদ্র বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল মেয়ে সুমাইয়া আক্তার রুম্পা পড়াশোনা শেষে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষত হয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এখন নিজেই অসহায় হয়ে মানুষের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে তাকে। তিন মাস আগে হঠাৎ করেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ে। হাসপাতালে নেয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা গেছে, রুম্পার দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। দু’দিন আগেও তিনি ছিলেন সদা হাস্যোজ্জ্বল। বেঁচে থাকার জন্য লড়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। বর্তমানে অর্থাভাবে নিভতে বসেছে তার জীবন প্রদীপ।
জানা যায়, সুমাইয়া নগরীর মতিহার থানার বুধপাড়া এলাকায় বাসিন্দা। তিনি রাজশাহীর ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। গত ২৯ জানুয়ারি হঠাৎই সুমাইয়া অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর রাজশাহী মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে জানতে পারেন তার দু’টো কিডনিই অকেজো হয়ে গেছে।
তার মামা মিজানুর রহমান সিনহা জানান, সুমাইয়ার বাবা সেলিম রেজা একজন চা বিক্রেতা। রুম্পা তিন বোনের মধ্যে মেজ। তার বাবার বলতে বাড়ির ভিটে আর চায়ের দোকান। দেড় কাঠা জমির উপরে টিন দিয়ে ৪টি ঘর রয়েছে। তার মাঝে রুম্পার দুই কাকা মিলে তিনটি পরিবার বসবাস করে। একের পর এক বিপদের ফলে তার রুম্পার বাবা নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। কিছু দিন আগে রুম্পার বড় বোন দিবার পেটে টিউমার অপারেশন করা হয়। এর দুইমাস পড়েই রুম্পার কিডনি নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া রুম্পার মা দীর্ঘদিন যাবত কিডনি সমস্যায় ভুগছে। তার মার জন্য প্রতিমাসে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার ওষুধ খরচ লাগে। এ অবস্থায় নতুন করে এ বিপদের ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সেলিম রেজা।
রুম্পার বাবা সেলিম রেজা জানান, রুম্পা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডাক্তার বলেছে রুম্পাকে বাঁচানোর জন্য দুইটা উপায় আছে। তার মধ্যে একটি হলো প্রতিমাসে ডায়ালাইসিস করা। অন্যটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা। কিডনি প্রতিস্থাপন করতে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা প্রয়োজন। তবে নিজের কেউ ডোনেট করতে চাইলে এ খরচ ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা হবে বলে জানিয়েছেন ডাক্তার। অন্যদিকে ডায়ালাইসিস করতে প্রতি ২ দিনে খরচ হচ্ছে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা।
তিনি আরো বলেন, মেয়ের কষ্ট নিজের চোখে আর দেখতে পারছি না। নিজের চোখের সামনে আস্তে আস্তে মৃত্যুর দিকে চলে যাচ্ছে। আমার নিজের কিডনি ডোনেট করতে চাইলে রক্ত ম্যাচ না হওয়ার ফলে শেষ আশাটাও ব্যর্থ হয়। রুম্পার মা নিজেও কিডনি সমস্যায় ভুগছেন। যার ফলে নিজেদের ভিতরে কিডনি ডোনেট করা সম্ভব হয় নি। আর ডায়ালাইসিস করতে প্রতি সপ্তাহে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। যা কোনোভাবেই আমার পক্ষে ব্যয় করা সম্ভব হচ্ছে না। ইতোমধ্যে রুম্পার জন্য প্রায় লাখ দুয়েক টাকা ব্যয় হয়ে গেছে।
তার মামা ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান সিনহা বলেন, সকলের কাছে রুম্পার জন্য সাহায্য চেয়েও জীবন বাঁচাতে যা প্রয়োজন সে পরিমাণ সাহায্য পায়নি আমরা। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পক্ষে থেকেও কোনো রকম সাহায্য করা হয় নি। তবে ছাত্রলীগের কিছু ছোট ভাই রুম্পার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে কিছু টাকা তুলে দেয়। প্রধানমন্ত্রী বরাবর আমার ফেসবুক ওয়ালে খোলা চিঠি লিখেও কোনো সাড়া পায়নি। তবে কিছু যায়গা থেকে সাহায্য পেয়েছি তবে সেটা দিয়ে রুম্পার চিকিৎসা চালানো সম্ভব না। তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বড় অংকের টাকা। কিন্তু কেউ সে পরিমাণ সাহায্য করছে না। কিছু কিছু যায়গা থেকে শুধু সহানুভুতি পেয়েছি যা শুধু রাজনীতির স্বার্থের জন্য কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় নি। সমাজে এমন কোনো বড় হৃদয়ের মানুষ পেলাম না যে আমার ভাগ্নির চিকিৎসা খরচের দায়িত্ব নিবে। আমি আমার ভাগ্নির জীবন বাঁচাতে সকলের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছি।
তাকে সাহায্যের জন্য এই ০১৭০৫২৯৭৯৫৯ (সেলিম রেজা) নম্বরে বিকাশ করে অথবা অগ্রণী ব্যাংক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার হিসাব নম্বরে (২০০০২২৫৯৪৭৯) টাকা পাঠানো যাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ