বিদ্যুতের লুকোচুরি খেলা এই ভোগান্তির শেষ কবে?

আপডেট: April 28, 2020, 12:20 am

করোনিাভাইরাস থেকে পৃথিবীর মানুষ মুক্তি পাবেই একদিনÑ কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের বিদ্যুত নিয়ে ভোগান্তির শেষ হয়ত কোনোদিন হবে না। গ্রাহকের বিরুক্তি ও যন্ত্রণার কাহিনীটা প্রতিদিনের। মরণঘাতি করোনানাভাইরাসের কারণে দেশে চলমান সাধারণ ছুটি চলছে। এরফলে কল-কারখানা, শপিং মল ও সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ। স্বাভাবিকভাবে বিদ্যুতের চাহিদাও কম। এরপরও বিদ্যুতের ভেলকিবাজির কোনো কমতি নেই। আসা-যাওয়া অভ্যেসটা সে একদমই ছাড়ে না। কখনো কখনো দিনে ৭/৮ বার পর্যন্ত। বিদ্যুৎ-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে বিদ্যুতের কোনো কমতি নেই, কোনো লোডশেডিং নেই। এটা মেনটেইনেন্স সংক্রান্ত সমস্যা। খোদ বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ-বিরক্তি প্রকাশও করেছেন। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশের পরও সমস্যার সমাধান হয় নি। সংবাদ মাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে।
রাজশাহীতেও একই অবস্থা। বিদ্যুৎ চলে গেলে নগরীর মানুষ ভীষণ অতিষ্ঠ, অস্বস্তিকর মুহূর্ত পার করেন। নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো) কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রমজান মাসে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকবে। কিন্তু নেসকো কথা রাখে নি। রমজানের প্রথম দিনেই বার দুয়েক বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করেছে। দ্বিতীয় দিন ৫-৬ বার একরকম আচরণ করেছে। মৃদু-মন্দ বাতাসের সাথে কিংবা মাঝারি ঝড়ের আভাস মিললেই বিদ্যুৎ নিজ স্বভাবে লুকিয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ যাওয়ার জন্য কোনো ঝড়-বৃষ্টিরও প্রয়োজন হয় না, যেমনÑ রমজানের তৃতীয় দিন সুন্দর আবহাওয়াতেও দুইবার বিদ্যুৎ গেছে। প্রকৃতঅর্থে কী কারণে বিদ্যুতের এমন যাওয়া-আসা তা গ্রাহকদের কাছে দুর্বোধ্যই বটে। নেসকো বলছে আবহাওয়া খারাপ হলে ট্যান্সফর্মারগুলোর ফিউজ কেটে গেলে, বাসা-বাড়িতে সমস্যা সমধানের লক্ষ্যে লাইন বন্ধ করে কাজ করতে হয়Ñ তখন বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হয়।
নেসকোর এমন বক্তব্য অকারণ কিছু নয়Ñ এটা তো হতেই পারে। কিন্তু সমস্যাটা যখন নিত্যদিনের তখন কর্তৃপক্ষের একই ধরনের কথা শুনতে গ্রাহকদের বিরক্তির উদ্রেক হওয়াই স্বাভাবিক। তখন প্রকৃত সমস্যার কথাও বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়। নেসকোর ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। যেন রেকর্ড করা বক্তব্য গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে শুনিয়ে যাচ্ছে। এটার অবসান হওয়া দরকার। একই কথা বারবার শুনতে কারোরই ভাল লাগবে না। তারচে’ বরং সমাধানটাই পেতে চায় গ্রাহকরা। ‘ রমজান মাসে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকবে’Ñ এই প্রতিশ্রতির সাথে ধর্মীয় আবেগের বিষয়টি আছে। মানুষ এ ধরনের কথায় আশ্বস্ত হতে চায়। কিন্তু যখন এর বারবার ব্যতিক্রম হয় তখন আস্থাহীনতা তৈরি হয়। গ্রাহকদের মধ্যেকার সেই আস্থাহীনতা বিদ্যুৎ-সংশ্লিষ্টদেরই কাটিয়ে উঠতে হবে। প্রতিশ্রুতি যাতে অসাড় না হয় সেই নিশ্চয়তাই চায় গ্রাহকরা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ