বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় প্রস্তাব চীনের

আপডেট: মার্চ ১২, ২০১৮, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


গত বছর যৌথ ও শতভাগ বিদেশী ১৬১টি বিনিয়োগ প্রস্তাবের নিবন্ধন দিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ)। এসব বিনিয়োগ প্রস্তাবের মোট আর্থিক মূল্য ৮৩ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ প্রস্তাব বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেডের। আর খাত হিসেবে এ সময়ে বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে বিদ্যুৎ খাত।
স্থানীয় ও বিদেশী বিনিয়োগের অন্যতম পোষক কর্তৃপক্ষ বিআইডিএ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন সংস্থাটিতে ২০১৭ সালে নিবন্ধিত বিনিয়োগ প্রস্তাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিনিয়োগের পরিমাণ বিচারে শীর্ষ ১০ প্রস্তাবের পাঁচটিই বিদ্যুৎ খাতের। এর মধ্যে দুটি প্রস্তাব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের। একটি প্রস্তাবে জ্বালানি খাতের গ্যাস সিলিন্ডার ও ট্যাংকার্স প্রস্তুতের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগের প্রস্তাবটি দিয়েছে বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেড। দুই দেশের যৌথ অংশীদারিত্বের এ প্রকল্পে প্রস্তাবিত বিনিয়োগ ২১ হাজার ৫১০ কোটি ৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে এ বিদ্যুৎ প্রকল্পটিতে আছে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (এনডব্লিউপিজিসিএল)।
অর্থের হিসাবে দ্বিতীয় বৃহৎ বিনিয়োগ প্রস্তাবটি যানবাহন নির্মাণসংক্রান্ত। আরব বাংলাদেশ কনটেইনার ট্রান্সপোর্ট কো. লিমিটেড (ইউনিট-২) শীর্ষক এ প্রকল্পে প্রস্তাবিত বিনিয়োগ ১৮ হাজার ২৪৯ কোটি ৫৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা।
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের যৌথ অংশীদারিত্বের প্রকল্পটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সবুর বণিক বার্তাকে বলেন, এ প্রকল্পটির উদ্যোগ অনেক আগের। অনেক জটিলতা কাটিয়ে গত বছর নিবন্ধন নেয়া হয়েছে। চলতি বছর জানুয়ারি মাসেই প্রকল্পের শেডের কাজ শুরু করার কথা। প্রকল্পের জমি নিয়ে জটিলতা আছে, এটা কেটে গেলেই পুরোদমে কাজ শুরু হবে। আশা করছি, খুব শিগগিরই কাজ শুরু করতে পারব। একই স্থানে আমাদের একাধিক প্রকল্প রয়েছে।
বিআইডিএর তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের দশম বৃহৎ বিনিয়োগ প্রকল্পটিও আরব বাংলাদেশ কনটেইনার ট্রান্সপোর্ট কো. লিমিটেডের। এ প্রতিষ্ঠানের ইউনিট-৩-এ গ্যাস সিলিন্ডার এবং ট্যাংকার্স তৈরিতে প্রস্তাবিত বিনিয়োগ পরিমাণ ১ হাজার ৩৪১ কোটি ১২ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
২০১৭ সালের তৃতীয় ও চতুর্থ বড় বিনিয়োগ প্রকল্পের নাম এসএস পাওয়ার-১ এবং এসএস পাওয়ার-২ লিমিটেড। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের এস আলম গ্রুপ এ দুটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রের প্রস্তাব দিয়েছে। এসএস পাওয়ার-১-এ বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে ১০ হাজার ৫১ কোটি ৮০ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। একই পরিমাণ বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে এসএস পাওয়ার-২ লিমিটেড শীর্ষক প্রকল্পে।
গত বছর পঞ্চম বৃহৎ বিনিয়োগ প্রস্তাবটি চীন-সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাংলাদেশের যৌথ প্রকল্প। ওরিয়ন পাওয়ার ইউনিট-২ ঢাকা লিমিটেড শীর্ষক প্রকল্পটিতে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ৬ হাজার ৭৪২ কোটি ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ প্রকল্পে নির্মাণ করা হবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও নিয়ন্ত্রণ উপকরণ।

বাংলাদেশ-থাইল্যান্ডের যৌথ অংশীদারিত্বে গত বছরের ষষ্ঠ বড় নিবন্ধিত প্রকল্পের নাম সিয়াম-বাংলা ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লি.। বিনোদন সেবা প্রদানকারী কার্যক্রমের এ প্রকল্পে বিনিয়োগ প্রস্তাব করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৪৬ কোটি ৮৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
গত বছর নিবন্ধিত সপ্তম বড় বিনিয়োগ প্রকল্পের নাম সেম্বকর্প নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার কোম্পানি লি.। বিদ্যুৎ সরবরাহ ও নিয়ন্ত্রণ উপকরণ নির্মাণের এ প্রকল্পে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ সিঙ্গাপুরের। এ প্রকল্পে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।
২০১৭ সালে নিবন্ধিত অষ্টম বড় বিনিয়োগ প্রকল্পের নাম সামিট টেকনোপলিশ লিমিটেড। বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ বিনিয়োগে হাইটেক পার্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে এ নিবন্ধন নেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ১ হাজার ৬৩৬ কোটি ৮৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
সামিট টেকনোপলিশ লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান ফরিদ খান বণিক বার্তাকে বলেন, প্রকল্পটিতে এরই মধ্যে অত্যাধুনিক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। সার্বিকভাবে এখন পর্যন্ত প্রকল্পের ৩৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বেশকিছু প্রণোদনার আশ্বাস রয়েছে, সেগুলো কার্যকর হলে প্রকল্পের কাজ আরো দ্রুত এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে।
গত বছর নিবন্ধিত নবম বড় বিনিয়োগ প্রকল্পটি যুক্তরাষ্ট্রের শতভাগ বিদেশী বিনিয়োগ। অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস খাতে বিনিয়োগের এ প্রকল্পের প্রস্তাবক এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেড। এ প্রকল্পে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ১ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা।
বিআইডিএ সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে বিপুল পরিমাণ বিদেশী বিনিয়োগের প্রয়োজন। সংস্থার পক্ষ থেকে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গত বছরও বেশকিছু যৌথ ও শতভাগ বিদেশী বিনিয়োগ প্রকল্পের নিবন্ধন হয়েছে। নিবন্ধনের পরিমাণ যা-ই হোক না কেন, প্রস্তাবের মাত্র ৪০ শতাংশ শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়। বিনিয়োগ প্রস্তাবনা বাস্তবায়নে ক্ষেত্রবিশেষে পাঁচ বছরও লেগে যায়। বিআইডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ২০২১ ও ২০৪১ সালের মধ্যে মধ্যম ও উন্নত দেশ হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে বাংলাদেশ। এর জন্য প্রতি বছর শুধু বিদেশী বিনিয়োগই প্রয়োজন ১০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে অর্থনীতির বিকাশের পথে প্রধান অন্তরায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি। এ বিষয়টি বিদেশীরাও অনুধাবন করেন। আর দেশে আবাসিক ও শিল্প সব ক্ষেত্রেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে এ দুই খাতেই বিনিয়োগের আগ্রহও বেশি। বিদেশী বিনিয়োগ বাস্তবায়ন করার বিষয়ে আমরা সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। তথ্যসূত্র বণিক বার্তা